Home অর্থনীতি মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও খেলাপি ঋণে সংকটে অর্থনীতি

মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও খেলাপি ঋণে সংকটে অর্থনীতি

স্বৈরাচার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট (২০২৫–২৬ অর্থবছর) ঘোষণা করা হয়েছিল ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাজেট’ হিসেবে। তবে অর্থবছরের তৃতীয় মাসেই চিত্র উল্টে গেছে—সেপ্টেম্বরে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৩৬ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ৮.২৯ শতাংশ।

অর্থনীতির অন্যান্য সূচকও উদ্বেগজনক: রপ্তানি আয় টানা দুই মাস ধরে হ্রাস, বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের উল্লম্ফন, রাজস্ব ঘাটতি, এবং ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের নতুন রেকর্ড—সব মিলিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতি এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

রপ্তানি আয় কমেছে টানা দুই মাস

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে রপ্তানি আয় কমে প্রায় ৩% এবং সেপ্টেম্বরে আরও ৪.৬১% হ্রাস পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদেশিক বাজারে চাহিদা কমা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এর বড় কারণ।

রাজস্ব ঘাটতি বেড়েছে ৬,৫৭৭ কোটি টাকা

অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই–আগস্ট) শুল্ক ও কর আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ৬,৫৭৭ কোটি টাকা। রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) লক্ষ্য ছিল ৬১ হাজার কোটি, আদায় হয়েছে মাত্র ৫৪ হাজার ৪২৩ কোটি।
গত অর্থবছরেও রাজস্ব ঘাটতি ছিল প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা, যা রাজস্ব প্রশাসনে কাঠামোগত দুর্বলতা নির্দেশ করে।

দারিদ্র্য ও বেকারত্বে নতুন উদ্বেগ

তিন বছরের ব্যবধানে দেশের দারিদ্র্যের হার বেড়ে ১৮.৭% থেকে ২৮%-এ পৌঁছেছে। আরও ১৮% পরিবার দারিদ্র্যসীমার ঝুঁকিতে রয়েছে।
শিল্পখাতের স্থবিরতার কারণে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জানায়, বেকারত্বের হার এখন ৪.৬৩%, যা এক বছরে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণও কমেছে।

আরও পড়তে পারেন-

এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি

২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৩৯%, যা আগের বছরের একই সময়ের (২.৫৭%) তুলনায় কম। উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের ধীরগতি প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করছে।

বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি ২২ বছরের সর্বনিম্ন

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উচ্চ সুদের কারণে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬.৩৫%–এ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদহার বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে উদ্যোক্তারা নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগে অনীহা দেখাচ্ছেন।

খেলাপি ঋণ অতিক্রম করেছে ৫ লাখ কোটি টাকা

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রথমবারের মতো ৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
২০২৫ সালের জুন শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৩০%।
এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা (১৫০% বৃদ্ধি)—দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য এটি এক ভয়াবহ সংকেত।

একমাত্র ইতিবাচক দিক: রেমিট্যান্স

সব নেতিবাচক সূচকের মাঝেও প্রবাসী আয়ে আশার আলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ১৮.৪%, ফলে চলতি হিসাবে ৪৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্বৃত্ত রেকর্ড হয়েছে—আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

অর্থনীতিবিদদের মত

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, “বাজেটের মূল প্রতিশ্রুতি ছিল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। কিন্তু এখন প্রবৃদ্ধি স্থবির, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বাড়ছে—যা রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।”

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।