চীন সফরেও ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিং থেকে শুক্রবার (১৫ মে) ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তার এই মন্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প তার পোস্টে ইরান ইস্যুর পাশাপাশি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, শি যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কে “অর্থনৈতিক ও সামরিক সাফল্যের সময়” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নীতির সমালোচনাও করেন।
ট্রাম্প আরও লেখেন, তার প্রশাসনের সময় শেয়ারবাজারের উচ্চ প্রবৃদ্ধি, অবসর তহবিলের উন্নতি, সামরিক সাফল্য এবং ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা গেছে। একই পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
অন্যদিকে চীন সফরের আগে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি “অস্থিতিশীল অবস্থায়” রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হচ্ছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত শর্ত মেনে নেওয়া হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান কঠোর রয়েছে।
চীন সফরের প্রথম দিনে ইরান সংকট নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পরবর্তী বৈঠকগুলোতে বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতি ও শক্তিধর দেশের আলোচনার ফলাফল ইরান সংকটের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল নজর রাখছে চীন সফরের দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার দিকে। কারণ এই আলোচনার পর ট্রাম্পের অবস্থান কতটা পরিবর্তিত হয়, তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ








