জ্বালানি সংকট ও আমদানি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) ব্যবহারে জোর দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাণিজ্যিক খাতে ইভির ব্যবহার বাড়াতে আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়ে বৈদ্যুতিক বাস, ট্রাক, ডাম্পার ও এক্সকাভেটরের ওপর আরোপিত শুল্ক কমানোর সুপারিশ করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব ইভির শুল্ক প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত যানবাহনের তুলনায় কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিল্প ও বাণিজ্য খাতে ব্যয় কমবে এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে ইভির ওপর শুল্ক তুলনামূলক বেশি। একটি বৈদ্যুতিক বাসে প্রায় ৯৩.১৬ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়, যেখানে ডিজেলচালিত বাসে তা ৩৯.৭৫ শতাংশ। একই ধরনের বৈষম্য ট্রাক, ডাম্পার ও এক্সকাভেটরের ক্ষেত্রেও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক খরচ বেশি হলেও ইভি ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব। এতে পরিবহন খাতে খরচ কমার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা কমতে পারে।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
এই উদ্যোগ ‘ইলেকট্রিক ভেহিকল ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট পলিসি ২০২৫’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। খসড়া নীতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি ও কর্পোরেট বহরের অন্তত ৩০ শতাংশ যানবাহন বৈদ্যুতিক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ইভির ওপর কর ছাড়, নিবন্ধন ফি কমানো, অগ্রিম আয়কর অব্যাহতি এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার প্রস্তাবও রয়েছে।
তবে এনবিআর জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো পর্যালোচনাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বাংলাদেশে ইভি ব্যবহারের হার এখনো কম। ২০২৫ অর্থবছরে ১৭৮টি এবং ২০২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে মাত্র ৮২টি ইভি আমদানি হয়েছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর সুবিধার পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদনে জোর দিলে এই খাতে বিনিয়োগ বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ








