বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, দেশের ব্যাংক খাত এখন যোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও দক্ষ সিনিয়র নেতৃত্বের ঘাটতিতে ভুগছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট একদিনে তৈরি হয়নি; দীর্ঘদিনের দুর্বল শাসন, রাজনৈতিক প্রভাব ও নৈতিক অবক্ষয়ের ফলেই ব্যাংকিং খাত আজ আস্থাহীনতার মুখে পড়েছে।
নেতৃত্ব সংকটের মূল কারণ
দীর্ঘমেয়াদি অনিয়ম, অদক্ষ বোর্ড, দুর্নীতি ও যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্যের প্রাধান্য ব্যাংকিং খাতকে দুর্বল করেছে। বোর্ডপর্যায়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে এমডি ও সিনিয়র কর্মকর্তাদের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে মেধাবীরা নেতৃত্ব থেকে সরে গেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ নীতিমালা থাকলেও তা বাস্তবায়নে শৈথিল্য, বিলম্বিত সিদ্ধান্ত ও নরম শাস্তি দুর্নীতিবাজদের সাহস জুগিয়েছে। এর ফলে নেতৃত্ব বিকাশ ব্যাহত হয়েছে, আর নেতৃত্বের পাইপলাইন আজ প্রায় শূন্য।
পরিবর্তনের ইঙ্গিত
অন্তর্বর্তী সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংকের বোর্ড পুনর্গঠন করেছে। এটি দীর্ঘদিনের অরাজকতা থেকে সুশাসনের দিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়তে পারেন-
- আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে ইসলামের ভূমিকা
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন হুমকির মুখে না পড়ে
- সমৃদ্ধ জাতি নির্মাণে দরকার বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ ও আলেমদের এগিয়ে আসা
- সালাম-কালামের আদব-কায়দা
- বিবি খাদিজা (রাযি.): ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নারী
করণীয়
- বোর্ড গঠনে যোগ্যতা ও নৈতিকতা নিশ্চিত করা
- মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব নির্বাচন
- ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে জবাবদিহিমূলক কাঠামো
- নেতৃত্ব বিকাশে বিনিয়োগ
- বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও দৃঢ়তা বজায় রাখা
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এসব উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত পেশাদার, নৈতিক ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নতুন আস্থার যুগে প্রবেশ করতে পারবে।
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ








