
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর গত (১৪৪৫-৪৬ হিজরি) শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক থেকে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী এবং তাখাসসুসাতের মেধা তালিকার শীর্ষস্তর অর্জনকারী ছাত্রদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আজ (২৮ ডিসেম্বর) রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়।
জামিয়া মহাপরিচালক হযরত আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী (হাফি.)এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্য সকল মুহাদ্দিস, মুফতি, শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতনকর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জামিয়া মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কওমী মাদরাসা দ্বীন রক্ষার কারখানা। আমাদের দেশে দ্বীন ইসলামের যতটুকু হেফাজত আছে সবটুকু এই কওমী মাদরাসার অবদান। স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি মাধ্যমে দ্বীন ইসলামের হেফাজত হয় না। সেগুলো দুনিয়াবি শিক্ষা, আয়-রোজগার ও ভোগ-বিলাসিতার উপায়-উপকরণের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নববী যুগ থেকে শুরু করে দেড় হাজার বছর ইসলামকে হেফাজত করে আসছে এই কওমী মাদরাসা শিক্ষা পদ্ধতি। যে কারণে, যারা ইসলামকে নির্মূল করতে চায়, ইনসাফ ও ন্যায়-নীতিকে ধ্বংস করে জোর-জুলুম ও শোষণের রাজত্ব কায়েম করতে চায়, তারা কওমি মাদ্রাসাকে ধ্বংস করে দিতে চায়। কারণ, মাদ্রাসাসমূহ ন্যায়-নীতি, ইনসাফ, সুবিচার ও সৎ জীবন যাপনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে, জনমত গড়ে তুলে ও প্রশিক্ষণ দেয়।
তিনি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, জামিয়ার শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতিযোগিতামূলকভাবে পড়ালেখায় আরো বেশি মনোযোগী ও উৎসাহিত হয়ে যোগ্য আলেম হয়ে গড়ে ওঠে, সেই লক্ষে এই পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন। জামিয়ার সকল উস্তাদের উপস্থিতিতে এতো বড় সমাবেশে পুরস্কৃত হওয়া অনেক গৌরব ও সম্মানের। আমরা আশা করি, আগামী তুলাবাগণ মেধাবী হিসেবে খ্যাতি অর্জন ও পুরস্কৃত হয়ে সম্মানিত হওয়ার লক্ষ্যে আরো বেশি মেহনত করবেন।
আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী ছাত্রদেরকে ঈমান-আমল ও তাকওয়াপূর্ণ জীবন গঠন এবং কর্মজীবনে ইলমে নববীর খেদমতের পাশাপাশি দাওয়াত-তাবলীগ, দেশ, উম্মাহ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।
পুরস্কার বিতরণপূর্ব বক্তব্যে হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষাসচিব ও মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতি কিফায়াতুল্লাহ ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, “শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পুরস্কার বিতরণ এক অনন্য উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি এবং তাদের মেধা বিকাশে সহায়ক হতে পারে এই উদ্যোগ। প্রতি বছর কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান তাদের কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করে, যা অন্যদেরও আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগায়। দারুল উলূম দেওবন্দসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণের প্রচলন আছে। আলহামদুলিল্লাহ, দারুল উলূম হাটহাজারীতেও গত কয়েক বছর ধরে এই নিয়ম চালু করা হয়েছে”।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
আল্লামা মুফতি কিফায়াতুল্লাহ আরও বলেন, “পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা এবং পরিশ্রমের মূল্যায়ন করা হয়। এটি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে আরও সাফল্যের জন্য অনুপ্রাণিত করে। অভিভাবক এবং শিক্ষকরাও এই উদ্যোগের মাধ্যমে সন্তুষ্টি পান। কারণ, এটি শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের মনোযোগী ও উৎসাহিত হওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যমও বটে”।
তিনি বলেন, “কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মানসিক এবং সামাজিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শুধু মেধাবীদের জন্য নয়, বরং সকলের জন্য শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় ও লেখা-পড়ার উন্নত মান গঠনের মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষার বিস্তার ও খিদমত আঞ্জামসহ বহুমুখী অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সহায়ক হয় বলে মনে করি”।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন-শায়খুল হাদীস আল্লামা শেখ আহমদ, শায়খে সানী আল্লামা হাফেজ শোয়াইব জমিরী, মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন, মাওলানা ওমর কাসেমী, মাওলানা ফোরকান আহমদ, মাওলানা আহমদ দীদার কাসেমী, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মুফতি হুমায়ুন কবীর, মুফতি ফরীদুল হক, ড. মাওলানা নূরুল আবছার আযহারী, মুফতি রাশেদুল ইসলাম, মাওলানা আনওয়ার শাহ আযহারী, মাওলানা নোমান আযহারী এবং মাওলানা মুনির আহমদ প্রমুখ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার অন্য সকল মুহাদ্দিস, মুফতি, শিক্ষক ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ






