Home মহিলাঙ্গন শরীয়তের দৃষ্টিতে মুহরিম মহিলা

শরীয়তের দৃষ্টিতে মুহরিম মহিলা

।। মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী ।।

পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ২২ নং আয়াতে আল্লাহ্ তাআলা পরিস্কারভাবে যে সব নারীদের স্ত্রীত্বে গ্রহণ করা বা শাদী করা জায়েয নেই বলে ঘোষণা দিয়েছেন, পাঠক মহোদয়ের অবগতির জন্য এখানে তা মাস্আলা আকারে উপস্থাপন করা হল।

যে সকল নারীদেরকে কোন অবস্থাতেই শাদী করা জায়েয নেই সে সকল নারীদেরকে ফিক্বাহ্বিদদের ভাষায় মুহরিমাতে আবাদিয়্যাহ্ বা চিরতরে হারাম বলা হয়। আবার কোন কোন নারী চিরতরে হারাম নয়, কোন কোন অবস্থায় তা হালালও হয়ে যায়। তিন প্রকার নারীদেরকে শাদী করা চিরতরে হারাম। যথা- (১) বংশগত কারণে হারাম নারী, (২) দুধ পানের কারণে হারাম নারী এবং (৩) শ্বশুরালয়ের সম্পর্কের কারণে হারাম নারী। আর যেসব নারীকে কোন কোন অবস্থায় শাদী করা হালাল তারা হল, পরস্ত্রী- অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত কোন নারী পুরুষের স্ত্রীত্বে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত তার সাথে বিবাহ জায়েয নেই।

সূরা নিসার ২২ নং আয়াতে নির্দেশিত যে সব নারীকে শাদী করা হারাম তার বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ-

(১) আপন জননী, দাদী এবং নানীকে শাদী করা হারাম।

(২) স্বীয় ঔরসজাত কন্যা, কন্যার কন্যা এবং পুত্রের কন্যাকে শাদী করা হারাম। উল্লেখ্য, যে কন্যা ঔরসজাত নয়, বরং পালিত তাদের এবং তাদের সন্তানকে বিবাহ করা জায়েয- যদি অন্য কোন পথে অবৈধতা না থাকে।

(৩) সহোদরা বোন, বৈমাত্রী বোন এবং বৈপিত্রী বোনকে বিয়ে করা হারাম।

(৪) পিতার সহোদরা বোন, বৈমাত্রী বোন ও বৈপিত্রী বোনকে শাদী করা হারাম। এরা সকলেই ফুফুর অন্তর্ভুক্ত।

(৫) আপন মাতার উল্লিখিত তিন প্রকার বোনকে বিয়ে করা হারাম। কারণ তারা প্রত্যেকেই আপন খালার অন্তর্ভুক্ত।

(৬) ভাইয়ের কন্যার সাথে বিয়ে হারাম, তা আপন হোক কিংবা বৈমাত্রী।

(৭) বোনের কন্যাকে শাদী করা হারাম। সে বৈমাত্রী হোক কিংবা বৈপিত্রী।

(৮) দুধ মাতাকে বিয়ে করা হারাম। অর্থাৎ যে সব নারীর স্তন্য পান করা হয় তারা মা না হলেও বিবাহ হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে মাতার পর্যায়ভুক্ত। কাজেই তাদের সাথে বিয়ে হারাম। এক্ষেত্রে দুধ অল্প পান করুক কিংবা পরিমাণে বেশী। সর্বাবস্থায় একই হুকুম।

উল্লেখ্য, হুরমতে রেযাআত বা দুধ সম্পর্কের কারণে বিয়ে হারাম হওয়ার শর্ত এই যে, শিশুকাল অর্থাৎ আড়াই বছরের মধ্যবর্তী সময়ে দুধ পান করলেই হুরমত কার্যকরী হবে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- দুধ পানের দরুন যে অবৈধতা আরোপিত হয় তা ঐ সময়ে দুধ পান করলে হবে, যে সময় দুধ পান করলে শিশুরা শারীরিকভাবে বড় হয়। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)।

