মুফতি সাইফুল ইসলাম
চলছে পবিত্র রমজান মাস। দেখতে দেখতে আমরা রমজানের দ্বিতীয় দশকের শেষপ্রান্তে এসে উপনীত হয়েছি। আর মাত্র এক দিন পরই শুরু হবে মহান রবের সান্নিধ্যে নিজেকে নির্জনে সপে দেওয়ার মহৎ আমল ইতিকাফের সময়। রমজানের রহমত, বরকত ও তাকওয়া অর্জনের চূড়ান্ত অনুশীলনের অনন্য মাধ্যম হচ্ছে ইতিকাফ।
কারণ রমজানের মতো মহৎ মাস পাওয়ার পরও আমরা দুনিয়াবী কর্ম ব্যস্ততা আর নানান দায়িত্বের কারণে রমজানের হক আদায় করতে পারি না। যথাযথ উপায়ে ইবাদত করতে পারি না। রমজানের মূল চাওয়া তাকওয়ার পথে অগ্রসর হতে পারি না। যার কারণে রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফের মতো আমল আমাদের সামনে এক অবারিত সুযোগ এনে দেয়।
যেখানে দুনিয়ার সব সম্পর্ককে দূরে রেখে একমাত্র মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নির্জনে তাকে উপাসনা করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعْتَكِفُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فَكُنْتُ أَضْرِبُ لَهُ خِبَاءً فَيُصَلِّي الصُّبْحَ ثُمَّ يَدْخُلُهُ
আয়িশা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রমাজানের শেষ দশকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ করতেন। আমি তাঁর তাঁবু তৈরি করে দিতাম।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
তিনি ফজরের সালাত আদায় করে তাতে প্রবেশ করতেন।’ (বুখারি, হাদিস : ২০৩৩)
এই হাদিসে দেখা যাচ্ছে মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে নিয়মিত ইতিকাফ করতেন। যা প্রমাণ করে যে, ইতিকাফ শুধু ঐচ্ছিক আমল নয়। বরং ফক্বীহগণের মতে ইতিকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদা কেফায়াহ। যা একটি মহল্লা থেকে কিছু মানুষকে আদায় করতেই হবে।যদি কোনো মহল্লার কোনো মুসল্লিই ইতিকাফ না করেন তাহলে সবাই গোনাহগার হবেন।
ইতিকাফ ব্যক্তির নিজের পরিশুদ্ধির এক চূড়ান্ত মহড়া। যা রমজানের শুরু থেকে নানান অজুহাতের হাতছাড়া হওয়া সুযোগকে পুণরায় সামনে এনে নিজেকে তাকওয়ার পথে এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করে দেয়।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই রমজানের অত্যাসন্ন শেষ দশকে ইতিকাফের মতো আমলে শরীক হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ








