Home প্রবন্ধ-নিবন্ধ ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ‘শান্তি চুক্তি’: গাজার স্বার্থকে চাপিয়ে দেওয়ার নতুন কৌশল?

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ‘শান্তি চুক্তি’: গাজার স্বার্থকে চাপিয়ে দেওয়ার নতুন কৌশল?

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ২০ ধারা বিশিষ্ট প্রস্তাবনায় যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বিশ্লেষকরা বলছেন—এটি মানুষের জন্য শান্তি নয়, ফিলিস্তিনিদের আর্থ-রাজনৈতিক স্বাধীনতা শেষ করার রাজনীতি।

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজে সম্প্রতি পেশ করা ২০ ধারা বিশিষ্ট চুক্তি—যাকে ‘শান্তি চুক্তি’ বলা হয়েছে—ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন ও বিশ্লেষকরা গভীরভাবে খতিয়ে দেখলে তাতে রয়েছে বহু সুচিন্তিত শর্ত ও ফাঁকফোকর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যে স্বাক্ষর করেছেন, তা বৃথা নয়; তবে বহির্জাত মানবিক উপস্থাপনার আড়ালে প্রস্তাবনাটি যে ফিলিস্তিনিদের জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করতে চায়—সেটাই বেশি উদ্বেগজনক। নিচে মূল তত্ত্বগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

বড় ধরনের সমস্যাগুলো—সংক্ষেপে

  • একপ্রকার জোরজবরদস্তি ও হুমকি — চূড়ান্ত ধারায় সরাসরি হুমকি। যে চুক্তি না হলে আমেরিকা ইসরাইলকে সর্বাত্মক সমর্থন করবে। এতে বিকল্প নেই করে ফেলার মনোভাব পরিস্কার।
  • অস্ত্রসমর্পণ বনাম অস্ত্রাধিকার — হামাসকে পূর্ণাঙ্গ অস্ত্রসমর্পণের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে; অন্যদিকে ইসরাইলের জন্য পূর্ণ অস্ত্র-সজ্জা বজায় রাখার সুযোগ রেখে সমতা নষ্ট করা হয়েছে।
  • বন্দী বিনিময়ে অসমতা — বন্দী মুক্তির ব্যবস্থায় অসমমান বজায় রাখা হয়েছে; ইসরাইল কীভাবে ও কারা ছাড়বে তা একপক্ষীয়ভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, এতে হামাসের রাজবন্দীদের ক্ষেত্রে অসম্য ক্ষমতা থাকবে।
  • ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহার শর্তসাপেক্ষ — প্রত্যাহারকে শর্তাধীন রেখে ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপ রেখে নিয়ন্ত্রণের কৌশল নেওয়া হয়েছে।
  • অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনায় আমেরিকান নেতৃত্ব — গাজার প্রশাসনে আন্তর্জাতিক, বিশেষত মার্কিন নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাখা এবং সেখানে টনি ব্লেয়ার ধরনের নেতৃত্ব প্রদান যার সময়সীমা নির্দিষ্ট নয়। এতে গাজাকে বিচ্ছিন্ন করে জাতীয় স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করার আশঙ্কা প্রকট।
  • পুনর্গঠন শর্তাধীন পুরস্কার — পুনর্গঠনের তহবিল ও প্রকল্পগুলো শর্তসাপেক্ষ করা হয়েছে; শর্ত মানলে তহবিল—না মানলে বন্ধ।
  • যুদ্ধবিরতি কিন্তু শর্তসাপেক্ষ — প্রস্তাবনায় গাজায় তাত্ক্ষণিক যুদ্ধবিরতির কথা থাকলেও এটি চূড়ান্ত নয়; শর্ত মেনে চলার উপর ভিত্তি করে ব্যবহৃত হবে ফিলিস্তিনি পক্ষকে পরীক্ষায় ফেলা হচ্ছে।

আরও পড়তে পারেন-

চুক্তিটি বাহ্যিকভাবে মানবিক ও সমাধানমূলক মনে হতে পারে — যুদ্ধবিরতি, পুনর্গঠন, কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি—এসব শোনার জন্য দৃষ্টিনন্দন। কিন্তু খুঁটিনাটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি তত্ত্বগতভাবে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ ও জাতীয় স্বার্থকে সীমাবদ্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা। পূর্বের বেলফোর ডিক্লারেশন, টু-স্টেট সলিউশন এবং অসলো চুক্তির মতো সূক্ষ্ম রাজনৈতিক চালকে এই প্রস্তাবনাও অনুকরণ করছে—বহিরাগত শর্ত আরোপ করে দখলদারিত্বকে নতুন মাত্রায় সুনিশ্চিত করার চেষ্টা।

বিশেষ করে যদি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ মার্কিনসহ মিত্রদের হাতে দিয়ে সময়সীমা ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার গড়ে তোলা হয়, তাহলে গাজার স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়, পশ্চিম তীরের সঙ্গে সামগ্রিক জাতীয় স্বার্থ ও ফিলিস্তিনি আদালতি/রাজনৈতিক পন্থা দীর্ঘমেয়াদি বিকল্পে পরিণত হবে—এমন আশঙ্কা বাস্তবসম্মত।

ফিলিস্তিনিদের কল্যাণ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কণ্ঠে যতটা মানবিক শব্দ ব্যবহার করা হোক, এই প্রস্তাবনার প্রকৃতি যদি অনুধাবিত থেকে যায় তাহলে তা মানবিক বন্ধন নয় রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের আয়োজন। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এসব শর্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যাচাই করে দেখা উচিত এবং ফিলিস্তিনি নেতাদের যেন জাতীয় স্বার্থ হারাতে না হয় সেদিকে প্রতি ধাপে সতর্ক থাকতে হবে।

উম্মাহ২৪ডটকম: আইএএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।