Home রাজনীতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহার ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেটের দাবি এবি পার্টির

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহার ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেটের দাবি এবি পার্টির

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার এবং কার্যকর, বাস্তবায়নযোগ্য ও সংস্কারমুখী জাতীয় বাজেট প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ ও ভর্তুকির নামে অপচয় বন্ধ করে বিদ্যুতের দাম কমানোর আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন এবি পার্টির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, জুলাই জাতীয় সনদ এবং জনগণের প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি। তাঁর মতে, আর্থিক খাতের মৌলিক সংস্কার ছাড়া কোনো কার্যকর বাজেট প্রণয়ন বা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “আকারে বড় হলেও ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট কখনোই বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য হতে পারে না।”

ফুয়াদ আরও বলেন, বাজেট প্রণয়ন ও রাজস্ব নীতিমালা নির্ধারণের সাংবিধানিক দায়িত্ব জাতীয় সংসদের হলেও বাস্তবে এ প্রক্রিয়া আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বাজেট প্রক্রিয়াকে নির্বাহী বিভাগের পরিবর্তে সংসদকেন্দ্রিক করার দাবি জানান।

তিনি বলেন, জনগণকে ভর্তুকিনির্ভর বা কার্ডনির্ভর করার পরিবর্তে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত এবং উৎপাদনশীল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট বা প্লটের মালিকদের জন্য কর-সুবিধা দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

সরকারি ব্যয় প্রসঙ্গে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাজস্ব আয়ের তুলনায় রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি সরকারি ব্যয় সংকোচন, অপ্রয়োজনীয় ঋণ গ্রহণ বন্ধ, উন্নয়ন ব্যয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেন, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে লুটপাটে জড়িতদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কার্যকর ও সাহসী পদক্ষেপের পরিবর্তে পুরোনো নীতির পুনরাবৃত্তি দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং অস্বচ্ছ ভর্তুকি ব্যবস্থা এখনো বহাল রয়েছে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়ে খাতটির কাঠামোগত সংস্কার এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আরও পড়তে পারেন-

তিনি বলেন, “ক্যাপাসিটি চার্জ ও ভর্তুকির নামে অপচয় বন্ধ করে বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে। জনগণের স্বার্থে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে এবং অতীতের ভুল নীতির পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে।”

দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও লুটপাট প্রতিরোধে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং সমাজের সব অংশীজনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে মঞ্জু বলেন, জাতীয় স্বার্থে সব রাজনৈতিক শক্তির দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের উচিত বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি এড়িয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা। “ইসলামী ব্যাংক দেশের মানুষের ব্যাংক,” বলেন তিনি।

মঞ্জুর অভিযোগ, বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেটে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সংকট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ এবং খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা অনুপস্থিত। তিনি গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, অর্থনৈতিক সংস্কার, জবাবদিহিতা এবং উৎপাদনমুখী প্রবৃদ্ধিকে ভিত্তি করে বাজেট পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, গণপরিবহনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সহ-সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানাসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।