পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, পবিত্র আশুরা একদিকে যেমন বেদনাবিধুর স্মৃতির দিন, অন্যদিকে অন্যায্য শাসন ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের চিরন্তন প্রেরণা।
তিনি বলেন, “দশ মহররমের এই দিনে আমরা হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবার-পরিজনের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। একই সঙ্গে সব ধরনের অন্যায়, জুলুম ও অবিচারের বিরুদ্ধে অবিচল থাকার এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করি।”
বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা মুসলমানের ঈমান ও বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই ইতিহাসচর্চা বা অন্য কোনো প্রসঙ্গেই তাঁদের প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্য, আচরণ বা বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও পড়তে পারেন-
- প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের বিবাহ্ সম্পর্কে শরয়ী বিধান
- ইসলামের আলোকে নারীর কর্মপরিধি
- সালাম: উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি রক্ষার অন্যতম বাহন
- বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ: বাস্তবতা ও অপপ্রচার
- সকালের ঘুম যেভাবে জীবনের বরকত নষ্ট করে
তিনি আরও বলেন, ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রেও শরীয়তের সীমারেখা অতিক্রম করা উচিত নয়। একইভাবে হজরত মুয়াবিয়া (রা.)-সহ সাহাবায়ে কেরামের সম্পর্কে কটূক্তি বা অসম্মানজনক বক্তব্য পরিহার করতে হবে। ইসলাম সর্বদা ভারসাম্য, ন্যায়বিচার ও ইনসাফের শিক্ষা দেয়। সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার সুযোগ নেই।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, অনেকেই আশুরাকে শুধু কারবালার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেখেন। অথচ কারবালার বহু আগে থেকেই ইসলামে আশুরার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আশুরার দিনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেছেন এবং এ দিনের রোজা পালনের প্রতি বিশেষ উৎসাহ দিয়েছেন।
তিনি মুসলমানদের আশুরার দুই দিনের রোজা পালন, সুন্নাহসম্মত আমল, তাসবিহ-তাহলিল ও ইবাদতে অধিক মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আশুরার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায়, ইনসাফ ও সত্যের পথে অবিচল থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উম্মাহ২৪ডটকম: এসএএ








