প্রশ্ন: কিছুদিন পূর্বে আমার স্বামী মান্নত করেছে যে, যদি তার চাকরির ব্যবস্থা হয় তাহলে সে চারটি রোযা রাখবে। মান্নত করার কিছু দিনের মধ্যেই তার চাকরির ব্যবস্থা হয়ে যায়। এখন তিনি অলসতার দরুন মান্নতের রোযাগুলো রাখতে চাচ্ছেন না। আমি একাধিকবার অনুরোধ করেছি, তিনি গুরুত্বই দিচ্ছেন না। এখন আমি তার পক্ষ থেকে তার মান্নতের রোযাগুলো রাখতে পারব কি? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।
– মাহমুদা আখতার, নরসিংদী।
ফতোয়া: নামায, রোযা স্বতন্ত্র ইবাদত। এ প্রকারের ইবাদতে বদলি দেওয়ার নিয়ম নেই। হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন- لَا يُصَلِّي أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ، وَلَا يَصُومُ أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ وَلَكِنْ يُطْعِمُ عَنْهُ
‘একজনের নামায অপরজন পড়তে পারবে না। একজনের রোযা অন্যজন রাখতে পারবে না। কিন্তু একজনের পক্ষ থেকে অন্যজন খাওয়াতে পারবে।’ (নাসায়ী, হাদীস- ২৯৩০)।
হযরত আয়েশা (রাযি.) বলেন- لَا تَصُومُوا عَنْ مَوْتَاكُمْ وَأَطْعِمُوا عَنْهُمْ. ‘তোমরা মৃতদের পক্ষ থেকে রোযা রেখো না; বরং তাদের পক্ষ থেকে খাওয়াও’। (সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস- ৮২৩২)।
এছাড়া জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোযা রাখা শরীয়তসম্মত নয়। এ ব্যাপারে সকল ইমামগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
ইমাম ইবনে হাযম (রহ.) বলেন- واجمعوا أَنه لَا يَصُوم أحد عَن انسان حَيّ ‘জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কেউ রোযা রাখতে পারবে না এ ব্যাপারে সমস্ত আলেমগণ একমত পোষণ করেছেন’। (মারাতিবুল ইজমা- ৪০)।
তিনি অন্যত্র বলেন- وَأَجْمعُوا على أَن الْوكَالَة فِي الصَّلَاة الْمَفْرُوضَة وَالصِّيَام لَا يجوز ‘সকলে একমত হয়েছেন যে, ফরয নামায ও রোযার ক্ষেত্রে কেউ কারো পক্ষ থেকে উকিল হয়ে আদায় করতে পারবে না’। (মারাতিবুল ইজমা- ৬২)।
ইমাম ইবনে আব্দুল বার (রহ.) বলেন- لَا يُجْزِئُ صَوْمُ أَحَدٍ فِي حَيَاتِهِ عَنْ أَحَدٍ، وَهَذَا كُلُّهُ إِجْمَاعٌ لَا خِلَافَ فِيهِ. ‘একজনের জীবদ্দশায় অন্যজন তার পক্ষ থেকে রোযা রাখলে যথেষ্ট হবে না। এগুলো ঐকমত্যপূর্ণ মাসআলা, এখানে কারও দ্বিমত নেই’। (আল ইসকিযকার- ১০/১৬৭)।
ইমাম নববী (রহ.) বলেন- قَالَ أَصْحَابُنَا وَغَيْرُهُمْ وَلَا يُصَامُ عَنْ أَحَدٍ فِي حَيَاتِهِ بِلَا خِلَافٍ سَوَاءٌ كَانَ عَاجِزًا أَوْ قَادِرًا ‘আমাদের মাযহাব এবং অন্যান্য মাযহাবের ইমামগণ বলেন, কারও জীবদ্দশায় তার পক্ষ থেকে রোযা রাখা যাবে না। চাই সে অক্ষম হোক বা সক্ষম হোক। এ ব্যাপারে কারও দ্বিমত নেই।’ (আল মাজমূ- ৬/৩৭১)।
অতএব, আপনার স্বামীর মান্নত আপনার স্বামীকেই আদায় করতে হবে। আপনি রোযা রাখলে তার মান্নতের রোযার ওয়াজিব আদায় হবে না।
মান্নত নিজের পক্ষ হতে ওয়াদাকৃত একটি ইবাদত। তাই মান্নত করার পর মান্নত আদায়ে অলসতা করা নিতান্ত নিন্দনীয় কাজ। হযরত আয়েশা (রাযি.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেউ যদি ভালো কাজের মান্নত করে সে যেন তা পূর্ণ করে। (সহীহ বুখারী, হাদীস- ৬৬৯৬, ই’লাউস সুনান- ৯/১৩৭, রদ্দুল মুহতার- ২/৬৪০, হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী- ৬৯৪)।
ফতোয়া দিয়েছেন- আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.)
মুফতি, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও সহকারী পরিচালক-
জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ
উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com







