জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে সরকারি দলের এক সংসদ সদস্যের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ডেপুটি স্পিকার সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার নির্দেশ দেন।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী (কুমিল্লা-৬)। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করলে বিরোধী দলের সদস্যরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান।
যা বলেছিলেন মনিরুল হক চৌধুরী
বক্তব্যে তিনি অতীতের একটি ব্যক্তিগত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মো. তাহের-এর স্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করেন। পরে বর্তমান সংসদের বিরোধী দলের নারী সদস্যদের প্রসঙ্গে বলেন, তাঁদের বক্তব্য শুনে তিনি মেধাবী মনে করেছেন, তবে পোশাকের কারণে তাঁদের চেনা কঠিন বলে মন্তব্য করেন।
এই মন্তব্যের পরই বিরোধী দলের নারী-পুরুষ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। সংসদে কয়েক মিনিটের জন্য হট্টগোল ও কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।
ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপ
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলা উচিত নয়।”
পরে তিনি সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আমরা সবাই জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য। আমাদের শালীনতা ও মর্যাদা বজায় রাখতে হবে। এই মহান সংসদ গণতান্ত্রিক চর্চার স্থান। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে ভবিষ্যতে কেউ কোনো মন্তব্য করবেন না।”
ডেপুটি স্পিকারের এ সিদ্ধান্তে বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
বিরোধিতার মুখে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, তিনি কাউকে ছোট করার উদ্দেশ্যে কথা বলেননি।
তিনি বলেন,
“আমি কাউকে ছোট করিনি। যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে ক্ষমা চাইছি। আমার বক্তব্য আকার-ইঙ্গিতে কারও লেগে থাকলে তা এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করব।”
নাহিদ ইসলামের প্রতিবাদ
আসরের নামাজের বিরতির পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দলের নারী সদস্যদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করা শুধু অমার্জনীয় নয়, এটি ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী।
তার ভাষায়,“প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পোশাক নির্বাচনের অধিকার রয়েছে। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে সেই স্বাধীনতাকে খাটো করে এ ধরনের মন্তব্য করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে বর্ণবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।”
রুলিং পুনর্ব্যক্ত
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার তাঁর আগের রুলিং পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অধিকারকে সম্মান জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করতে হবে।
তিনি বলেন,“সংসদে বসে আমরা কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলব না। নিজেদের মর্যাদা আমাদেরই রক্ষা করতে হবে।”
পরে সংসদের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।
সূত্র/- জাতীয় সংসদ
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ








