Home সোশ্যাল মিডিয়া পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য

পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য

0

।। মু’তাসিম বিল্লাহ ।।

পিতা-মাতার সমতুল্য আপনজন পৃথিবীতে আর নেই। কারণ, পিতা-মাতা আমাদের জন্মদাতা , সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার আগে ও পরে সন্তানের জন্য মা-ই সবচেয়ে বেশী দুঃখ কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেন। সেই সাথে পিতাও। তাদের ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকারের মাধ্যমে সন্তান বড় হতে পারে। সন্তান জন্মের পর থেকেই পিতা-মাতা নিজেদের সুখের কথা ভুলে গিয়ে সন্তানের সুখের কথা ভাবেন। সন্তানকে মানুষ হিসাবে গড়ে তুলেন।

অথচ ইদানিং দেখা যায়, কেউ কেউ তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিষ্ঠুর অমানবিকতার সাথে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে। কিন্তু ইসলামে আল্লাহ পাক বাবা-মায়ের মর্যাদা অনেক উপরে দিয়েছেন। সুতরাং যে বাবা-মায়ের কারণে একজন সন্তান পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হন, সেই বাবা-মাকেই যারা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে, তারা আর যাই হোক মানুষ হতে পারে না।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা নিজের অধিকারের পরেই পিতা-মাতার অধিকারে কথা বলেছেন। কুরআনে কারিমে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তা’আলা ব্যতিত অন্য কারো ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। (সূরা বনী ইসরাঈল)।

ইমাম কুরতুবী (রাহ.) বলেন, এ আয়াতে আল্লাহ পাক পিতা-মাতার প্রতি সম্মান এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করাকে নিজের ইবাদতের সাথে বর্ণনা করে সন্তানের উপর তা অপরিহার্য করেছেন।

আরও পড়ুন- ‘মা আমার’

যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ পাক নিজের শোকরের সাথে পিতা-মাতার শোকরকে একত্রিত করে তা আদায় করা অপরিহার্য করেছেন। যেমন কুরআনে বর্ণিত আছে, তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো এবং পিতা-মাতার শুকরিয়া আদায় করো। (সূরা লুকমান)।

সুতরাং এর দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে, ইসলামে আল্লাহ পাকের ইবাদতের পর পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার সর্বাধিক গুরুত্ব পূর্ণ।

এ ব্যপারে হাদিসে বর্ণিত আছে, কোন এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)কে প্রশ্ন করলেন- কোন কাজ সর্বাধিক প্রিয়? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, পিতা মাতার সাথে সদ্ব্যব্যবহার করা। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন এর পর কোন কাজটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জিহাদ। (সহীহ বুখারী)।

এ হাদীস দ্বরা প্রতিয়মান হয় যে, দ্বীনের অন্যতম স্তম্ভ নামাযের পর আল্লাহর নিকট প্রিয় কাজ হলো পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা। কুরআনের এক আয়াতে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি মানুষকে পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। (সূরা লুকমান)।

এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে উল্লেখ করেন, পিতা-মাতার সন্তুষ্টির মাঝেই আল্লাহ সন্তুষ্টি আর পিত-মাতার অসন্তুষ্টির মাঝেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিহিত। (তিরমিযি শরীফ)।

অন্যত্র হযরত আবু উমামা (রাযি.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)এর কাছে জানতে চাইলেন, পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব কি? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তারা উভয়েই তোমাদের জন্য জান্নাত এবং জাহান্নাম। (ইবনে মাজাহ)।

পরিশেষে বলতে চাই, বর্ণিত পবিত্র কুরআন-হাদীসের উদ্ধুতি ও আলোচনা দ্বারা এটাই প্রতিয়মান হয় যে, পিতা-মাতার খেদমত, আনুগত্য ও তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা সর্বাস্থায় সন্তানের উপর আবশ্যক। পরম করুণাময় আল্লাহ আমাদেরকে সকলকে আমাদের মেহেরবান পিতা-মাতার যথাযথ মর্যাদাদান ও খেদমত করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

লেখক: শিক্ষার্থী, আরবী সাহিত্য বিভাগ, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা, ঢাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.