(৯) দুধ বোনকে বিয়ে করা হারাম। অর্থাৎ দুধ পান করার কারণে যে সব মহিলা বোনের সম্পর্কিত হয়, তাদেরকে বিয়ে করা হারাম। কোন বালক-বালিকা দুধ পানের নির্দিষ্ট সময়ে কোন স্ত্রীলোকের দুধ পান করলে সে ঐ বালক-বালিকার মা এবং তার স্বামী তাদের পিতা হয়ে যায়।

তাছাড়া সেই স্ত্রীলোকের আপন পুত্র-কন্যা তাদেরই ভাই-বোন হয়ে যায়। অনুরুপভাবে সেই স্ত্রীলোকের বোন তাদের খালা হয় এবং ঐ স্ত্রীলোকের দেবর-ভাসুর তাদের চাচা হয়ে যায় তার স্বামীর বোনেরা তাদের (শিশুদের) ফুফু হয়ে যায়। দুধ পানের কারণে তাদের সবার পরস্পর বৈবাহিক অবৈধতা স্থাপিত হয়ে যায়। বংশগত সম্পর্কের কারণে যেসব বিয়ে হারাম হয়ে যায়, দুধ পানের সম্পর্কের কারণেও সে সব সম্পর্কীয়দের সাথে বিয়ে হারাম হয়ে যায়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, বংশগত সম্পর্কের কারণে যে সব মহিলাকে বিয়ে করা হারাম হয়, ঐ সব মহিলাকে দুধ পানের কারণে বিয়ে করা আল্লাহ্ তাআলা হারাম করে দিয়েছেন। (মুসলিম শরীফ)।

(১০) কোন বালক-বালিকা কোন মহিলার দুধ পান করলে তাদের পরস্পরের মধ্যে বিয়ে হতে পারে না। এমনিভাবে দুধ ভাই ও বোনের কন্যার সাথেও বিয়ে হতে পারে না।

(১১) কোন লোক কোন মহিলার সাথে ব্যভিচার বা যিনায় লিপ্ত হয়েছে। এমতাবস্থায় ঐ মহিলার মা এবং মহিলার কন্যার সাথে বিয়ে করা লোকটির জন্য চিরতরে হারাম।

(১২) কোন মহিলা কামোত্তেজিত অবস্থায় খারাপ মনোভাব নিয়ে কোন পুরুষের শরীরে হাত দিলে সে মহিলার মাতা এবং কন্যার সাথে ঐ পুরুষের বিয়ে হারাম।

(১৩) কোন লোক রাতের অন্ধকারে স্ত্রীর সাথে সহবাসের মনোভাব নিয়ে বিছানায় উপস্থিত হয়ে যদি ভুল বশতঃ স্ত্রীর পরিবর্তে যুবতী কন্যার গায়ে কামোত্তেজিত অবস্থায় হাত দেয়। এমতাবস্থায় ঐ পুরুষের জন্য তার স্ত্রী চিরতরে হারাম হয়ে যাবে। (ফাতওয়ায়ে আলমগিরিয়্যাহ্-১/২৭৪)।

(১৪) কোন ছেলে তার সৎ মাকে কুমনোভাব নিয়ে স্পর্শ করলে ঐ সৎ মা তার পিতার জন্য হারাম হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে সৎ মা যদি ছেলের সাথে একই আচরণ করে তারও একই হুকুম। (ফাতওয়ায়ে শামী-২/৩৮৮)।

লেখকঃমুহাদ্দিস- জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা ঢাকাখতীব- তিস্তা গেট জামে মসজিদ টঙ্গীগাজীপুরউপদেষ্টা- উম্মাহ ২৪ ডটকম এবং কেন্দ্রীয় অর্থসম্পাদক- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।ই-মেইল- [email protected]