।। ডা. তানজিনা রহমান ।।
আজকের মুসলিম সমাজ এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে জাগতিক জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির হাতছানি, অন্যদিকে আমাদের পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর পাশ্চাত্য সংস্কৃতির তীব্র আঘাত। এই দ্বন্দ্বে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের নতুন প্রজন্ম। অনেক বাবা-মা সন্তানদের কেবল পার্থিব সফলতা, ভালো জিপিএ এবং বিলাসিতার জীবন দিতে গিয়ে অসচেতনভাবে আধুনিকতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করছেন।
ফলে সন্তানেরা হালাল-হারামের প্রাথমিক জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বক্ষমান নিবন্ধে সেই মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার প্রয়াস পাব- যেখানে একজন মায়ের সামান্য অবহেলা কীভাবে পুরো উম্মাহর ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। শিক্ষার মৌলিক ধারণা, নৈতিকতার অবক্ষয় এবং সন্তানের ভিত্তি গঠনে মায়েদের অপরিহার্য ভূমিকা নিয়ে অকপট বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।
শিক্ষা ও হালাল জ্ঞানের সীমারেখা: কেন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রয়োজনীয়?
আমার দৃষ্টিতে শিক্ষাকে ‘জেনারেল শিক্ষা’ বা ‘সার্টিফিকেটের শিক্ষা’ হিসেবে আলাদা করা উচিত নয়। মৌলিকভাবে শিক্ষাকে ভাগ করা যায় দ্বীনি শিক্ষা এবং দুনিয়াবী শিক্ষা হিসেবে। দুনিয়াবী শিক্ষাকে আবার হালাল শিক্ষা এবং হারাম শিক্ষা (যেমন- চারুকলা এবং এমন আরও কিছু বিষয়); এই দু’ভাগে ভাগ করা যায়।
কার্যত ইসলাম কোনো জ্ঞানকেই অস্বীকার করে না; বরং এর উদ্দেশ্য যদি হয় আল্লাহর সৃষ্টির সৌন্দর্য চিনে নেয়া এবং মানবকল্যাণে প্রয়োগ, তবে সেটিও হালালের আওতায় আসে। কিন্তু এমন কোনো শিক্ষাক্রম বা শিল্পচর্চা যদি অনাবৃত শরীর, মূর্তি বা হারাম সংস্কৃতিকে প্রচার করে, তখনই তা হারামের পর্যায়ে পড়ে।
বাস্তবতা হলো, জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই অ্যাকাডেমিক বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গুরুত্ব রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ রান্না শিখতে চাইলে তা ভালো কথা। কিন্তু পেশাদার শেফ বা রন্ধনশিল্পী হওয়ার জন্য উন্নত বা অ্যাডভান্সড লেভেলের পড়াশোনার দরকার হয়। কোন মাছে কোথায় টক্সিন থাকে বা কীভাবে তা অপসারণ করতে হয়, কোন সবজি কত তাপমাত্রায় রান্না করলে তার খাদ্যগুণ (ফুড ভ্যালু) বজায় থাকবে- এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো শুধু মাছ কুটলে বা সাধারণ রান্না করলেই জানা যায় না। সাধারণ মানুষ হিসেবে এসব বিষয়ে আমাদের জ্ঞান কম থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু স্নাতক (গ্র্যাজুয়েট) স্তরের রন্ধনবিদ্যা নিয়ে খোঁজ নিলে এর ব্যাপকতা উপলব্ধি করা যায়।
যেকোনো বিষয়ে শুধু একা একা পড়ে, দু’একটি কোর্স করে বা ভাসা ভাসা জ্ঞান অর্জন করা যায়। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক (অ্যাকাডেমিক) পড়াশোনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তা সে সেলাই, রান্না, বেকিং বা ইসলামের জ্ঞানই হোক না কেন।
আমি যেহেতু ইসলাম পালনের চেষ্টা করি, তাই আমি কাউকে বলব না ঢাকার বাইরে গিয়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বা সহশিক্ষা পরিবেশে) পড়তে। যেকোনো দুনিয়াবী হালাল জ্ঞান হালাল উপায়ে অর্জন করা যায়। কেউ যদি ইডেন কলেজে কেমিস্ট্রি বা মাইক্রোবায়োলজি কিংবা হোম ইকোনমিক্স কলেজে ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন বা টেক্সটাইলে পড়াশোনা করে, তবে তা তার জন্য হারাম হয়ে যাবে না। কারণ, বিষয়গুলো হালাল এবং কলেজটিও মেয়েদের। শিক্ষা মানেই সহশিক্ষা- এই মতবাদ আমি অনুসরণ করি না, এটা স্পষ্ট। যার যার জবাবদিহিতা তার তার কাছে; যার যাকে পছন্দ, সে তার পথ বেছে নিক।
পড়াশোনা না করার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থাকলেও, এর ফল ভোগ করতে হয় পরিবারকেই। এখন এই মৌলিক শিক্ষার গুরুত্ব জানা সত্ত্বেও সমাজের বাবা-মায়েরা সন্তানের নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে কেমন ভুল করছেন, তা দেখা যাক।
আধুনিক প্যারেন্টিং ও নৈতিকতা: হালাল-হারাম ভুলে যাওয়া প্রজন্মের ঝুঁকি
সব যুগেই এমন কিছু বাবা-মা থাকেন, যাঁরা শুধু বাচ্চাদের পড়াশোনার খবরটুকুই রাখেন। এর বাইরে মৌলিক শিষ্টাচার (যেমন- অন্যের জিনিস ধরার আগে অনুমতি নেওয়া বা জনসমাগমে চেঁচিয়ে কথা না বলা) শেখানোকে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। দামি স্কুল এবং একের পর এক নামীদামি শিক্ষকের কাছে পড়িয়ে তাঁরা আত্মতুষ্টিতে ভোগেন।
অথচ ধর্মীয় শিক্ষা? তাঁদের মতে, সন্তান নামায ও কুরআন পড়তে পারলেই হলো- যার পাঠ ক্লাস ফোর-ফাইভের মধ্যেই চুকিয়ে ফেলা হয়। এখান থেকেই শুরু হয় নৈতিক শূন্যতার প্রথম ধাপ।
অনেক বাবা-মা আছেন, যাঁরা নিজেদের আধুনিক মানসিকতার মানুষ হিসেবে ‘আপগ্রেড’ করতে চান। সেই লক্ষ্যে ছেলেমেয়েদের এমন শিক্ষায় বড় করেন যে, তারা হালাল-হারাম চেনেই না। ধর্মীয় শিক্ষাকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করাকে এদের কাছে ‘গেঁয়ো’ বা ‘লো সোসাইটি’ মনে হয়। অন্যদিকে, তাঁরা আবার প্রত্যাশা করেন যে, মেয়ে ভালো ছেলেকেই বিয়ে করে মার্জিত পোশাক-আশাক পরুক- এই ক্ষেত্রে তাঁদের ভেতর এক ধরনের গোঁড়ামি কাজ করে।
কিন্তু সন্তান কি চাবি দেওয়া পুতুল? নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।” (সহীহ বুখারি ও মুসলিম)। আপনি তাকে পারিবারিক অনুশাসন শেখাননি। পশ্চিমা সংস্কৃতি আপনার কাছে ধর্মীয় সংস্কৃতির চেয়ে প্রিয় ছিল। আল্লাহ বলে কেউ একজন আছেন, যিনি সব দেখছেন এবং একদিন সব কাজের হিসাব নেবেন- এসব কিছুই আপনি তাকে শেখাননি। আপনার জীবনযাত্রা দেখে সে উপলব্ধিও করেনি।
অথচ সে বড় হওয়ার পর যখন হঠাৎ আপনি খুব ধার্মিক সেজে তাকে বলবেন- বডি-হাগিং পোশাক পরো না বা অপ্রয়োজনে ছেলেদের সাথে কথা বলো না, তখন কি সে মেনে নেবে? সে তো আপনাকে কখনোই ধার্মিক হিসেবে দেখেনি, নামায ছাড়া আর কিছুই দেখেনি!
আপনি হয়তো জানেনও না, আজ যাদের আপনি ঘৃণা করছেন, তারাই হয়তো আপনার সন্তানের আদর্শ (আইডল) হয়ে বসে আছে। অধুনা সমাজের “অসুস্থ নির্ভরতার সংস্কৃতি” কিংবা “নৈতিক বিচ্যুতির প্রবণতা” তার কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে হতেই পারে। সে দেখছে, এতে অনেক টাকা পাওয়া যায়, টাকা দিয়ে বিলাসিতা কেনা যায়। আপনি তার পড়াশোনার খবর রেখেছেন, কিন্তু বন্ধুবান্ধব কারা, তার চিন্তাভাবনা কোন দিকে যাচ্ছে- সেই খবর রাখেননি। আজ যা কিছুই আপনার কাছে আধুনিকতা মনে হচ্ছে, এই আধুনিকতাই একদিন আপনাকে লজ্জিত করতে পারে- বিষয়টি মাথায় রাখবেন।
সন্তানের ভিত্তি গঠনে মায়ের জ্ঞানের অপরিহার্যতা
যেসব বাবা-মা নিজেদের জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে দেন, তা তাঁদের ব্যক্তিস্বাধীনতা। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, তাঁরা নিজেদের সন্তানদের গাইড করবেন কী করে? কারণ, ‘গোবরে পদ্মফুল’ খুব অল্পই ফোটে! এই দুনিয়ার সবচাইতে কঠিন কাজ হলো একটি ছোট বাচ্চার সাথে সঠিকভাবে যোগাযোগ স্থাপন করে তার মৌলিক ভিত্তি (বেইজ) তৈরি করে দেওয়া।
এই কাজটি মা যত নিখুঁতভাবে করতে পারেন, সেরা শিক্ষকও তা পারেন না। যে মা নিজে ভালো জানেন এবং তাঁর বাচ্চাকে নিজেই শেখান, সেই সন্তান অন্যদের তুলনায় কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকে।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
যদি মা নিজেই না জানেন, তবে তিনি শেখাবেন কী করে? কোনো বিষয়ে সামান্য বা ভাসা ভাসা ধারণা নিয়ে বাচ্চাকে শেখাতে গেলে মায়ের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। তখন সেই মা বাধ্য হয়ে সন্তানকে মুখস্থবিদ্যার পথ দেখিয়ে দেন। এর ফলে সন্তানের শেখার আগ্রহ নষ্ট হয়।
এখন যদি মায়ের নিজের জ্ঞানের অভাব থাকে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের কী হবে? তারাও কি এভাবে অল্প স্বল্পই শিখবে, আর নিজেদের সব প্রয়োজনে নির্ভর করবে সেই সেক্যুলার ঘরানার মানুষদের ওপর, যাদেরকে তারা হয়তো মনে মনে ঘৃণা করে? ধর্মীয় এবং জাগতিক উভয় শিক্ষায় মায়েদের এমন প্রস্তুতি থাকা আবশ্যক, যেন সন্তানদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে তারা সর্বদা সক্ষম হন। কেবল সার্টিফিকেট নয়, প্রয়োজন গভীর ও আন্তরিক জ্ঞান।
মায়ের অনীহা ও দায়িত্ববোধ: জ্ঞান থাকলেও প্রয়োগের ঘাটতি
মেয়েদের শিক্ষার প্রসঙ্গ উঠলেই একটি নির্দিষ্ট মহল সবসময়ই তাদের জোর করে সহশিক্ষার দিকে ঠেলে দেয়। এই চাপ যদি উদ্দেশ্যমূলক হয়, তবে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য আছে বলে ধরে নিতে হয়।
তবে এই আলোচনার মাঝে আরেকটি বিষয় আমাকে ভাবাচ্ছে। অনেক মায়ের মুখে শোনা যায়: “বাচ্চাকে পড়াতে ভালো লাগে না”, “আমার কাছে পড়ানোর ধৈর্য নেই”, “বাচ্চা আমার চেয়ে টিউটরের কাছে পড়তে বেশি ভালোবাসে”, কিংবা “পয়সা থাকলে কেউ নিজের বাচ্চা নিজে পড়ায় না!”
অর্থাৎ, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে বেশিরভাগ মা-ই সন্তানদের নিজেরা পড়াচ্ছেন না! ‘পড়ানো’ শব্দটির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো- নতুন নতুন ধারণা বা কনসেপ্টগুলো ধৈর্য সহকারে নানাভাবে বুঝিয়ে সন্তানের মাথায় গেঁথে দেওয়া। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি নিজেরা না করে ছোট বয়স থেকেই অভিভাবকেরা সন্তানদের হাতে হোম টিউটর তুলে দেন।
শিক্ষিত এবং জ্ঞান-সম্পন্ন মায়েদের মুখে এমন কথা কি কৃতিত্বের বিষয়?
আমরা তো জানতাম, একজন মায়ের প্রধান কাজ হলো, উম্মাহকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা। অথচ এখন দেখছি, এই ‘গড়ে তোলার’ কাজটি অনেকেই অন্য মানুষকে দিয়ে করিয়ে নিচ্ছেন। সংসারের কাজ করছে গৃহকর্মী। আর তাঁরা নিজেরা পড়াশোনাও করছেন না, ঘরের কাজও করছেন না, আবার সন্তানের পড়াশোনাও দেখছেন না! তাহলে এই মায়েরা কী নিয়ে ব্যস্ত? অনলাইন ব্যবসা?
এই প্রশ্নটি নিছক কৌতূহল নয়, বরং চিন্তার বিষয়। জ্ঞান ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মায়েদের এমন দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা সত্যিই ভাবনার উদ্রেক করে।
পরিশেষে, এই আলোচনার বিশ্লেষণ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, একজন মুসলিম মায়ের ভূমিকা শুধু রান্নাঘরের বা চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি গোটা উম্মাহর নির্মাতা। অ্যাকাডেমিক জ্ঞানার্জনের গুরুত্বকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না, তবে সেই জ্ঞান অবশ্যই হালাল শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত হতে হবে। সার্টিফিকেট বা জিপিএ অর্জনের চেয়েও অনেক বেশি জরুরি হলো, সন্তানের মনে শিষ্টাচার, নৈতিকতা এবং আল্লাহর ভয়কে গেঁথে দেওয়া। আধুনিকতার নামে যখন আমাদের পরিবারে নৈতিকতার ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, তখন মাকে অবশ্যই তার নিজের জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে সন্তানের ভিত্তি মজবুত করতে হবে।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا قُوۡۤا اَنۡفُسَكُمۡ وَ اَهۡلِیۡكُمۡ نَارًا وَّ قُوۡدُهَا النَّاسُ وَ الۡحِجَارَۃُ
“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।” (সূরা আত-তাহরীম, আয়াত ৬)। এই আয়াতটি স্পষ্ট করে দেয়, পরিবার- বিশেষত মায়ের ভূমিকা- আখিরাতের মুক্তি অর্জনের অন্যতম উপায়।
বিলাসিতা নয়, ইহসান (উত্তম আচরণ) এবং আখিরাতের (পরকালের) প্রস্তুতিই হোক আমাদের প্যারেন্টিংয়ের মূলমন্ত্র। কারণ, মায়ের সামান্য ধৈর্য ও প্রচেষ্টা যেমন একটি আলোকিত প্রজন্ম উপহার দিতে পারে, তেমনই সামান্য অবহেলা পরবর্তী প্রজন্মকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে দিতে পারে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রত্যেক মুসলিম মাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন ও প্রস্তুত হতে হবে। এই বাস্তবতায় প্রত্যেক মায়ের উচিত নতুনভাবে আত্মসমালোচনা করা- নিজেকে প্রশ্ন করা, আমি কতটা প্রস্তুত আমার সন্তানকে আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল মায়েদের জ্ঞান, ধৈর্য ও ঈমানের আলোয় সন্তানদের প্রতিপালনের তাওফিক দিন। যেন আমরা আধুনিকতার ঝলক নয়, বরং আখিরাতের আলোর পথে চলার উপযুক্ত প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি। আমিন।
– ডা. তানজিনা রহমান, সমাজ চিন্তক, কনসালটেন্ট, সনোলজিস্ট।
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ








