মানবজীবনের সবচেয়ে গভীর ও জটিল প্রশ্নগুলোর একটি হলো—মৃত্যুর পর সত্যিই কি জীবন আছে? ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এক জনপদ কি আবার প্রাণ ফিরে পেতে পারে? এই প্রশ্ন শুধু সাধারণ মানুষের নয়; বরং অতীতের অনেক জ্ঞানী ও চিন্তাশীল ব্যক্তির মনেও এ প্রশ্ন উঁকি দিয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা এমন এক বিস্ময়কর ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন, যেখানে একজন ব্যক্তি একটি মৃতপ্রায় জনপদ অতিক্রম করে আল্লাহর ক্ষমতা নিয়ে চিন্তায় মগ্ন হন। মুফাসসিরদের মতে তিনি ছিলেন নবী উজায়ের (আ.)। তার সেই চিন্তার জবাবে আল্লাহ তাকে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেখিয়ে দেন—মৃত্যুর পর পুনর্জীবন শুধু সম্ভবই নয়, বরং তা তাঁর অসীম ক্ষমতার এক সুস্পষ্ট নিদর্শন।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অথবা তুমি কি সেই ব্যক্তির কথা চিন্তা করনি, যে এক জনপদের ওপর দিয়ে অতিক্রম করছিল, যা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল? সে বলল, ‘এত ধ্বংসের পর আল্লাহ কিভাবে একে জীবিত করবেন?’ তখন আল্লাহ তাকে মৃত্যু দিলেন একশত বছরের জন্য, তারপর তাকে পুনরুজ্জীবিত করলেন…।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৯)
উজায়ের (আ.)—একদিন এমন এক জনপদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যেখানে জীবনের সব চিহ্ন মুছে গিয়েছিল। ভেঙে পড়া ঘরবাড়ি, ধ্বংসপ্রাপ্ত দেয়াল, চারদিকে নির্জনতা—সব মিলিয়ে যেন মৃত্যুর এক নিঃশব্দ সাক্ষ্য। এই দৃশ্য দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে ভাবলেন, ‘এত ধ্বংসের পর আল্লাহ কিভাবে আবার কেয়ামতের দিন এদের জীবিত করবেন?’ এটি কোনো অবিশ্বাসের কথা ছিল না; বরং এই আত্মজিজ্ঞাসা ছিল আল্লাহর কুদরতের গভীর রহস্য উপলব্ধি করার আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
তাঁর এই চিন্তার জবাবে আল্লাহ তাকে সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু দেন এবং তিনি একশত বছর সেই অবস্থায় রইলেন। দীর্ঘ এই সময় পেরিয়ে গেলে আল্লাহ আবার তাকে জীবিত করলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি কতকাল এখানে অবস্থান করেছিলে?’
তিনি বললেন, ‘আমি একদিন বা তার কিছু অংশ অবস্থান করেছি।’ তখন আল্লাহ বললেন, ‘না, বরং তুমি একশত বছর অবস্থান করেছ।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৯)
এভাবে আল্লাহ তাকে তাঁর অসীম ক্ষমতার কিছু স্পষ্ট নিদর্শন দেখান।
তার খাবার ও পানীয় এত দীর্ঘ সময় পরও অবিকৃত অবস্থায় রয়ে যায়, অথচ তার গাধাটি সম্পূর্ণ পচে হাড়ে পরিণত হয়েছিল। আল্লাহ সেই হাড়গুলোকে তার চোখের সামনে একত্র করলেন, সেগুলোর উপর মাংস পরিয়ে দিলেন এবং পুনরায় তাকে জীবিত করে তুললেন। এই অলৌকিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে তিনি গভীর উপলব্ধি নিয়ে বলে উঠলেন। কোরআনের ভাষায়, ‘আমি জানি, আল্লাহ সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৯)
আল্লাহ মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, কেয়ামতের দিন তাঁর পুনরুত্থান কোনো কল্পকাহিনি নয়—এটি অবশ্যম্ভাবী সত্য।
যিনি শত বছর পর একজন মানুষকে জীবিত করতে পারেন, তিনি অবশ্যই কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করবেন। মানুষের কাছে শত বছর একটি দীর্ঘ সময়, কিন্তু আল্লাহর কাছে সময়ের এই হিসাব একেবারেই নগণ্য। অতএব, মৃত্যু শেষ নয়, বরং এক নতুন জীবনের সূচনা। যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আবার পুনরায় জীবিত করবেন—এটাই চিরন্তন সত্য, আর এই সত্যের ওপর দৃঢ় ঈমানই একজন মুমিনের প্রকৃত শক্তি ও পরিচয়।
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ
উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com
দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।








