Home লাইফ স্টাইল কিডনি দিবস: কিডনি রোগীর জীবন-যুদ্ধের বাস্তব গল্প

কিডনি দিবস: কিডনি রোগীর জীবন-যুদ্ধের বাস্তব গল্প

।। রহিমা আক্তার মৌ ।।

এই ওয়ার্ডে ৬ টি বেড, ৬ টি জীবন আর কয়েকটি লড়াইয়ের গল্প। কারো ক্রিয়েটিন ৩ কারো ৮। কারো স্বাসকষ্ট, কারো শরীরে পানি। আর আমার প্রিয় বড় (একমাত্র) বোন কিডনি পরিবর্তন করেছে ১২ বছর আগে। কিডনির সাথে ওর যুদ্ধ ১৯৯৮ সাল থেকে। আজ ৯ মার্চ ২০২১, লিখছি কিডনি ফাউন্ডেশন এর এক মহিলা ওয়ার্ডে বসে। এই ওয়ার্ডে মোট ৬ জন মা, বোন, খালারা আছেন।

১ নং বেডে অসুস্থ্য মা কে নিয়ে এসেছে মেয়ে আর জামাতা। তিনি ১৫ বছর থেকে ডায়ালসিস করে আসছেন, এখন এই শরীরে ডায়ালসিস আর নিতে পারছেন না। ডায়ালসিস শুরু করলেই কাঁপতে থাকে শরীর। হাত পা ফোলা, ব্যাথা অনেক, চামড়া কালো হয়ে গেছে। ২ নং বেডে অসুস্থ্য ভাবীর সাথে আছে ননদ, চলছে ডায়ালসিস। উনাকে নিয়ে লিখছি তখনি এক ওয়ার্ড বয় এসে হুইল চেয়ারে করে নিয়ে যায় উনাকে ডায়ালসিস রুমে।

৩ নং বেডে দুদিন আগে এসেছিল ক্রিয়েটিন ৮ নিয়ে এক বোন, সাথে এসেছে রোগীর ছোট বোন। ডাক্তার বলেছে ডায়ালসিস করতে হবে, পিস্টুলা করতে হবে। কিন্তু… অতঃপর ডাক্তার বললেন, আপনার পরিবারের সাথে আলাপ করেন, পিস্টুলা করবেন কিনা। করলে শুরু করা হোক আর না করলে রিলিজ নিয়ে চলে যেতে পারেন।

গতকাল ৮ মার্চ দুপুরে পরিবারের লোকেরা উনাকে নিয়ে যান সেই গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে। যাবার সময় অশ্রুঝরা চোখে শুধু বললেন, দোয়া করবেন। জানি চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারবেন না হয়তো তাই নিয়ে গেলেন। এই ভাবে হয়তো জীবনের সাথে লড়াই করতে করতে একদিন…।

৪ নং বেডে এসেছে আমাদের আগে। কিডনি সমস্যা। কিডনির অবস্থা দেখতে বায়োপ্সি করানো হয়। অসুস্থ্য মায়ের সাথে ছেলে আছে, আসা যাওয়ায় আছে মেয়ে আর বোন। অতিরিক্ত উচ্চ রক্তচাপ উনার, এসেছেন পাবনা থেকে। রিলিজ নেয়া নিয়ে রোগী ও রোগীর ছেলের মাঝে দ্বিমত হয় কিছুটা।

৫ নং বেডে এসেছেন এক বয়স্ক মা, সাথে ছেলে আছে। আগে উনার তিনটা অপারেশন হল, এখানে এসেছে আমরা আসার পরপরই। পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। আমি খালাম্মা বলে ডাকি, গ্রাম থেকে আসা খালাম্মা সবার সাথে ভাব করে নেন অল্প সময়ে। বয়স্ক হলেও কাজে টিপটাপ, সুযোগ পেলেই গ্রামের গল্প করেন। নিজের অল্পবয়সের কাজের গল্প শুনান। ঢেঁকিতে পার দিয়ে ধান ভাঙ্গার গল্প থেকে অনেক গল্প। বলেন, “এই পেটে তিনটা অপারেশন আছে, পেটটা পুরা ঝাঁঝরা করে দিয়েছে।”

[ ২ ]

৬ নং বেডে আমার প্রিয় বড়বোন। মাত্র এক বছর এগারো মাসের বড় নাজমা আপা। লেখালেখি জীবনে ওকে নিয়েও আমি অনেক লিখেছি, তবে কিডনি সমস্যা যে ওর তা নিয়ে তেমন লেখা হয়নি। ১৯৯৮ সালে প্রথম সমস্যা ধরা পড়ে। ২০০৯ সালে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। ২০১৯ সালের শেষের দিকে সেই নতুন কিডনিও ডেমেজ হতে শুরু করে। ২০২০ সালের মধ্যের ৬ মাস করোনার কারণে সে ভাবে ডাক্তার দেখানো বা পরীক্ষানিরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ২০২০ সালের শেষ দিকে ডাক্তার ডায়ালসিস এর কথা বলে। ওর হিমোগ্লোবিন কম থাকায় ডাক্তার সিএপিডি (মানে পেটে ক্যাথেডার করে স্যালাইন জাতীয় ওষুধের মাধ্যমে ৮ ঘন্টা পর পর ডায়ালসিস করা।

সেভাবে ১৩ ফেব্রুয়ারি হাসপাতলে ভর্তি হয়। কথা হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি পেটে সেই ক্যাথেডার পরানোর অপারেশন হবে। সেই অপারেশন এর জন্যে রোগীকে প্রস্তুত করতে গিয়ে দেখা যায় ওর পেটের পিত্তথলেতে একটা ছোট পাথর। আর যে কিডনি লাগানো হয়েছিল ২০০৯ সালে তা কার্যকারীতা পুরাই হারিয়েছে। ডাক্তারের ভাষায় বলল কিডনি রিজেক্ট করেছে। তলপেটে ব্যাথা আছে বলে পেট দিয়ে ক্যাথেডার মাধ্যমে ডায়ালসিস করা যাবে না। অন্যদিকে ক্রিয়েটিন ১২+ হয়ে গেছে। জরুরী ভাবে ১৪ ফেব্রুয়ারি গলায় ক্যাথেডার করিয়ে ডায়ালসিস শুরু হয়। পিস্টুলা করা হবে কি হবেনা করতে করতে ২৬ ফেব্রুয়ারি পিস্টুলা করা হয়।

২৭ ফেব্রুয়ারি ওকে বাসায় নেয়া হয়। সাপ্তাহে দুদিন করে ডায়ালসিস চলছে। ৩ মার্চ ডায়ালসিস করার সময় রক্তচাপ কমতে থাকে। এক পর্যায়ে ৪০-৯০ হয় রক্তচাপ। দুই ঘন্টায় ডিম দুধ খাইয়ে একটু স্বাভাবিক হয়। ৪-৬ মার্চ শরীর তেমন ভাল ছিল না।

সিডিউল অনুযায়ী ৭ ফেব্রুয়ারি ডায়ালসিস দিতে নিয়ে আসি। ডায়ালসিস শুরুর ১৫ মিনিট পর শরীর কেঁপে প্রচন্ড জ্বর। কিন্তু ডায়ালসিস চলছে। ৪/৫ টা কম্বল গায়ে দেয় ওর। কিন্তু এমন শরীরে ডায়ালসিস দেয়া ঠিক হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। দুপুর ১২’৩০ মিনিটে শুরু হওয়া থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত আমার বোন জীবনের সাথে লড়াই করে। অনেক অনেক অনুরোধ করে ওয়েটিংরুম এ থাকা আমাকে একটু ডেকে দেয়ার জন্যে। কিন্তু ডাকেনি। ৪’১৫ মিনিটে দেখলাম দ্রুত একটা হুইল চেয়ার আসলো আর লিফটে তুললো। বোনকে বসা দেখে আমি দ্রুত দৌড় দিই। ইমার্জেন্সিতে নিতে বলল। নিলাম। পালস তখন ১৪৫, দ্রুত অক্সিজেন দেয়। জরুরী বিভাগের ডাক্তার দেখার পর একজন কনসালটেন্ট দেখাতে বলেন। আমি তাই করি। কনসালটেন্ট পুরো বিষয় জানার পর ভর্তির কথা বলেন। সে ভাবেই ৭ মার্চ সন্ধ্যায় ভর্তি করাই।

আরও পড়তে পারেন-

বিশ্ব জনগোষ্ঠীর প্রতি ১০ জনে মাঝে একজন কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কিডনি রোগের এ প্রকট অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত হয়ে থাকে প্রতিবছর। মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস। কিডনি রোগ মানবজাতির পঞ্চম মৃত্যুর কারণ এবং স্বাস্থ্য খাতের ২ থেকে ৩ শতাংশ বরাদ্দ এ রোগের জন্য ব্যয় হয়ে থাকে। বাস্তবতা হচ্ছে, নিম্ন আয়ের দেশে শতকরা ৮০ ভাগ কিডনি রোগী কিডনি ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজন থেকে বঞ্চিত। জনগণের সচেতনতা সঙ্গে ডাক্তার, সেবিকা ও জনস্বাস্থ্য সেবার সঙ্গে জড়িত স্বাস্থ্যকর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কিডনি রোগের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা এ দিবসের লক্ষ্য।

[ ৩ ]

“আন্তর্জাতিক কিডনি ফাউন্ডেশন ফেডারেশন এবং আন্তর্জাতিক নেফরোলজি সোসাইটির উদ্যোগে ২০০৬ সালের পর থেকে প্রতি বছর মার্চ মাসে দ্বিতীয় সপ্তাহে বৃহস্পতিবার কিডনি দিবস পালিত হচ্ছে। কিডনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি রোগ কখনও আগাম জানান দিয়ে আক্রমণ করে না। তাই, কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে জানা এবং এ জন্য নিয়মিত পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। কিডনির রোগ প্রতিরোধযোগ্য। এ জন্য প্রয়োজন সচেতনতা। প্রাথমিক অবস্থায় এ রোগের কারণ নির্ণয় করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে কিডনি বিকল হওয়া প্রতিরোধ করা যায়।

এক জন কিডনি রোগী তার শরীরের দু’টি কিডনিই যখন ৬০ থেকে ৭০ ভাগ বিকল হয়ে পড়ে তখনই তিনি এ রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন। এ কারণে রোগ ধরা পরার পর রোগী চিকিৎসার জন্য খুব কম সময়ই পান। দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমূল্যের ডায়ালিসিস করানোর মাধ্যমে কিডনিকে সচল রাখা যায়। তবে এর খরচ ব্যয়বহুল। ডায়ালিসিস এবং প্রতিস্থাপন ব্যয়বহুল হওয়ায় বেশির ভাগ রোগীর পক্ষেই এর চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় না।

এ ছাড়া কিডনি পাওয়া সাপেক্ষে কিডনি প্রতিস্থাপনের খরচ কমবেশি হলেও ৫-৭ লাখ টাকা এবং পাশাপাশি সারা জীবন ওষুধের খরচ চালাতে হয়। বিশ্বব্যাপী কিডনি রোগীর সংখ্যা এবং এর কারণে মৃত্যুর সংখ্যা সঠিক ভাবে গণনা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। কারণ এক জন রোগী হৃদরোগে মারা গেলে তাকে হৃদরোগী ধরা হয়, কিডনির জন্য হৃদরোগের কারণ ধরা পড়ে না। অনেকেরই কিডনি ধীরে ধীরে বিকল হয়ে পড়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনও উপসর্গ থাকে না। ফলে রোগীরা বুঝতে পারে না এ রকম একটি ভয়াবহ রোগ তার শরীরে বাসা বেঁধেছে।

যাঁদের ডায়াবেটিস আছে অথবা যাঁদের পরিবারে ডায়াবেটিস আছে, যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ আছে বা পরিবারের কারও কিডনি সমস্যা আছে, তাঁদের বছরে অন্তত এক বার কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিডনি অকার্যকর হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো ডায়াবেটিস, নেফ্রাইটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে জীবাণুর আক্রমণ, সিসটিক ডিজিজিস, বিশৃঙ্খল জীবনযাপন। আর ভেজাল ও কৃত্রিম খাবারের এ যুগে বড় একটি সমস্যা হল কিডনিতে পাথর। রক্তের ইউরিয়া ক্রিয়েটিনিন লেভেল পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাম ইত্যাদির মাধ্যমে কিডনি সমস্যা পরীক্ষা করা যায়। রোগ ধরা পড়লে নিয়ম অনুযায়ী চলাফেরা ও খাওয়া-দাওয়া করলে সুস্থ থাকা যায়। দৈনিক ৮-১০ গ্লাস জল পান করা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা, নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম করার মাধ্যমে কিডনি রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। মনে রাখতে হবে কিডনিকে সুস্থ রাখতে হলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।” (তথ্যসূত্র- দৈনিক সংবাদ)।

সাবেক পরিচালক ও অধ্যাপক, কিডনি বিভাগ, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি এর ডা. শামীম আহমেদ বলেন, “যারা ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, বংশগত কিডনি রোগ, কিডনির ক্ষতিকারক ওষুধ, হারবাল ওষুধ, নেশার জন্য ওষুধ, স্থানীয় কবিরাজি ওষুধ গ্রহণ করে এবং যাদের স্বাস্থ্য ইতিহাসে কিডনি অকেজো হয়েছিল এবং যাদের বয়স ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে- তাদের কিডনি রোগ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়া অন্যান্য ঝুঁকি অর্থাৎ কম ওজনের নবজাতক শিশু, ধূমপায়ী, শরীরে বিভিন্ন রকমের প্রদাহ রয়েছে যাদের, তারাও কিডনি রোগের ঝুঁকি বহন করে।

একজন সচেতন মানুষ হিসেবে আপনাকে কিডনি রোগ প্রতিরোধে কিছু নিয়ম মানতে হবে এবং জানতে হবে। যেমন- ১. ডায়াবেটিস নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ, ২. উচ্চরক্তচাপ নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ, ৩. শরীরের স্থূলতা কমানো, ৪. নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করা, ৫. টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল গ্রহণ, ৬. খাদ্যে অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার পরিহার করা, ৭. সঠিক পরিমাণে পানি পান করা, ৮. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন না করা, ৯. ব্যথানাশক ও ক্ষতিকারক ওষুধ পরিহার করা, ১০. ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকা, ১১. সর্বোপরি ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা। (তথ্যসূত্র- দৈনিক যুগান্তর, ১২ মার্চ ২০২০)।

কিডনি রোগের ভয়াবহতা ক্রমাগত বেড়েই চলছে। কিডনি অকেজো রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল যা ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের প্রায় শতকরা ৩ ভাগ কিডনি রোগের চিকিৎসা, ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজন ক্ষেত্রে ব্যয় হয়। পরিসংখ্যান বলে বিশ্বের প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে ধীরগতিতে আক্রান্ত কিডনি রোগীরা কোনো দিন কিডনি কার্যক্ষমতা ফিরে পায় না, বরং ধীরে ধীরে সময়ের ব্যবধানে কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় এবং একপর্যায়ে ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজন স্তরে পৌঁছায়। তখন ওষুধের মাধ্যমে রোগীকে বাঁচানো যায় না। কিডনি রোগ শুধু হার্ট ও মস্তিষ্কের রোগের ঝুঁকি বহন করে না, এটা শরীরে ইনফেকশন ও টিবি রোগের ঝুঁকিও বহন করে।

লেখক: সাহিত্যিক, কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক। ইমেইল- [email protected]

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।