রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকার শারমিন একাডেমি নামের একটি স্কুলে স্কুল পোশাক পরা এক শিশুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার মুখে শেষ পর্যন্ত এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী শিশুটিকে টেনেহিঁচড়ে একটি অফিসকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শাসনের নামে শিশুটিকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। এ সময় কক্ষে উপস্থিত এক পুরুষ শিশুটিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। আতঙ্কে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে। চার মিনিটের বেশি দৈর্ঘ্যের ভিডিওতে থাকা নারীকে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান এবং পুরুষটিকে স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ জানুয়ারি দুপুরের দিকে। কয়েকদিন পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনসম্মুখে আসে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার শিশুটির মা বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান জানান, শিশু অধিকার আইনে দায়ের করা মামলায় ওই দুইজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিশুটির নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে। অনেকেই অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি স্কুল পরিচালনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেছেন।
নেটিজেনদের কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়; বরং পুরো শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা। শাসনের নামে কোনো ধরনের শিশু নির্যাতন বরদাস্তযোগ্য নয় এবং দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারই এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে পারে—এমন মতও উঠে এসেছে।
উম্মাহ২৪ডটকম:আইএএ








