কল্যাণময় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও আদর্শ সমাজ গঠনে ইমামদের ভূমিকা অপরিহার্য বলে মত দিয়েছেন জাতীয় ইমাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ। শনিবার (৪ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত “কল্যাণময় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইমামদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভায় এই মতামত ব্যক্ত করা হয়।
সভায় দেশের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-খতিব ও শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম অংশ নেন। জাতীয় ইমাম পরিষদের সভাপতি মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিষদের মহাসচিব মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন।
বক্তারা বলেন, নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাতের পাশাপাশি ইমাম ও খতিবগণ সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা ও অপরাধবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তারা খুতবায় সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, মাদক, নারী-শিশু নির্যাতন ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে মানুষকে সতর্ক করছেন। পাশাপাশি প্রতিটি মসজিদে সকালের মক্তব পরিচালনার মাধ্যমে নিরক্ষরতা দূরীকরণেও তারা অবদান রাখছেন।
সভাপতির বক্তব্যে মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহিয়া বলেন, “দেশ ও জনগণের পক্ষে জীবন উৎসর্গ করে মেহনত করা ইমামগণ আজ অবহেলিত। তারা সীমাহীন অভাব-অনটনের মধ্যেও সমাজে আলোকিত ভূমিকা রাখছেন। অথচ দেশের প্রায় তিন লাখ খতিব-ইমামের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই।”
আরও পড়তে পারেন-
- আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে ইসলামের ভূমিকা
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন হুমকির মুখে না পড়ে
- সমৃদ্ধ জাতি নির্মাণে দরকার বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ ও আলেমদের এগিয়ে আসা
- সালাম-কালামের আদব-কায়দা
- বিবি খাদিজা (রাযি.): ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নারী
তিনি ইমামদের সচ্ছল জীবনযাপনের জন্য সরকারি পর্যায়ে তাৎক্ষণিক ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
মুফতি তাজুল ইসলাম আশরাফী বলেন, ইমামগণ সমাজের নৈতিক দিশারি। তারা শুধু ইবাদতের আহ্বান জানান না, বরং জনগণকে সত্যনিষ্ঠা, ন্যায়বিচার ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পথে পরিচালিত করেন। আদর্শ কল্যাণময় রাষ্ট্র গঠনে ইমামদের এই ভূমিকা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও সহযোগিতা পাওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, মুফতি তাজুল ইসলাম আশরাফী, আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রহমান, মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা ড. শহীদুল ইসলাম ফারুকী, মাওলানা শাঈখ উসমান গণী, মুফতী সুলতান মহিউদ্দিন, মাওলানা রাশেদ বিন নূর, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী, মুফতী ফয়জুল্লাহ বিন মুখতার, মুফতী ওমর ফারুক যুক্তিবাদী, মুফতী মুহাম্মদুল্লাহ নোমানী, মুফতী আমানুল্লাহ বসন্তপুরী, মুফতী সালীমুল্লাহ খান সালীম, মুফতী সাইফুল্লাহ নোমানী, মাওলানা আব্দুল গাফফার, মাওলানা শহীদুল ইসলাম, মাওলানা শফীউদ্দীন জিহাদী ও মাওলানা কামাল উদ্দীন নোমানী প্রমুখ।
সভায় বক্তারা ইমামদের মর্যাদা ও জীবিকা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা বাড়ানো এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সমাজ সংস্কারে ইমামদের ভূমিকা আরও সুসংগঠিত করার আহ্বান জানান।
উম্মাহ২৪ডটকম: িএমএ








