Home অর্থনীতি আরএমজি নির্ভরতা কমাতে ৩ হাজার কোটি টাকার ‘রফতানি বহুমুখীকরণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ চালু

আরএমজি নির্ভরতা কমাতে ৩ হাজার কোটি টাকার ‘রফতানি বহুমুখীকরণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ চালু

তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের বাইরে দেশের রফতানি খাতের ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার ‘রফতানি বহুমুখীকরণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে রোববার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ফলে সৃষ্ট পণ্য ও বাজারকেন্দ্রিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সম্ভাবনাময় অন্যান্য রফতানি খাতের বিকাশে সহায়তা করার লক্ষ্যেই এ স্কিম চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য দিয়ে এ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হবে এবং এটি একটি ঘূর্ণায়মান (রিভলভিং) তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে।

স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (পিএফআই) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। অন্যদিকে রফতানিকারকরা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।

এ অর্থায়নের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা থাকবে। সুদ কমতি স্থিতি (রিডিউসিং ব্যালেন্স) পদ্ধতিতে গণনা করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে রফতানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি, বাণিজ্য ভারসাম্যের উন্নয়ন এবং অপ্রচলিত রফতানি খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

রফতানি নীতি ২০২৪-২০২৭ অনুযায়ী ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ এবং ‘বিশেষ উন্নয়ন’ খাতভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এ স্কিমের আওতায় অর্থায়ন সুবিধা পাবে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচামাল ব্যবহারকারী রফতানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে পাট ও চামড়া খাতকে রফতানি বহুমুখীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠান, রফতানি আয় দেশে আনতে বকেয়া রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান এবং ঋণ অবলোপনের (রাইট-অফ) ইতিহাস রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানগুলো এ সুবিধা পাবে না।

স্কিমে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি (পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষর করতে হবে।

এছাড়া ইসলামী ব্যাংকগুলো শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতিতে এ স্কিমের আওতায় অর্থায়ন করতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রেও স্কিমের সুদহার ও মেয়াদসংক্রান্ত শর্তাবলি অনুসরণ করতে হবে।

পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পেতে প্রতিটি ঋণ বিতরণের ৯০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আবেদন করতে হবে। এর মধ্যে ডিমান্ড প্রমিসরি নোট, লেটার অব কন্টিনিউটি, ডেবিট অথরিটি লেটার এবং হালনাগাদ সিআইবি প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আরও পড়তে পারেন-

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এ স্কিমের আওতায় অর্থায়নকৃত সব বিনিয়োগে ন্যূনতম ঋণ-ইকুইটি অনুপাত ৭০:৩০ বজায় রাখতে হবে।

তহবিলের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি ও জবাবদিহি ব্যবস্থা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি প্রান্তিক শেষে ১৫ দিনের মধ্যে ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে তহবিল ব্যবহারের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে।

কোনো প্রতিষ্ঠান মিথ্যা তথ্য প্রদান বা তহবিলের অপব্যবহার করলে পুনঃঅর্থায়নের স্বাভাবিক সুদের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ হারে জরিমানা সুদ আরোপ করা হবে। এ জরিমানার অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব থেকে সরাসরি আদায় করা হবে।

এছাড়া কোনো ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে। প্রয়োজনবোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব থেকে এককালীন কর্তনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বকেয়া পুনঃঅর্থায়ন আদায় করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন (২০২৩ সালে সংশোধিত)-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ স্কিম চালু করা হয়েছে এবং এটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

সূত্র/- বাসস

উম্মাহ২৪ডটকম:আইএএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।