Home আন্তর্জাতিক ইরানের সঙ্গে ধীর আলোচনায় ‘বিরক্ত’ ট্রাম্প, আবার শুরু করতে চান হামলা: অ্যাক্সিওস

ইরানের সঙ্গে ধীর আলোচনায় ‘বিরক্ত’ ট্রাম্প, আবার শুরু করতে চান হামলা: অ্যাক্সিওস

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ লক্ষ্যে শুক্রবার সকালে তিনি তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এই তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র মতে, হোয়াইট হাউসের বৈঠকে ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সিআইএ ডিরেক্টর জন র‍্যাটক্লিফ এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস। তবে ইউরোপে থাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অন্য একটি অনুষ্ঠানে থাকায় জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি। বৈঠকে ট্রাম্পকে আলোচনার অগ্রগতি এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ব্রিফ করা হয়।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে ইরানের সঙ্গে আলোচনার ধীরগতিতে ট্রাম্প বিরক্ত। মঙ্গলবার তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন যে তিনি কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে চান, কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই তিনি হামলার দিকে ঝুঁকে পড়েন। একটি সূত্র জানায়, ‘ফয়সালায়’ আসা যায় এমন চূড়ান্ত সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন ট্রাম্প, যার পর তিনি জয় ঘোষণা করে এই যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন। তবে যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পরই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাপ্তাহিক ছুটির সূচিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে একটি নির্ধারিত বক্তব্য শেষ করে ট্রাম্প তার বেডমিনস্টার গলফ ক্লাবে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। এর বদলে তিনি সরাসরি ওয়াশিংটন ডিসি-তে ফিরে যাবেন।

এমনকি ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লিখেছেন যে, তিনি এ সপ্তাহে তার ছেলে ডন জুনিয়রের বিয়েতেও অংশ নিচ্ছেন না। এর কারণ হিসেবে তিনি ‘সরকার সংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার ভালোবাসার কথা’ উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়তে পারেন-

তিনি পোস্টে লিখেন, ‘আমি মনে করি এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমার ওয়াশিংটন ডিসি-র হোয়াইট হাউসে থাকাটা জরুরি।’

ট্রাম্প যখন বেইজিং সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখন যুদ্ধ এড়াতে তেহরানে শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান ও কাতার। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফর করছেন। শনিবার তার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার জেনারেল আহমদ ওয়াহিদির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। একই সাথে কাতারের একটি প্রতিনিধিদলও মধ্যস্থতা করতে তেহরানে পৌঁছেছে।

এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা চলমান আলোচনাকে ‘যন্ত্রণাদায়ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন খসড়া চুক্তিগুলোর আদান-প্রদান হলেও বড় কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনা চললেও কোনো চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আইআরজিসি-র সহযোগী আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ‘বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত ফলাফল আসেনি।’

ইরানি সূত্রটির দাবি, তেহরানের বর্তমান ফোকাস বা লক্ষ্য কেবল ‘যুদ্ধ বন্ধ করা’ এবং এটি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনা করা হবে না।

তবে আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কিছু সূত্র এখনও বিশ্বাস করে যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো ধরনের বড় অগ্রগতি বা সমঝোতার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনায় অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটলে তিনি সামরিক পদক্ষেপের দিকেই অগ্রসর হতে পারেন বলে মনে হচ্ছে।

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।