জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তবর্তী সংঘর্ষের তীব্র বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি উভয় দেশকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি কঠোর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন গুতেরেস।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে জানান, গুতেরেস দুই দেশের মধ্যে চলমান মুখোমুখি অবস্থান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি কূটনৈতিক পথে বিরোধ নিরসনের জন্য উভয় পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং সাম্প্রতিক সহিংসতার বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, সীমান্তে সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক্স-এ পোস্ট করে ঘোষণা দিয়েছেন যে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মধ্যে এখন ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ চলছে। তিনি লিখেছেন, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। আমরা সরাসরি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। পূর্ণাঙ্গ কূটনীতি চালানো হয়েছে। কিন্তু এখন এটি আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে প্রকাশ্য যুদ্ধ।”
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ১৩৩ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। শুক্রবার কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে পাকিস্তানের হামলায় আরও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানিয়েছে। পাকিস্তান কাবুলসহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, সর্বশেষ হামলায় কেউ আহত হয়নি। তালেবান পাল্টা হামলায় অর্ধশতাধিক পাকিস্তানি সেনা হত্যার দাবি করেছে। হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এই সংঘর্ষ দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ, মিলিট্যান্ট আশ্রয় এবং দুর্লিন লাইন নিয়ে উত্তেজনার ফল। কাতারের মধ্যস্থতায় গড়ে ওঠা যুদ্ধবিরতি এখন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। জাতিসংঘের আহ্বানের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। উভয় পক্ষকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফিরতে হবে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মনে করছে।
উম্মাহ২৪ডটকম: আইএএ
উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com
দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।







