প্রশ্ন: আমি হজ্জে যেতে ইচ্ছুক কিন্তু আমার সামর্থ্য নেই। ইসলামে এমন কোনো আমল আছে কি, যা করলে হজ্জের সাওয়াব মিলবে। অনুগ্রহপূর্বক জানিয়ে বাধিত করবেন।
– জাহিদুল ইসলাম, জামালখান, চট্টগ্রাম।
ফতোয়া: জী, ইসলাম এমন অনেক আমলই রয়েছে যা আদায় করলে পূর্ণ হজ্জের সাওয়াব মিলবে। বিভিন্ন হাদীসে তা বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে কয়েকটি আমল উল্লেখ করা হলো-
এক. ফজরের নামায জামাতে আদায় করে ইশরাক পর্যন্ত বসে থেকে ইশরাক আদায় করলে হজ্জ ও উমরার সাওয়াব মিলবে। হযরত আনাস (রাযি.) বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন- مَنْ صَلَّى الغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : ্রتَامَّةٍ، تَامَّةٍ، تَامَّةٍ ‘যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের নামায আদায় করবে। অতপর সূর্যোদয় পর্যন্ত যিকিরে লেগে থাকবে, অতঃপর দু’ রাকত নামায আদায় করবে, তার জন্য একটি হজ্জ ও উমরার সমপরিমাণ প্রতিদান রয়েছে’। রাবী বলেন, তিনি বলেলন, ‘পরিপূর্ণ পরিপূর্ণ পরিপূর্ণ।’ (জামে তিরমিযী, হাদীস- ৫৮৬)।
অন্য আর একটি বর্ণনায় যুহা তথা চাশতের নামায পড়ার কথা উল্লেখ হয়েছে। যেমন বর্ণিত হযেছে- من صلَّى صلاةَ الصبح في جماعةٍ، ثم ثبتَ حتى يسبِّحَ لله سُبحةَ الضحى، كان له كأجرِ حاجًّ ومعتمرٍ، تاماً له حجه وعمرته ‘যে ফজরের নামায জামাতে আদায় করল, অতঃপর চাশতের নামায পর্যন্ত সেখানে বসে থাকলো, তাকে একজন হজ্জ ও উমরাপালনকারীর সওয়াব প্রদান করা হবে, যার হজ্জ ও উমরা দুটোই পরিপূর্ণ আদায় হয়েছে। (আল মুজামুল কাবীর, হাদীস- ৭৬৪৯, হাদীসটি সামগ্রীকভাবে হাসান)।
দুই. মসজিদে দ্বীনি ইলম শেখা বা শিখানোর উদ্দেশ্যে গমন করা। হযরত আবু উমামা (রাযি.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন- من غَدا إِلَى الْمَسْجِد لَا يُرِيد إِلَّا أَن يتَعَلَّم خيرا أَو يُعلمهُ كَانَ لَهُ كَأَجر حَاج تَاما حجَّته ‘যে ব্যক্তি কল্যাণের কাজ শেখা বা শেখানোর জন্য মসজিদে গেল, তাকে একজন হাজীর সওয়াব দেওয়া হবে, যার হজ্জ পরিপূর্ণ আদায় হয়েছে’। (তাবারানী, হাদীস- ৭৪৭৩, মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস- ৩১১)।
আরও পড়তে পারেন-
- ঋণ বা ধারকর্য পরিশোধে ইসলামের বিধান
- ইতিহাসে আল্লামা আহমদ শফী
- মেধাবী, আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়
- ইগো প্রবলেম নিয়ে যত কথা
- সামাজিক সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখতে ইসলামের নির্দেশনা
তিন. ওযু করে মসজিদে নামাযের উদ্দেশ্যে গমন করা। হযরত আবু উমামা (রাযি.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন- مَنْ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ مُتَطَهِّرًا إِلَى صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْحَاجِّ الْمُحْرِمِ، ‘যে ব্যক্তি ফরয নামাযের জন্য পবিত্র হয়ে ঘর থেকে বের হলো, তাকে একজন মুহরিম হজ্জ পালনকারীর সওয়াব দেওয়া হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস- ৫৫৮)।
