Home প্রবন্ধ-নিবন্ধ রোহিঙ্গা সংকট ও করিডোর রাজনীতি: বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা না বিপদ?

রোহিঙ্গা সংকট ও করিডোর রাজনীতি: বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা না বিপদ?

।। মাহমুদুল হাসান মারুফ ।।

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা “তৌহিদ হোসেন” গত ২৭ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন; “মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের জন্য শর্ত সাপেক্ষে মানবিক করিডর দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে”।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার “নীতিগতভাবে” এই প্রস্তাবে সম্মত হওয়ায় দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

(প্রাথমিকভাবে অন্তর্বর্তী সরকার “নীতিগতভাবে” রাজি হলেও, পরবর্তীতে এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে কঠোর শর্তারোপ করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান পরবর্তীতে বলেন “কোনো করিডোরের সম্ভাবনা বাতিল করে দেন”, জোর দিয়ে বলেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার “কোনো পক্ষের সাথে এমন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেনি বা করার ইচ্ছা নেই”।)

এবিষয়ে আলোচনাকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা হবে।

১. মানবিক করিডোরে কী?

ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি) এর পরিচালিত সেবা সংস্থার প্রচলিত সংজ্ঞা অনুযায়ী মানবিক করিডর হচ্ছে ; একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিরাপদ চলাচলের পথ, যা নিয়ে সংঘর্ষরত পক্ষগুলোর মধ্যে চুক্তি হয়। এই করিডর নাগরিকদের যাতায়াতসহ ইমার্জেন্সি সময়ে মানবিক সহায়তা দিতে বা আহত, অসুস্থ বা মৃত মানুষদের সরিয়ে নিতে সহায়ক হয়।

২. মিয়ানমার করিডোর কি?

বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডোর বলতে বোঝায়- একটি প্রস্তাবিত যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক পথ যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরাসরি সড়ক, রেল বা জলপথে সংযুক্ত হতে পারে — মূলতঃ বৃহত্তর আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত ও রাজনৈতিক উন্নতির উদ্দেশ্য। এবং যার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি করা হবে। বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে থাইল্যান্ড, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলার একটি অংশ হবে। চট্টগ্রাম/কক্সবাজার – টেকনাফ – মংডু (মিয়ানমার) রোড হবে। এ রুটটি ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য সহজে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রপ্তানি করা সম্ভব হতে পারে।

তাছাড়া বিমসটেক ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ ( মূলরুপ হচ্ছে, BIMSTEC (Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation) এর এক্টভিটির দ্বারা এই করিডর আঞ্চলিক উদ্যোগগুলোর অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৩. মিয়ানমার করিডোরের উদ্দেশ্য

প্রস্তাবিত মানবিক করিডোরটি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করবে । এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হলো সামরিক জান্তা বাহীনিসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র গোষ্ঠী (যেমন আরাকান আর্মি ইত্যাদি)র নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিপর্যস্ত মানুষের দ্বারে মানবিক সহায়তা (যেমন খাদ্য, ঔষধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী) পৌঁছে দেওয়া। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন লঙ্ঘিত হলে বা জনগণ অত্যাবশ্যকীয় সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে এই করিডোরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

৪. যুক্তরাষ্ট্রের অপচেষ্টা

জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও পরিপূর্ণভাবে মিয়ানমার করিডোর গঠনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কারণ হিসেবে দর্শানো হয়েছে; ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট।

আদতে যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যের ন্যায় দক্ষিণ এশিয়ায় অঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের কৌশলগত স্বার্থ উদ্ধারের অপচেষ্টা।

দীর্ঘদিন ধরেই (জঙ্গি) যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ার এঅঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কূটনৈতিক অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। মিয়ানমারে প্রস্তাবিত এই মানবিক করিডোরের আড়ালে ডঃ ইউনুসকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘Burma Unified through Rigorous Military Accountability Act of 2022’ বা BURMA Act স্থায়িত্বের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের জান্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রয়োগ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ একটি দ্বৈত কৌশল , গণতন্ত্রের পক্ষে সমর্থন, এবং মানবাধিকার রক্ষায় সহায়তা করার অলীক স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

৫. বিশ্বজুড়ে করিডোর

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময় প্রয়োজনের তাগিদে করিডোর স্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু কোনটি যথাযথ উপকারে আসেনি। যেমন, জার্মানি থেকে যুক্তরাজ্য ইহুদি শিশুদের উদ্ধারে ১৯৩৮-১৯৩৯। জার্মানিতে খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহে ১৯৪৮-১৯৪৯। জাতিসংঘের ইরাক নিষেধাজ্ঞায় ১৯৯০-২০০৩ । বসনিয়াতে বেসামরিক সুরক্ষায় ১৯৯৩। ইরাকি কুর্দিস্তানে সামরিক ব্যবহার প্রতিরোধে ১৯৯১-১৯৯৬। সোমালিয়াতে দুর্ভিক্ষ, ত্রাণ, শান্তিরক্ষায় ১৯৯২-১৯৯৫। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে যেমন ”ঘুতা” অঞ্চলে ২০১৮। মারিউপোল ও ভলনোভাখাতে ২০২২ সহ এলাকায় বিভিন্ন প্রয়োজন দেখিয়ে তারা সেনা মোতায়ন করে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবতার দোহাই দিয়ে পশ্চিমারা তাদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে (আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ) এবং সেখানকার সার্বভৌমত্ব ‍ছিনিয়ে নেয়ার নজীর অনেক রয়েছে। চালিয়েছে গণহত্যা, নির্যাতন লুটতরাজ সহ মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড। তারা বিশ্বজুড়ে মুসলিম নিধণের মিশনে নেমেছে। এবং মুসলিম নেতাদের উদাসিনতার ফলে সফলতাও তাদের হাতছানি দিয়েছে। ইতপূর্বে সিরিয়া, সোমালিয়া সহ বিভিন্ন অঞ্চলেও তারা এমন নৃসংসতা চালিয়েছে। আফগানিস্তানে কয়েক লক্ষ মুসলমানকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বাদ পড়েনি বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর মুয়াম্মার গাদ্দাফী ও তার ভূমিও।

আরও পড়তে পারেন-

আরাকানে মুসলিম নিধন শুরু হওয়ার ফলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি স্বদেশ ত্যাগ করা শুরু করে। বাংলাদেশ প্রায় ১৬ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। এই করিডোর নীতির মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে পৌঁছানোর কথা বলা হলেও বরং শরণার্থীদের প্রবাহ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা বাংলাদেশের সাময়িক আশ্রয় নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য এই করিডোরকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখাতে চাচ্ছে। অথচ বাস্তবতা হলো, মানবিক করিডোরের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং এতে দেশের সার্বভৌমত্বই বিপদের মুখে পড়তে পারে।

দেশের আলেম সমাজ, -বিশেষ করে “হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ”- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে বারবার সতর্ক বার্তা দিচ্ছে; “মানবিক করিডোরের নাম দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিবেন না। বাংলাদেশ কোনো আগ্রাসনের অংশ হতে চায় না। কারণ তারা মনে করেন, এটা “ট্রোজান হর্স” তথা মাানবতার দোহায় দিয়ে হস্তক্ষেপের কৗশল মাত্র। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) ও আলেমদের সাথে একমত পোষণ করেন।

৬. মূলত এদের উদ্যেশ্য কী?

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদরা মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশাধিকার অর্জনের চেষ্টা করছে।

যদিও এই করিডোর একটি মানবিক উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে, এবং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির কারণে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততাও আছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করেন, এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য; সম্ভবত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের ক্রমান্বয়ে বর্ধমান প্রভাব বিস্তারের মোকাবিলা করে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী করা। এবং যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা বিশ্বের জন্য বাংলাদেশ-মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশাধিকার ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী তাদের হস্তক্ষেপের অধিকার বাস্তবায়ন করা।

অপরদিকে রাখাইন রাজ্যে চীনের বিশাল অবকাঠামো বিনিয়োগ রয়েছে, যার মধ্যে “কিয়াউকপি” গভীর সমুদ্রবন্দর এবং “কুনমিং” পর্যন্ত তেল/প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন অন্যতম । এই “বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ” (বিআরআই) প্রকল্পগুলো চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং ভারত মহাসাগরে প্রবেশাধিকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এছাড়াও বেইজিংয়ের প্রাথমিক স্বার্থ হলো তার অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলো রক্ষা করা, এবং মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, যা একমাত্র জান্তাকে সমর্থন করার মাধ্যমে হয়। অতএব যদি ভিনদেশী পরাশক্তির অনুপ্রবেশ ঘটে তাহলে চীন তাদের একচ্ছত্র রাজত্ব হারাবে। এজন্যই চীনা বিশ্লেষকরা মানবিক করিডোরটিকে “পশ্চিমা শক্তিগুলোর জন্য কৌশলগত প্রবেশপথ” এবং “চীনের সামুদ্রিক সিল্ক রোড উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ঘিরে ফেলার একটি পশ্চিমা কৌশল” বিবেচিত হতে পারে বলে মনে করেন। পাশাপাশি নিজেদের জন্য হুমকিও মনে করেন।

এছাড়াও অনেকেই মনে করেন, বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় সাম্প্রতিক পরিবর্তন ( ডঃ ইউনুসের আগমন) যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থরক্ষা ও অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৭. দেশের জন্য ক্ষতির দিক!

দেশের ক্ষতির বিভিন্ন দিক আছে। আমি দু”একটা উল্লেখ করার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।

করিডোরগুলো সামরিক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহারের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি বহন করে, যেমন অস্ত্র, জ্বালানি বা এমনকি গোয়েন্দা তথ্য পাচার ইত্যাদি।

বিদেশি নিয়ন্ত্রিত একটি তথাকথিত মানবিক করিডোর চালু হলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের সার্বভৌম ভূখণ্ডে -বিশেষ করে টেকনাফ ও কক্সবাজার অঞ্চলে- অবাধে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি পেয়ে যাবে। এটি ভবিষ্যতে মানবিক সহায়তার বাইরেও বিদেশি হস্তক্ষেপের নজির স্থাপন করতে পারে, যা একটি বড় সার্বভৌমত্বের হুমকি।

এই করিডোর যদি আন্তর্জাতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে একটি দেশের অভ্যন্তরেই আন্তর্জাতিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হবে, তাছাড়া যদি এই করিডোর সশস্ত্র বিদেশি বাহিনী, অথবা বিদ্রোহী আরাকান আর্মি এর মতো অনিরাপদ গোষ্ঠীর মাধ্যমে পাহারা দেয়া‌ হয় তাহলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ হারানোর পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত সম্পৃক্ততা দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানবে।

মিয়ানমারের সঙ্গে উভয় পক্ষের সম্পর্কের অবনতি হলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জনজীবন অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। বিশেষ করে টেকনাফ-উখিয়া সীমান্ত অঞ্চলে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। এতে রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে থাকার বৈধতা তৈরি করতে পারে যা বাংলাদেশের নীতির পরিপন্থী।

৮. রাষ্ট্রের করণীয়!

এক্ষেত্রে স্বয়ং রাষ্ট্রের উচিত হবে নিজের সেনা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কোনভাবেই বিদেশী স্বার্থে নিজেদের নিরাপত্তা বিসর্জন না দেওয়া। এবং জনসাধারণের সাথে যোগাযোগ করা, সাহায্য দেয়া হবে করিডোর নয় এই নীতির উপর অটল থাকা, নিরাপত্তা যাচাই, সশস্ত্র প্রহরী নিষিদ্ধ, জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে সম্পৃক্ততা এড়ানো সহ বিভিন্ন প্রকার কঠোর শর্তারোপের পাশাপাশি বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সাথে সংলাপ, মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন, শরণার্থী শিবিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমোঝতা করা।

৯. আমাদের করণীয়!

এবং আমাদের উচিত, অবিচল অঙ্গীকার, স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ সহ সব ঘরণার রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি জাতীয় কণ্ঠস্বর গড়ে তোলা, যাতে আমরা বিদেশি প্রভাব ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারি।

অতএব বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ, সক্রিয়,ও বহুপাক্ষিক কূনৈতিক সম্পর্কে জড়িত থাকতে হবে, যা তার সীমারেখা ও উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। আর এমন একটি সতর্কতা ও কৌশলগত অবস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা রক্ষা করার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারবে এবং আঞ্চলিক ক্ষমতা গতিশীলতার খেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ গুটি এড়াতে পারবে, যার ফলে জনগণ ও দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।

লেখক: উচ্চতর হাদিস গবেষণা বিভাগ (২য় বর্ষ), আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।