অবশেষে একটি দেশের মজুত করা উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হাতে পেল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তবে সেই দেশটি ইরান নয়, দক্ষিণ আমেরিকার ভেনেজুয়েলা।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অভ এনার্জি জানিয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৃঢ় নেতৃত্বে’ ভেনেজুয়েলার একটি পুরনো পারমাণবিক গবেষণাগার থেকে ১৩.৫ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলার এই যৌথ অভিযানকে ওয়াশিংটন ‘বিশ্বের জয়’ হিসেবে অভিহিত করছে।
মার্কিন জ্বালানি দপ্তরের জাতীয় পরমাণু সুরক্ষা বিভাগের প্রশাসক ব্র্যান্ডন উইলিয়ামস বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা থেকে সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদে সরিয়ে ফেলার মধ্য দিয়ে বিশ্বের কাছে এক পুনর্গঠিত ভেনেজুয়েলার বার্তা দেওয়া সম্ভব হলো।’
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বলেছে, অত্যন্ত ‘জটিল ও সংবেদনশীল’ এই অভিযানের পর নৌ ও স্থলপথে ওই ইউরেনিয়াম দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তর আমেরিকায় নিয়ে আসা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের একটি পারমাণবিক স্থাপনা থেকে সরিয়ে ওই তেজস্ক্রিয় পদার্থ এখন আমেরিকার সাউথ ক্যারোলাইনার একটি সরকারি কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে দেশ থেকে তুলে আনার পর থেকেই কারাকাসের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের সমীকরণ বদলেছে হোয়াইট হাউস।
ট্রাম্প প্রশাসন এখন মাদুরোর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এমনকি আমেরিকার দাবি না মানলে অন্তর্বর্তী নেত্রীর কপালে মাদুরোর থেকেও খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে বলে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ভেনেজুয়েলার জ্বালানি ও খনি ক্ষেত্রগুলি মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য খুলে দিতে চাইছে ওয়াশিংটন।
সম্প্রতি সিআইএ-প্রধান জন র্যাটক্লিফ-সহ ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ভেনেজুয়েলা সফর করেছেন। দীর্ঘ সাত বছর পর দুই দেশের মধ্যে ফের সরাসরি বাণিজ্যিক বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। অতি সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাসও পুনরায় খোলা হয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেলের মজুত থাকায় দুই দেশের এই নতুন বাণিজ্যিক সখ্যে খুশি ব্যবসায়ী মহল। তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, নোবেলজয়ী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোকে সরিয়ে ডেলসি রদ্রিগেযের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ট্রাম্প আদতে বিরোধীদের কোণঠাসা করছেন।
ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরানের মজুত করা প্রায় ৪০৮ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করাই ছিল ট্রাম্পের অন্যতম মূল লক্ষ্য। সেই চেষ্টা এখনও সফল হয়নি।
উম্মাহ২৪ডটকম:আইএএ








