সউদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র, যাদের ব্যাপক আঞ্চলিক উচ্চাকাক্সক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাব রয়েছে। তেল সমৃদ্ধ দুই উপসাগরীয় শক্তির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে চলতে থাকা আঞ্চলিক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যরূপ নেয়, যখন গত নভেম্বরে মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদকে ফোন করেন।
ট্রাম্প সেই ফোনালাপে আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে জানান যে সউদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান তাকে হোয়াইট হাউস সফরের সময় আমিরাতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য অনুরোধ করেছেন। ট্রাম্পের কথোপকথনের বিষয়ে অবহিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ক্রাউন প্রিন্সের অনুরোধটি আমিরাত সরকার সুদানের গৃহযুদ্ধে লড়াইরত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদান করছে এমন অভিযোগের সাথে করা হয়েছিল।
তবে, একজন সউদি কর্মকর্তা ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বলেছেন, যুবরাজ মোহাম্মদ সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আর.এস.এফ.) এর উপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ করেছিলেন যাতে বহিরাগত সাহায্য এই গোষ্ঠীতে পৌঁছাতে না পারে, সরাসরি আমিরাতকে লক্ষ্যবস্তু করতে নাহয়। পরস্পরবিরোধী বক্তব্য যাই হোক না কেন, এর পরিণতি তাৎক্ষণিক ছিল।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
আমিরাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা সউদি আরবের দ্বারা গভীরভাবে বিশ্বাসঘাতকতা অনুভব করেছেন বলে জানা গেছে। ডিসেম্বরে সউদি আরব ইয়েমেনে আমিরাতের একটি চালানে বোমা হামলা চালালে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের তীব্র অবনতি ঘটে এবং তা তলানিতে ঠেকে। রিয়াদ অভিযোগ করে যে আমিরাত বিদ্রোহীদের অস্ত্র পাঠাচ্ছে। আবুধাবি রিয়াদের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং ইয়েমেন থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এর ফলে, সউদি-সমর্থিত সৈন্যরা দখলকৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধার করার সাথে সাথে বিদ্রোহীদের বেকায়দা অবস্থা প্রকাশিত হয়ে যায়। এই ঘটনাটি উপসাগরীয় জোটের ভঙ্গুরতা এবং তেল সমৃদ্ধ প্রতিবেশীদের মধ্যে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার অন্তর্নিহিত ঝুঁকি প্রকাশ করে। এই বিরোধ সুদানের চলমান সংঘাতের সাথেও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
একদিকে, সউদি আরব সুদানের সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন করে। অন্যদিকে, আমিরাতকে ব্যাপকভাবে আর.এস.এফ.-এর প্রধান সমর্থক হিসেবে দেখা হয়, যাদের বিরুদ্ধে বিশেষ করে দারফুরে গণহত্যা এবং অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। তবে, আমিরাত বরাবর বস্তুগত সহায়তা প্রদানের কথা অস্বীকার করে দাবি করেছে যে তাদের ভূমিকা মানবিক সহায়তা এবং যুদ্ধবিতি আলোচনায় সীমাবদ্ধ।
এক দশক আগে শেখ মোহাম্মদ ও যুবরাজ মোহাম্মদ ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তারা ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক হস্তক্ষেপ এবং কাতারকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টায় একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সউদি আরব আভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও ব্যাপক অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যপ্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করেছেন এবং বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।এদিকে, আমিরাত আক্রমণাত্মক কূটনীতির সাথে আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তার করেছে এবং ইসলামি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছে। আধিপত্যের এই প্রতিযোগিতা এখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরিকরেছে এবং বাজার, ইয়েমেন ও সুদানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে, যার উল্লেখযোগ্য প্রভাবমধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনৈতিক কৌশলের উপরও পড়ছে।
উম্মাহ২৪ডটকম: আইএএ








