।। মুনির আহমদ ।।
সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করছি—আমাদের এই ডিজিটাল জগৎ যেন আজ এক গভীর নীরবতা ও অপচর্চার মধ্যে ডুবে আছে। খেয়াল করবেন, সমাজের নানা ক্ষেত্রে বহু জ্ঞানী, গুণী ও প্রজ্ঞাবান মানুষ হয় ফেসবুক ছাড়ছেন, নয়তো চুপচাপ দর্শক হয়ে আছেন। কেন এই নীরবতা? কারণ কিছু অজ্ঞ ও সুযোগসন্ধানী মানুষের অপব্যবহার—যা কখনো সম্মানহানি, কখনো বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। এই বিরক্তি ও আশঙ্কাই গুণীজনদের নিরুৎসাহিত করছে।
শ্রেষ্ঠত্বের বিকৃত আকাঙ্ক্ষা
শ্রেষ্ঠ হওয়ার ইচ্ছা মানুষের স্বভাবজাত; এটা নেতিবাচক কিছু নয়। আমরা প্রত্যেকে চাই সেরা বাবা, সেরা লেখক, সেরা শিক্ষক বা সেরা কর্মী হতে। কিন্তু যাদের সেই যোগ্যতা নেই, তারাও স্থির থাকতে পারে না। তারা মনোযোগ কুড়াতে বেছে নেয় বিতর্ক, বিশৃঙ্খলা আর কৃত্রিম আলোড়ন। ফলেই দেখা যায়, অযোগ্য বা অশিক্ষিত কিছু লোক সমাজের সম্মানিত মানুষের পোস্টে উল্টোপাল্টা মন্তব্য করে, নাজেহাল করার চেষ্টা করে। এতে তারা বিকৃত আনন্দ পায়। দুঃখজনক হলেও সত্য—এই প্রবণতার কারণে আমরা বহু মূল্যবান চিন্তা হারাচ্ছি।
পলায়ন কি সমাধান?
কিছু মানুষের উৎপাতে গুণীজনেরা যদি নীরব হয়ে যান বা প্ল্যাটফর্ম ছাড়েন, তাহলে কি সমস্যার সমাধান হবে? উত্তর—না।
সমাজ যেমন প্রজ্ঞাবান মানুষ ছাড়া এগোতে পারে না, তেমনি ডিজিটাল অঙ্গনও জ্ঞানীজনদের অবদান ছাড়া অন্ধকারে তলিয়ে যাবে। যেমন গ্রামের অগ্রসর মানুষজন সবাই শহরে চলে গেলে গ্রামীণ সমাজ পশ্চাৎপদ হয়ে পড়ে, তেমনি ফেসবুকও গুণী মানুষ ছাড়া নেতিবাচকতার আস্তানায় পরিণত হবে। তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুস্থ আলোচনার আশ্রয় খুঁজবে কোথায়?
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান
তাই যারা সরে গেছেন বা যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ—অনুগ্রহ করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন।
১) ভালোটা গ্রহণ করুন:
এই প্ল্যাটফর্মের ইতিবাচক দিকগুলো কাজে লাগান। আপনার একটি লেখা বা মন্তব্য অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত, আলোকিত ও পথপ্রদর্শন করতে পারে।
২) খারাপকে উপেক্ষা করুন:
অসঙ্গত মন্তব্য বা নেতিবাচক মানুষদের কৌশলে উপেক্ষা করুন, প্রয়োজনে ব্লক করুন। মনে রাখবেন—তাদের শক্তি আমাদের প্রতিক্রিয়ায়। আমরা প্রতিক্রিয়া না দিলেই তারা দুর্বল হয়ে পড়বে।
আসুন, আমরা নীরবতা ভেঙে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার স্রোতপ্রবাহ গড়ে তুলি। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে এই অঙ্গনকে নষ্টদের হাত থেকে রক্ষা করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও ইতিবাচক ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করি। মহান আল্লাহ যেন সবাইকে ভুল শুধরিয়ে সত্য উপলব্ধি ও কল্যাণকর কাজে যুক্ত থাকার তাওফিক দান করেন। আমিন।।
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ








