দেশের চাষযোগ্য জমি রক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল-২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটির লক্ষ্য অযৌক্তিক নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে চাষযোগ্য জমির অব্যাহত ক্ষয় রোধ করা।
বিল অনুযায়ী, তামাক চাষ তিন বা ততোধিক ফসলি জমিতে নিষিদ্ধ করা হবে এবং এক ও দুই ফসলি জমিতে ধীরে ধীরে সীমিত করা হবে, যাতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি ছাড়া দেশের সব জমিকে একটি জাতীয় জোনভিত্তিক পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট চিত্র ও মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ের মাধ্যমে জমির ব্যবহার নির্ধারণ করা হবে।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
ফসলি জমি ও উচ্চফলনশীল অঞ্চলগুলো মূলত কৃষিকাজের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং জাতীয় প্রয়োজন ছাড়া এসব জমিতে অ-কৃষি কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ জমি অ-কৃষি কাজে ব্যবহারের অনুমতি রাখা হয়েছে।
এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষায় মাটি অপসারণ, জলাশয় ভরাট, পাহাড় কাটা ও বন ধ্বংস নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
বিলটি পাস হলে দেশে বিজ্ঞানভিত্তিক ও পরিকল্পিত ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা পাবে, যা কৃষি, পরিবেশ ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ








