প্রশ্ন: আমি দুই বছর ধরে অনলাইনে রি-সেলার হিসেবে কাজ করছি। ছাড়ে পণ্য কিনে পরে দোকান বা লোকাল ক্রেতার কাছে বিক্রি করাই আমার মূল কাজ। সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন কোম্পানিটি অনেক সময় পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হচ্ছে। তখন তারা বাজারমূল্যের সমপরিমাণ টাকার চেক দেয়—তবে দুই-তিন মাস পরের তারিখে। অর্থাৎ, পণ্যের বদলে বেশি মূল্যের চেক দিলেও টাকা উঠাতে দেরি হয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—একটি পণ্যের বাজারমূল্য ৫ টাকা, কোম্পানি ৩ টাকায় দিচ্ছে, আর আমি তা পরে ৪–৪.৫ টাকায় বিক্রি করি। কিন্তু পণ্য না দিলে তারা ৫ টাকার চেক দেয়, যার তারিখ আবার সামনের দুই-তিন মাস পর। অর্থাৎ, বাজারে সরাসরি বিক্রি করলে টাকা সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যেত, কিন্তু চেকে লাভ একটু বেশি হলেও টাকা হাতে পেতে সময় বেশি লাগছে।
আমি কয়েকবার ইচ্ছাকৃতভাবেও এই অতিরিক্ত টাকার চেক নিয়েছি। এ পর্যায়ে আমি জানতে চাই— এই চেকের অতিরিক্ত টাকা কি হালাল? যদি হারাম হয়, তাহলে আমার করণীয় কী? মূলধনে হারাম মিশে থাকলে তার সমাধান কী? ব্যাংকে লেনদেন করতে গিয়ে যে ইন্টারেস্ট পাওয়া যায়—সেক্ষেত্রে কী করা উচিত?
– মুহাম্মদ তাওসিফ, রামু, কক্সবাজার।
শরীয়তের আলোকে ফতোয়া
অগ্রিম মূল্য দিয়ে পরবর্তী সময়ে পণ্য সরবরাহের চুক্তিতে বিক্রেতা পণ্য দিতে ব্যর্থ হলে তাকে শুধু ক্রেতার মূল টাকা ফেরত দিতে হবে। বাড়তি অর্থ দেওয়া বা নেওয়া শরিয়তসম্মত নয়। প্রশ্নে আপনার বর্ণনা অনুযায়ী কোম্পানি আপনাকে যে বাজারমূল্যের চেক দিয়েছে— যা আপনার দেওয়া মূল টাকার চেয়ে বেশি; এই অতিরিক্ত অর্থ/টাকা আপনার জন্য হালাল নয়। এ টাকার প্রকৃত মালিক কোম্পানি।
আপনার কর্তব্য হলো— যতবার এ ধরনের লেনদেন হয়েছে, প্রতিবারের অতিরিক্ত টাকা হিসাব করে কোম্পানিকে ফেরত দেওয়া। আর যদি সেই অতিরিক্ত টাকায় ব্যবসা করে থাকেন, তাহলে মুনাফার পরিমাণ সওয়াবের নিয়ত ছাড়া যাকাতপ্রাপ্যদের মধ্যে বণ্টন করবেন এবং মূল অতিরিক্ত টাকা মালিককে ফেরত দিবেন । এতে আপনার মূলধন হারাম থেকে মুক্ত হবে, ইনশাআল্লাহ। যেহেতু ঘটনাগুলো সংখ্যায় কম, হিসাব বের করা কঠিন হবে না।
ব্যাংকিং লেনদেন যদি অপরিহার্য হয়, তবে কারেন্ট একাউন্ট ব্যবহার করুন। কোনো কোনো ব্যাংক কারেন্ট একাউন্টেও সুদ বা ইন্টারেস্ট জমা করে— সে ক্ষেত্রে ব্যাংকের কাছ থেকে মূল টাকা ও সুদ আলাদা করে নিয়ে সুদের টাকা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া যাকাতযোগ্য গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিবেন।
তথ্যসূত্র: সূরা বাকারা ২৭৫; সুুনান আবু দাউদ ৩৪৬৯; হিদায়া ৩/৫২; বাদায়িউস সানায়ে ২/৫৯৪; আর্দ্দুরুল মুখতার ৭/৪৮৩)।
ফতোয়া দিয়েছেন- আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.)
মুফতি, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও সহকারী পরিচালক-
জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ
উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com








