রাত সোয়া ৮টা। সবাই যখন তারাবির নামাজে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় পাঞ্জাবি সেলাইয়ের কথা বলে চাচার বাড়িতে প্রবেশ করে আমানুর ইসলাম নামের এক যুবক। পরে শুয়ে থাকা চাচাতো ভাইকে তার মায়ের কাছ থেকে নামাজের কথা বলে বাইরে নিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ পর ওই শিশুকে হত্যা করে পাশের একটি ভুট্টার ক্ষেতে ফেলে রেখে বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েন আমানুর।
ঘটনার ঘণ্টাখানেক পর ওই শিশুর গলাকাটা ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গতকাল শুক্রবার রাতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কুচদহ ইউনিয়নের আমরুল বাড়ি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে।
মৃত ওই শিশুর নাম সিরাজুল আল সামস্ (৭)। সে ওই এলাকার মমিনুল ইসলামের ছেলে এবং আফতাব গঞ্জ চাইল্ড কেয়ার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।ঘাতক আমানুর ইসলাম একই এলাকার মজিদুল ইসলামের ছেলে। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই।
দিনাজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
অভিযুক্তের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘাতককের বাড়ির সামনের অংশের সম্পত্তি স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে নিহত ওই শিশুর বাবা কিছুদিন আগে কিনে নেন।
এর পর থেকে ওই সম্পত্তির লোভে চাচাতো ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করে আমানুর ইসলাম আমান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার রাতে মায়ের কাছে নামাজে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ির অদূরে একটি মাদরাসা ঘরে নিয়ে যান। সেখানেই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ওই মাদরাসার দেয়াল ঘেঁষে ভুট্টার ক্ষেতে নিয়ে গলা ও হাত পায়ের রগ কেটে বাড়িতে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় বাড়িতে না আসায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ভুট্টার ক্ষেত থেকে শিশু সিরাজুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনায় রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমানুর ইসলাম (২২), তার বাবা মজিদুল ইসলাম ও মাদরাসার শিক্ষক মফিজুল ইসলামকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শিশুটিকে প্রথমে শ্বাসরোধ পরে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন আমানুর ইসলাম। তার দেওয়া তথ্য মতে, ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করে পুলিশ।
দিনাজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) জানান, ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় নেওয়া হলেও অন্য দুজনের সম্পর্ক না থাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
উম্মাহ২৪ডটকম: আইএএ