চার. পিতা মাতার সেবা করা। হযরত আনাস (রাযি.) বলেন- أَتَى رَجُلٌ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: إِنِّي أَشْتَهِي الْجِهَادَ، وَإِنِّي لَا أَقْدِرُ عَلَيْهِ، فَقَالَ: ্রهَلْ بَقِيَ أَحَدٌ مِنْ وَالِدَيْكَ؟গ্ধ قَالَ: أُمِّي قَالَ: ্রفَأَبْلِ اللَّهَ عُذْرًا فِي بِرَّهَا، فَإِنَّكَ إِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ فَأَنْتَ حَاجٌّ وَمُعْتَمِرٌ وَمُجَاهِدٌ. ‘এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, আমি জিহাদ করতে চাই, কিন্তু আমার তার সামর্থ্য নেই। তখন নবীজি বললেন, তোমার পিতা মাতার কেউ জীবিত আছেন? সে বলল, আমার মা। তিনি বললেন, তোমার মায়ের খেদমতের দোহাই দিয়ে তুমি আল্লাহর কাছে উযর পেশ করো, যদি তুমি তাই করো, তাহলে তুমি হজ্জপালনকারী, উমরাপালনকারী ও মুজাহিদ। (তাবারানী; আওসাত, হাদীস- ২৯১৫, ইমাম ইরাকী (রহ.) ও ইমাম হাইসামী (রহ.) হাদীসটি হাসান আখ্যা দিয়েছেন)।
পাঁচ. ভবিষ্যতে সামর্থ্য হলে হজ্জ করার পাক্কা নিয়ত করা এবং আল্লাহর কাছে তাওফীক কামনা করা। ইনশাআল্লাহ, এতে আল্লাহ তাআলা আপনার আমলনামায় হজ্জের সওয়াব প্রদান করবেন। রাসূল (স.) বলেন, চার প্রকার মানুষের জন্য এই পৃথিবী। তার মধ্যে প্রথম দুই প্রকার হলো- عَبْد رَزَقَهُ اللَّهُ مَالًا وَعِلْمًا فَهُوَ يَتَّقِي فِيهِ رَبَّهُ، وَيَصِلُ فِيهِ رَحِمَهُ، وَيَعْلَمُ لِلَّهِ فِيهِ حَقًّا، فَهَذَا بِأَفْضَلِ المَنَازِلِ، وَعَبْد رَزَقَهُ اللَّهُ عِلْمًا وَلَمْ يَرْزُقْهُ مَالًا فَهُوَ صَادِقُ النِّيَّةِ، يَقُولُ: لَوْ أَنَّ لِي مَالًا لَعَمِلْتُ بِعَمَلِ فُلَانٍ فَهُوَ بِنِيَّتِهِ.
‘ঐ বান্দা যাকে আল্লাহ ইলম সম্পদ দুটোই দিয়েছেন, সে এক্ষেত্রে তার রবকে ভয় করে, এর মাধ্যমে আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখে এবং এতে সে আল্লাহর হক আছে বলে জানে, এই ধরনের ব্যক্তি সর্বোচ্চ স্তরের। ঐ বান্দা যাকে আল্লাহ ইলম দিয়েছেন কিন্তু সম্পদ দেননি। তবে সে সৎ নিয়তের অধিকারী, সে বলে, আমার যদি সম্পদ থাকতো, আমি অমুক অমুক কাজ করতাম। এই প্রকারের ব্যক্তির মর্যাদা তার নিয়ত মুতাবিক হবে। এই দুই প্রকারের ব্যক্তির সওয়াব সমান হবে’। (জামে তিরমিযী, হাদীস- ২৩২৫, ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন)।
বি:দ্র: এসব আমলের মাধ্যমে হজ্জের সওয়াব মিললেও এগুলো ফরয হজ্জের বিকল্প হবে না।
ফতোয়া দিয়েছেন- আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.)
মুফতি, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও সহকারী পরিচালক-
জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ







