ইরানের কাছে থাকা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ যেকোনো মূল্যে জব্দ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনে ‘চরম কোনো পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা নিশ্চিত করতে যাচ্ছি যে তাদের (ইরান) কাছে যেন কোনো পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে। অন্যথায় আমাদের অত্যন্ত কঠোর বা চরম কিছু করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, দেশের মানুষের সামনে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে সবাই একমত হবেন যে— আমরা ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দিতে পারি না।”
সাংবাদিকরা যখন প্রশ্ন করেন, ইরান কি তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছে রাখতে পারবে? জবাবে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “না, আমরা ওটা নিয়ে আসব। আমাদের ওটার প্রয়োজন নেই, আমরা ওটা চাইও না। উদ্ধারের পর সম্ভবত আমরা ওটা ধ্বংস করে দেব। কিন্তু আমরা কিছুতেই ওটা তাদের কাছে রাখতে দেব না।”
আরও পড়তে পারেন-
- উলামায়ে কেরামের প্রতি মুফতি শফী (রাহ.)এর দরদমাখা নসিহত
- কম্পিউটার চিপ শিল্প: জলবায়ুর উপর ফেলছে ভয়ঙ্কর প্রভাব
- ইরানি বিজ্ঞানীকে যেভাবে হত্যা করে ইসরায়েল
- ব্যতিক্রমী এক ইসলামী আইন গবেষক
- ইবাদতের গুরুত্ব নিয়ে ঠাট্টা-তাচ্ছিল্য জঘন্য গুনাহ
এর আগে কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন যে তাদের দেশের ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই দেশের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। তবে এই খবরটিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা প্রোপাগান্ডা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, “এসব খবর পরমাণু চুক্তির শত্রুদের অপপ্রচার। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট। ইরান নিজেই তাদের পরমাণু উপাদান ‘ডাউনব্লেন্ড’ বা এর সমৃদ্ধকরণ মাত্রা কমিয়ে ফেলবে।”
তিনি আরও জানান, আগামী ধাপের আলোচনা বা সংলাপে এই বিষয়টিই প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ অনড় মনোভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পরমাণু উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ








