।। মুফতি রাশেদুল হাসান ।।
ইসলামের শেষ নবী হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এমন এক অন্ধকার সময়ের কথা বলে গিয়েছেন, যখন মানুষ সকালে মুমিন থাকবে, কিন্তু বিকেলে কাফির হয়ে যাবে। (সহীহ মুসলিম, তিরমিযী হাদীস নং- ২১৯৫)। গায়েবের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন, তবে বর্তমানে অনেক মানুষের ক্ষেত্রেই এ ঘটনা ঘটছে। তাঁরা ইসলামের শত্রুদের বিভিন্ন অভিযোগ দেখে, অজ্ঞতার কারণে অতি সহজেই ঈমানহারা হয়ে যাচ্ছেন। কখনো কখনো তাঁরা সেসব অভিযোগের সত্যতাও ভালোভাবে জানার চেষ্টা করেন না।
আজ চারদিক থেকে নানাভাবে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কখনো বলা হচ্ছে, ‘‘তোমরা যে বিশ্বাস করো ইবরাহীম (আ.) তাঁর ছেলে ইসমাঈল (আ.)কে কুরবানি করতে চেয়েছিলেন, আসলে এটি একটি মিথ্যা কথা”। তারা দৃঢ়তার সাথে বলে, কুরআন ও হাদীসের কোথাও ইসমাঈলকে (আ.) কুরবানি করার কথা নেই! তারা বাইবেল ও কুরআন উভয় গ্রন্থ থেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে- ইসহাক (আ.) ছিলেন কুরবানির জন্য নির্বাচিত সন্তান (যাবীহুল্লাহ)। তাদের উদ্দেশ্য হলো মুসলিমদেরকে ঈমানের পথ থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া। খ্রিস্টান মিশনারিরা তাদের ধর্ম প্রচার করার জন্য অনেক আগে থেকেই এ নিয়ে মিথ্যাচার চালিয়ে আসছিলো। এখন তাদের দলে নাস্তিকরাও যোগ দিয়েছে। এ যেন চোরে চোরে মাসতুতো ভাই! যা হোক, এ বিষয় নিয়েই বক্ষমান প্রবন্ধে আলোকপাত করার প্রয়াস পাবো, ইনশাআল্লাহ।
ইসলামী আকীদাহ হচ্ছে- নবী ইবরাহীম (আ.)এর বড় ছেলে ইসমাঈল (আ.)কে কুরবানির জন্য নির্বাচন করা হয়েছিলো। অর্থাৎ, ইসমাঈল (আ.) হচ্ছেন ‘যাবীহুল্লাহ’। কুরআন দ্বারা এটি প্রমাণিত এবং এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর ইজমা রয়েছে। (তাফসীর ইবন কাসির, সূরাহ আস-সফফাতের ১০৩-১১৩ আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য)।
অপরদিকে বাইবেল বলে যে, ইবরাহীম (আ.)এর অন্য ছেলে ইসহাক (আ.)কে কুরবানির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিলো। বাইবেলের ঙষফ ঞবংঃধসবহঃ বা ‘পুরাতন নিয়ম’ অংশটিকে ইহুদি ও খ্রিস্টান উভয় ধর্মাবলম্বীরা নিজ ধর্মগ্রন্থ হিসাবে স্বীকার করে। তাদের এ বিশ্বাসের উৎস হচ্ছে পুরাতন নিয়ম অংশের গ্রন্থ আদিপুস্তক (এবহবংরং) এর বর্ণনা। কাজেই এ নিয়ে মুসলিমদের বিশ্বাস এক এবং ইহুদি-খ্রিস্টানদের বিশ্বাস আরেক। নাস্তিকরা মূলত ইসলামের বিরোধিতা করে এবং অনেক সময়েই অটোমেটিক চয়েজ হিসাবে ইহুদি-খ্রিস্টানদের অবস্থানকে সমর্থন করে।
উল্লেখ্য, ঈসা (আ.) এর পূর্বে বনী ইসরাঈল বংশে যে সকল নবী এসেছেন, তাঁদের নামে লেখা (বিকৃত) কিতাবগুলোর সমষ্টিকে ইহুদিরা বলে ‘তানাখ’ (ঞধহধশয)। খ্রিস্টানরাও এই কিতাবগুলোর উপর ঈমান রাখে। তারা এগুলোকে তাদের বাইবেলে ‘পুরাতন নিয়ম’ (ঙষফ ঞবংঃধসবহঃ) অংশে রেখেছে। ঈসা (আ.) ও তাঁর শিষ্যদের নামে লেখা (বিকৃত) কিতাবগুলোর সমষ্টিকে খ্রিস্টানরা তাদের বাইবেলে ‘নতুন নিয়ম’ (ঘবি ঞবংঃধসবহঃ) অংশে রেখেছে। ‘পুরাতন নিয়ম’ ও ‘নতুন নিয়ম’ নিয়ে খ্রিস্টানদের বাইবেল।
আমরা এখন কুরআন-হাদীস এবং বাইবেল সকল প্রকারের উৎস থেকেই ইবরাহীম (আ.) এর কুরবানির ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে আলোচনা করবো এবং দেখবো, আসলে কে কুরবানির জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন- ইসমাঈল (আ.), নাকি ইসহাক (আ.)?
কুরআনে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে ইবরাহীম (আ.) এর বড় ছেলে অর্থাৎ ইসমাঈল (আ.)কে কুরবানি দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো, অর্থ- “এবং সে [ইবরাহীম (আ.)] বললো, “আমি আমার প্রভুর দিকে চললাম, তিনি অবশ্যই আমাকে সৎ পথে পরিচালিত করবেন। হে আমার প্রভু, আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন”। অতঃপর তাকে আমি পরম ধৈর্যশীল একজন পুত্র সন্তানের [ইবরাহীম (আ.) এর ১ম সন্তান] সুসংবাদ দিলাম। অতঃপর সে যখন তার পিতার সাথে কাজ করার মতো বয়সে উপনীত হলো, তখন সে [ইবরাহীম (আ.)] বললো, “হে প্রিয় পুত্র, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, অতএব দেখো তোমার কী অভিমত”। সে বললো, “হে আমার পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তা-ই করুন। আপনি আমাকে ইনশা-আল্লাহ অবশ্যই ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন”। যখন তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করলো এবং সে তার পুত্রকে কাত করে শায়িত করলো, তখন আমি তাকে আহ্বান করে বললাম, “হে ইবরাহীম, তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছো”। নিশ্চয়ই আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরষ্কৃত করে থাকি। নিশ্চয়ই এটা ছিলো এক স্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তাকে মুক্ত করলাম এক মহান কুরবানির বিনিময়ে। আর তার জন্য আমি পরবর্তীদের মধ্যে সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি। ইবরাহীমের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরষ্কৃত করে থাকি। সে ছিলো আমার মু’মিন বান্দাদের অন্যতম। এবং আমি তাকে সুসংবাদ দিয়েছিলাম ইসহাকের [ইবরাহীম (আ.) এর ২য় সন্তান], সে ছিলো এক নবী, সৎকর্মশীলদের অন্যতম”। (সূরাহ আস-সফফাত, ৯৯-১১২ আয়াত)।
এখানে পুরো কুরবানির ঘটনা বর্ণনা করার পরে ১১২নং আয়াতে ২য় সন্তান অর্থাৎ- ইসহাক (আ.)এর জন্মের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ঐ ঘটনার সময়ে ইসহাক (আ.)এর জন্মই হয়নি।
“আর অবশ্যই আমার ফেরেশতারা সুসংবাদ নিয়ে ইবরাহীমের কাছে আসলো। তারা বললো, “সালাম”। সেও বলল, “সালাম”। বিলম্ব না করে সে একটি ভুনা গো বাছুর নিয়ে আসলো। অতঃপর যখন সে দেখতে পেলো তাদের হাত এর [খাবারের] প্রতি পৌঁছাচ্ছে না, তখন তাদেরকে অস্বাভাবিক মনে করলো এবং সে তাদের থেকে ভীতি অনুভব করলো। তারা বললো, “ভয় করো না, নিশ্চয়ই আমরা লূতের সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরিত হয়েছি”। তার স্ত্রীও নিকটেই দাঁড়িয়ে ছিলো, সে হেসে ফেললো। অতঃপর আমি তাকে ইসহাকের জন্মের সুখবর দিলাম এবং ইসহাকের পর ইয়া’কুবেরও”। (সূরাহ হুদ- ৬৯-৭১ আয়াত)।
এখানে স্পষ্টত বলা হচ্ছে, ফেরেশতারা একই সাথে ইবরাহীম (আ.)কে ইসহাক (আ.) ও ইয়া’কুব (আ.)এর সুসংবাদ দেন। ইসহাক (আ.) যদি ‘যাবীহুল্লাহ’ হয়ে থাকেন, তাহলে ইয়াকুব (আ.) এর সংবাদ কীভাবে দেওয়া হবে? তিনি তো কুরবানিই হয়ে যাবেন! তাহলে তো ইবরাহীম (আ.)কে কোনো পরীক্ষা করা হলো না। পরীক্ষার ফল আগে থেকেই জানা, ইসহাক (আ.) বেঁচে যাবেন ও তাঁর ছেলে ইয়া’কুব (আ.) নবী হবেন!
পবিত্র কুরআনে কারীমের সুস্পষ্ট এই তথ্যের ভিত্তিতে এভাবে মুসলিম উম্মাহ নিঃসন্দেহে বিশ্বাস করে ইসমাঈল (আ.) হচ্ছেন ‘যাবীহুল্লাহ’।
খ্রিস্টান প্রচারক কিংবা নাস্তিকরা এই বলে পানি ঘোলা করে যে, কুরআনে কেন সরাসরি নাম বলা হয়নি। আমরা ইতোমধ্যেই দেখেছি যে, সরাসরি নাম না বললেও কুরআনে এটা স্পষ্ট যে, ইবরাহীম (আ.) এর ১ম সন্তান অর্থাৎ ইসমাঈল (আ.)ই যাবীহুল্লাহ। কুরআনে কুরবানির পুরো ঘটনা উল্লেখ করে যাবিহুল্লাহর নাম উহ্য রাখা হয়েছে। (সূরা আস সফফাত, ৯৯-১১২ আয়াত দ্রষ্টব্য)। কুরবানীর ঘটনা বর্ণনা শেষ করার পরে ইসহাক (আ.)এর বৃত্তান্ত শুরু করা হয়েছে। এরপর মূসা (আ.) ও হারুন (আ.)এর বৃত্তান্ত। (সূরাহ আস-সফফাত, ১১৪ আয়াত দ্রষ্টব্য)।
একজন নবীর পর আরেকজন নবীর বিবরণ। এ দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, কুরবানির উদ্দেশ্যে ইসহাক (আ.)কে নেওয়া হয়নি, বরং বড় ছেলে অর্থাৎ ইসমাঈল (আ.)কে নেওয়া হয়েছিলো। মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টানরা একমত যে, ইবরাহীম (আ.)এর বড় ছেলে ইসমাঈল (আ.)।
কুরআনে অনেক সময়েই মহিমান্বিত ব্যক্তির নাম উহ্য রেখে বিশেষণ দিয়ে ঐ ব্যক্তিকে প্রকাশ করা হয়েছে। এটা কুরআনের একটি বর্ণনাভঙ্গি। ইসমাঈল (আ.) ছাড়াও ইউনুস (আ.)এর নাম উহ্য রেখে এক স্থানে তাঁকে ‘যান নুন’ (মাছওয়ালা) বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
وَذَا ٱلنُّونِ إِذ ذَّهَبَ مُغَـٰضِبً۬ا فَظَنَّ أَن لَّن نَّقۡدِرَ عَلَيۡهِ فَنَادَىٰ فِى ٱلظُّلُمَـٰتِ أَن لَّآ إِلَـٰهَ إِلَّآ أَنتَ سُبۡحَـٰنَكَ إِنِّى ڪُنتُ مِنَ ٱلظَّـٰلِمِينَ
অর্থ- আর স্মরণ কর মাছওয়ালার [ইউনুস(আ.)] কথা, যখন সে রাগান্বিত অবস্থায় চলে গিয়েছিলো এবং মনে করেছিলো যে, আমি তার উপর ক্ষমতা প্রয়োগ করবো না। তারপর সে অন্ধকার থেকে ডেকে বলেছিলো, “আপনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয়ই আমি ছিলাম যালিম”। (আল-আম্বিয়া- ৮৭)।
সহীহ বুখারীতে ইবরাহীম (আ.) কর্তৃক তাঁর বড় ছেলে ইসমাঈল (আ.)কে মক্কার মরুভূমিতে রেখে আসার ঘটনাটি বর্ণনা করা হয়েছে।
সাঈদ ইবনু জুবায়ের (রাযি.) থেকে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস (রাযি.) বলেন, নারী জাতি সর্বপ্রথম কোমরবন্ধ বানানো শিখেছে ইসমাঈল (আ.)এর মায়ের (হাযেরা) নিকট থেকে। হাযেরা (আ.) কোমরবন্ধ লাগাতেন সারাহ (আ.) থেকে নিজের মর্যাদা গোপন রাখার জন্য। তারপর (আল্লাহর হুকুমে) ইবরাহীম (আ.) হাযেরা (আ.) এবং তাঁর শিশু ছেলে ইসমাঈল (আ.)-কে সাথে নিয়ে বের হলেন, এ অবস্থায় যে, হাযেরা (আ.) শিশুকে দুধ পান করাতেন। অবশেষে যেখানে কাবা ঘর অবস্থিত, ইবরাহীম (আ.) তাঁদের উভয়কে সেখানে নিয়ে এসে মাসজিদের (মাসজিদুল হারাম) উঁচু অংশে যমযম কূপের উপরে অবস্থিত একটি বিরাট গাছের নিচে তাঁদেরকে রাখলেন। তখন মক্কায় না ছিলো কোনো মানুষ, না ছিলো কোনোরূপ পানির ব্যবস্থা। পরে তিনি তাদেরকে সেখানেই রেখে গেলেন। এছাড়া তিনি তাঁদের কাছে রেখে গেলেন একটি থলের মধ্যে কিছু খেজুর এবং একটি মশকে কিছু পরিমাণ পানি।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
এরপর ইবরাহীম (আ.) ফিরে চললেন। তখন ইসমাঈল (আ.)এর মা পিছু পিছু ছুটে আসলেন এবং বলতে লাগলেন, হে ইবরাহীম! আপনি কোথায় চলে যাচ্ছেন? আমাদেরকে এমন এক ময়দানে রেখে যাচ্ছেন, যেখানে না আছে কোনো, সাহায্যকারী আর না আছে (পানাহারের) ব্যবস্থা। তিনি এ কথা তাঁকে বারবার বললেন। কিন্তু ইবরাহীম (আ.) তাঁর দিকে তাকালেন না। তখন হাযেরা (আ.) তাঁকে বললেন, এ (নির্বাসনের) আদেশ কি আপনাকে আল্লাহ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। হাযেরা (আ.) বললেন, তাহলে আল্লাহ আমাদেরকে ধ্বংস করবেন না। তারপর তিনি ফিরে আসলেন। আর ইবরাহীম (আ.)ও সামনে চললেন। চলতে চলতে যখন তিনি গিরিপথের বাঁকে পৌঁছালেন, যেখানে স্ত্রী ও সন্তান তাঁকে আর দেখতে পাচ্ছেন না, তখন কা’বার দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন।
তারপর তিনি দু’হাত তুলে এ দু’আ করলেন, আর বললেন, “হে আমার প্রভু! আমি আমার পরিবারের কতককে আপনার সম্মানিত ঘরের নিকট এক অনুর্বর উপত্যকায়…, যাতে আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে”। (সূরা ইবরাহীম- ৩৭ আয়াত)।
(এ দু’আ করে ইবরাহীম (আ.) চলে গেলেন) আর ইসমাঈলের মা ইসমাঈলকে স্বীয় স্তন্যের দুধ পান করাতেন এবং নিজে ঐ মশক থেকে পানি পান করতেন। অবশেষে মশকে যা পানি ছিলো, তা ফুরিয়ে গেলো। তিনি নিজে পিপাসিত হলেন, এবং তাঁর (বুকের দুধ শুকিয়ে যাওয়ায়) শিশু পুত্রটি পিপাসায় কাতর হয়ে পড়লো। তিনি শিশুটির প্রতি দেখতে লাগলেন। পিপাসায় তার বুক ধড়ফড় করেছে অথবা রাবী বলেন, সে মাটিতে পড়ে ছটফট করছে। শিশুপুত্রের এ করুণ অবস্থার প্রতি তাকানো অসহনীয় হয়ে পড়ায় তিনি সরে গেলেন, আর তাঁর অবস্থানের সংলগ্ন পর্বত ‘সাফা’কে একমাত্র তাঁর নিকটতম পর্বত হিসেবে পেলেন। এরপর তিনি তার উপর উঠে দাঁড়ালেন আর ময়দানের দিকে তাকালেন। এদিকে সেদিকে তাকিয়ে দেখলেন, কোথাও কাউকে দেখা যায় কি না। কিন্তু তিনি কাউকে দেখতে পেলেন না।
তখন ‘সাফা’ পর্বত থেকে নেমে পড়লেন। এমন কি যখন তিনি নিচু ময়দান পর্যন্ত পৌঁছলেন, তখন তিনি তাঁর কামিজের এক প্রান্ত তুলে ধরে একজন শ্রান্ত-ক্লান্ত মানুষের ন্যায় ছুটে চললেন। অবশেষে ময়দানে অতিক্রম করে ‘মারওয়া’ পাহাড়ের নিকট এসে তার উপর উঠে দাঁড়ালেন। তারপর এদিকে সেদিকে তাকালেন, কাউকে দেখতে পান কি না। কিন্তু কাউকেই দেখতে পেলেন না। এমনিভাবে সাতবার দৌড়াদৌড়ি করলেন। ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, এ জন্যই মুসলমানরা (হজ্জ এবং উমরার সময়) এ পাহাড়দ্বয়ের মধ্যে সা’ঈ করে থাকেন। এরপর তিনি যখন মারওয়া পাহাড়ে উঠলেন, তখন একটি শব্দ শুনতে পেলেন এবং তিনি নিজেকেই নিজে বললেন, একটু অপেক্ষা করো। (মনোযোগ দিয়ে শুনি)। তিনি একাগ্রচিত্তে শুনলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি তো তোমার শব্দ শুনিয়েছো, আর আমিও শুনেছি। যদি তোমার কাছে কোনো সাহায্যকারী থাকে, (তাহলে আমাকে সাহায্য কর)। হঠাৎ যেখানে যমযম কূপ অবস্থিত, সেখানে তিনি একজন ফেরেশতা দেখতে পেলেন। সেই ফেরেশতা আপন পায়ের গোড়ালি দ্বারা আঘাত করলেন অথবা তিনি বলছেন, আপন ডানা দ্বারা আঘাত করলেন। ফলে পানি বের হতে লাগলো। তখন হাযেরা (আ.)এর চারপাশে নিজ হাতে বাঁধ দিয়ে এক হাউযের ন্যায় করে দিলেন এবং হাতের কোষ ভরে তাঁর মশকটিতে পানি ভরতে লাগলেন। তখনো পানি উপচে উঠতে থাকলো। ইবন আব্বাস (রাযি.) বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, ইসমাঈলের মা’কে আল্লাহ রহম করুন। যদি তিনি বাঁধ না দিয়ে যমযমকে এভাবে ছেড়ে দিতেন কিংবা বলেছেন, যদি কোষে ভরে পানি মশকে জমা না করতেন, তাহলে যমযম একটি কূপ না হয়ে একটি প্রবাহমান ঝর্ণায় পরিণত হতো।
রাবী বলেন, তারপর হাযেরা (আ.) পানি পান করলেন, আর শিশু পুত্রকেও দুধ পান করালেন। তখন ফেরেশতা তাঁকে বললেন, আপনি ধ্বংসের কোনো আশঙ্কা করবেন না। কেননা, এখানেই আল্লাহর ঘর রয়েছে। এ শিশুটি এবং তাঁর পিতা দু’জনে এখানে ঘর নির্মাণ করবে এবং আল্লাহ তাঁর আপনজনকে কখনও ধ্বংস করেন না। ঐ সময় আল্লাহর ঘরের স্থানটি জমিন থেকে টিলার ন্যায় উঁচু ছিলো। বন্যা আসার ফলে তার ডানে বামে ভেঙে যাচ্ছিলো। এরপর হাযেরা (আ.) এভাবেই দিন যাপন করছিলেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৩১২৫)।
এবার আমরা ইহুদি-খ্রিস্টানদের গ্রন্থ থেকে ঘটনাটি বিশ্লেষণ করবো। সহীহ বুখারীর হাদীস এবং বাইবেলের আদিপুস্তক (এবহবংরং) এর বর্ণনা এ পর্যায়ে একই রকম যে, ইসমাঈল (আ.)কে যখন মরুভূমিতে রেখে আসা হয়, তখন তিনি ছিলেন ছোট শিশু।
ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থে ঘটনাটি যেভাবে আছে-
[ঈশ্বর বললেন] “আমি দাসীর ছেলেটিকেও এক মহা জাতিতে পরিণত করবো, কারণ সে তোমার বংশধর”। পরদিন সকালে আব্রাহাম [ইবরাহীম (আ.)] কিছু খাবার এবং চামড়ার থলেতে পানি নিলেন এবং হাগারকে (বিবি হাযেরা) দিলেন। তিনি বাচ্চাটিসহ সেগুলো তার কাঁধে তুলে দিলেন এবং তাঁকে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি [হাগার/বিবি হাযেরা] চলে গেলেন এবং বেরশেবার মরুভূমিতে ঘুরতে লাগলেন। চামড়ার থলের পানি যখন শেষ হয়ে গেলো, তিনি বাচ্চাটিকে ঝোঁপের নিচে রাখলেন। তিনি উঠে গেলেন এবং কাছেই তীর ছোঁড়ার দূরত্বে গিয়ে বসে পড়লেন। কারণ তিনি ভাবছিলেন, “আমি বাচ্চাটার মরণ দেখতে পারবো না”। তিনি কাছে বসে ছিলেন এবং বাচ্চাটি কাঁদতে শুরু করলো। ঈশ্বর ছেলেটির কান্না শুনলেন। ঈশ্বরের স্বর্গদূত স্বর্গ থেকে হাগারকে আহ্বান করলেন, “কী হয়েছে হাগার? ভয় পেয়ো না। ছেলেটি যে স্থানে শুয়ে আছে, ঈশ্বর সেখান থেকে ওর কান্না শুনেছেন। ছেলেটিকে তুলে নাও এবং ধরে রাখো, কারণ আমি তাকে এক মহান জাতিতে পরিণত করবো”।
অতঃপর ঈশ্বর তাঁর চোখ খুলে দিলেন এবং তিনি পানির এক কূপ [জমজম কূপ] দেখতে পেলেন। তিনি সেদিকে গেলেন, চামড়ার থলে পানি দিয়ে ভর্তি করলেন এবং ছেলেটিকে পানি খাওয়ালেন। (বাইবেল, আদিপুস্তক (এবহবংরং) ২১:১৩-১৯)।
কিন্তু এখানে ইহুদি-খ্রিস্টানদের আদিপুস্তক (এবহবংরং) গ্রন্থের বর্ণনায় একটা বড়সড় সমস্যা আছে। ২১নং অধ্যায়ে পরিষ্কার বলা হচ্ছে যে ইসমাঈল (আ.)কে মরুভূমিতে রেখে আসার সময়ে তিনি এক ছোট শিশু ছিলেন। ঠিক যেভাবে রাসূল (সা.) এর হাদীসে বলা হয়েছে।
কিন্ত, একটু আগেই, ঐ একই অধ্যায়ে [আদিপুস্তক ২১:৫-১১] বলা হচ্ছে- ইসমাঈল (আ.)কে নির্বাসন দেবার কারণ ছিলো তিনি ইসহাক (আ.)কে ব্যঙ্গ করছিলেন! এ কী করে সম্ভব, যে ছেলে কাউকে ব্যঙ্গ করার মতো বড়, এক অধ্যায় পরেই সেই ছেলেটি একটি দুধের শিশুতে পরিণত হয় যে পানির জন্য কাঁদে?? যাকে তাঁর মা তুলতে পারেন?
ইসহাকের যখন জন্ম হয়, তখন আব্রাহামের [ইবরাহীম (আ.)] বয়স ১০০ বছর। সারা বললেন, “ঈশ্বর আমার মুখে হাসি ফিরিয়ে দিলেন। আর যে এ খবর শুনবে, সেও হাসবে”। তিনি আরো বললেন, “আব্রাহামকে কে-ই বা বলতে পেরেছিলো যে, সারা একসময় বাচ্চা লালনপালন করবে? তারপরেও আমি বৃদ্ধা বয়সে তাঁকে একটা সন্তান এনে দিলাম।” বাচ্চাটি বড় হলো এবং দুধ খাওয়া ছাড়লো। আর যেদিন ইসহাক দুধ খাওয়া ছাড়লো, সেদিন আব্রাহাম এক বিশাল ভোজের আয়োজন করলেন। কিন্তু সারা লক্ষ করলেন যে, আব্রাহামের মিশরীয় দাসীর ছেলেটি [ইসমাঈল (আ.)] ব্যঙ্গ করছিলো। সারা আব্রাহামকে বললেন, “ঐ দাসী আর তার ছেলেটাকে বের করে দাও। কারণ দাসীর ছেলে আমার ছেলে ইসহাকের উত্তরাধিকারের অংশীদার হতে পারে না।” (বাইবেল, আদিপুস্তক (এবহবংরং) ২১:৫-১০)।
বাইবেলের বর্ণনামতে ইসমাঈল (আ.) ছিলেন ছোট ভাই ইসহাক (আ.)এর চেয়ে ১৪ বছরের বড়। (বাইবেল, আদিপুস্তক [এবহবংরং] ১৬:১৬ ও ২১:৫ দ্রষ্টব্য)। ইসহাক (আ.)এর দুধ ছাড়াতে ২ বছর লাগার কথা। সেই হিসাবে ইসহাক (আ.)এর দুধ ছাড়ানোর ভোজসভার সময়ে ইসমাঈল (আ.)এর বয়স ছিলো ১৪+২=১৬ বছর। বাইবেলের বর্ণনামতে, ১৬ বছরের ছেলেটিকে ব্যঙ্গ করার জন্য তার মা-সহ ইবরাহীম (আ.) বের করে দিয়েছিলেন। অথচ বের করে দেওয়ার পরেই আদিপুস্তক (এবহবংরং) ২১:১৩-২১ এর বর্ণনায় ইসমাঈল (আ.) দুধের শিশু হয়ে গেলেন!
এর অর্থ হচ্ছে- ইসমাঈল (আ.) কর্তৃক ব্যঙ্গ করার ঘটনাটি একটি বানোয়াট কাহিনী ছাড়া কিছু নয়। যে কারণেই বাইবেলে এত বড় স্ববিরোধী বক্তব্য দেখা দিচ্ছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.)এর হাদীস এবং আদিপুস্তক (এবহবংরং) ২১:১৩-২১ উভয়ের বর্ণনা অনুযায়ী বের করে দেওয়ার সময় ইসমাঈল (আ.) ছিলেন শিশু। কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী- ইসহাক (আ.)এর জন্মের সুসংবাদ দেওয়ারও আগে ইসমাঈল (আ.)কে কুরবানি দিতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিলো। (সূরা আস সাফফাত, ৯৯-১১২)। এর মানে ইসমাঈল (আ.)কে মরুভূমিতে রেখে আসার ঘটনাটাও ঘটেছিলো ইসহাক (আ.)এর জন্মেরও বহু আগে। কাজেই ইসমাঈল (আ.) কর্তৃক ইসহাক (আ.)এর ভোজসভায় ব্যঙ্গ করার ঘটনা ঘটবার প্রশ্নই আসে না। অতএব, কুরবানির জন্য একমাত্র বড় ছেলে ইসমাঈল (আ.)কেই বাছাই করা সম্ভব।
বাইবেলের বর্ণনায়ও দেখা যায় যে, ইবরাহীম (আ.)কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো তাঁর একমাত্র পুত্রকে কুরবানি দিতে নিয়ে যায়, অথচ নামের জায়গায় ইসহাক (আ.)এর নাম।
“এই সমস্ত কিছুর পরে ঈশ্বর ঠিক করলেন যে, তিনি অব্রাহামের বিশ্বাস পরীক্ষা করবেন। তাই ঈশ্বর ডাকলেন, “আব্রাহাম [ইবরাহীম (আ.)]!” এবং আব্রাহাম সাড়া দিলেন, “বলুন!” তখন ঈশ্বর বললেন, “তোমার একমাত্র পুত্র ইসহাক যাকে তুমি ভালোবাসো, তাকে মোরিয়া অঞ্চলে নিয়ে যাও। সেখানে পর্বতগুলোর মধ্যে একটির ওপরে তাকে আমার উদ্দেশ্যে বলি দাও। আমি তোমাকে বলবো কোন পর্বতের ওপর তুমি তাকে বলি দেবে।”
দূত বললেন- “তোমার পুত্রকে হত্যা কোরো না, তাকে কোনোরকম আঘাত দিও না। এখন আমি দেখতে পাচ্ছি, তুমি ঈশ্বরকে ভক্তি করো এবং তাঁর আজ্ঞা পালন করো। প্রভুর জন্যে তুমি তোমার একমাত্র পুত্রকে পর্যন্ত বলি দিতে প্রস্তুত।”
“আমার জন্যে তুমি তোমার একমাত্র পুত্রকেও বলি দিতে প্রস্তুত ছিলে। আমার জন্যে তুমি এত বড় কাজ করেছো বলে আমি তোমার কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি; আমি, প্রভু নিজেরই দিব্য করে প্রতিশ্রুতি করছি।” (বাইবেল, আদিপুস্তক (এবহবংরং) ২২:১-২, ১২, ১৬ দ্রষ্টব্য)।
ইসহাক (আ.) কখনোই ইবরাহীম (আ.)এর একমাত্র পুত্র ছিলেন না, কারণ তিনি ছিলেন তাঁর ২য় ছেলে। কেবলমাত্র বড় ছেলে ইসমাঈল (আ.)ই ইবরাহীম (আ.)এর “একমাত্র পুত্র” হওয়া সম্ভব। ইসহাক (আ.)এর জন্মের আগ পর্যন্ত ১৪ বছর ধরে তিনিই ছিলেন ইবরাহীম (আ.)এর “একমাত্র পুত্র”।
প্রকৃতপক্ষে ঝামেলাটা আছে ইহুদি-খ্রিস্টানদের গ্রন্থে। বাইবেলের পুরাতন নিয়ম (ঙষফ ঞবংঃধসবহঃ) অংশের লেখক হচ্ছে ইহুদিরা। তারা একে ঞধহধশয বলে। ইহুদিরা এই ঘটনায় ইসমাঈল (আ.) ও ইসহাক (আ.)এর নাম অদলবদল করতে গিয়ে তালগোলটা বাঁধিয়েছে। ইহুদিরা চেয়েছিলো কুরবানির ঘটনায় ইসমাঈল (আ.)এর নাম বদলে ইসহাক (আ.)এর নাম বসাতে, কারণ ইসহাক (আ.) তাদের পূর্বপুরুষ।
সিরিয়ায় এক ব্যক্তি থাকতেন যিনি পূর্বে একজন ইহুদি পণ্ডিত ছিলেন এবং ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে মুসলিম হয়েছিলেন। খলিফা থাকাকালীন উমার ইব্নে আবদুল আযীয(রহ.) তাঁকে এ বিষয়ে [জবিহুল্লাহ কে ছিলেন] জিজ্ঞেস করলেন।
তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেন- ইব্রাহিমের(আ.) দুই ছেলের মধ্য থেকে কাকে কুরবানী করার জন্য আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছিলেন? ঐ পণ্ডিত ব্যক্তি বললেন- তিনি ছিলেন ইসমাঈল(আ.)। আল্লাহর শপথ হে আমিরুল মু’মিনীন! ইহুদিরাও এটা ভালো করেই জানে। কিন্তু শুধুমাত্র হিংসার কারণে তারা এটা স্বীকার করে না। আরবদের মূল হলেন ইব্রাহিমের(আ.) ছেলে ইসমাঈল(আ.), আর ইহুদিদের মূল এসেছে ইসহাক(আ.) থেকে। তাই হিংসার বশবর্তী হয়ে তারা ইসমাঈলকে(আ.) প্রাধান্য দিতে অস্বীকার করে। (তাবারী ২১/৮৫; তাফসির ইবনে কাসির, সূরা আস সফফাতের ১০৩-১১৩ আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য)।
এই কুকাজটা করতে গিয়ে তাদের কিতাবে এই হাস্যকর বৈপরিত্য বা স্ববিরোধিতার উদ্ভব হয়েছে।
কাজেই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, কুরআন ও হাদীসের বর্ণনায় কোনো বৈপরিত্য বা ঝামেলা নেই। বরং ইহুদি-খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ তানাখ (ঞধহধশয) ও বাইবেলে ইসমাঈল (আ.) ও ইসহাক (আ.)এর নাম অদল-বদল করে হযরত ইসমাঈল (আ.)কে কুরবানির ঘটনা থেকে সরানো এবং ইসমাঈল (আ.)এর নামে একটি বানোয়াট ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার কারণেই তাদের গ্রন্থে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।
কুরআন ও হাদীসের বর্ণনা মেনে নিলে আর এই সমস্যা থাকে না, বরং ব্যাপারগুলো খাপে খাপে বসে যায়। অথচ নাস্তিক-মুক্তমনারা অন্ধভাবে ইহুদি-খ্রিস্টানদের গ্রন্থের বিবরণের উপরেই নির্ভর করে, শুধুমাত্র ইসলামকে অসৎ উপায়ে ভুল প্রমাণ করার জন্য। অথচ এতে তাদের নিজেদের ভুল অবস্থান তো প্রমাণ হলোই, ইহুদি-খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থের বিকৃতিও প্রমাণ হলো।
আমরা মুসলিমগণ আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ নবী-রাসূলদের মধ্যে পার্থক্য করি না (সূরা বাকারা- ২৮৫ আয়াত)। আমরা সকল নবী-রাসূলকেই বিশ্বাস করি ও ভালোবাসি। কুরআন-হাদীসে যদি বলা হতো ইসহাক (আ.) যাবীহুল্লাহ, তাহলে আমরা নির্দ্বিধায় তা মেনে নিতাম। ইসমাঈল (আ.) ও ইসহাক (আ.) উভয়কেই আমরা ভালোবাসি। কিন্তু ব্যাপার হচ্ছে কুরআন-সুন্নাহ এবং বাইবেল সকল সূত্র থেকেই এটা প্রমাণিত যে, ইসমাঈল (আ.)ই যাবীহুল্লাহ।
যারা প্রকৃত সত্য তথ্য জানতে চায়, তাদের জন্য উপরের তথ্যভিত্তিক এই আলোচনাই যথেষ্ট মনে করি। এ ছাড়াও আরো অনেক তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, তার উল্লেখ করে নিবন্ধের কলেবর দীর্ঘ করার জরুরত মনে করছি না। আশা করি, হক তথা সত্যান্বেষীদের জন্য এ বিষয়ে আর কোনো সংশয় থাকবে না। আর সাধারণ মুসলমানদের কর্তব্য, তারা যেন নিজের আকীদায়ে মুতাওয়ারাসার বিষয়ে স্বার্থান্বেষী কিংবা অজ্ঞ লোকদের কুমন্ত্রণায় প্রভাবিত হয়ে নিজের ঈমানকে সংশয়যুক্ত না করেন।
আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে ইহুদী, খ্রিস্টান ও ইসলাম নির্মূলবাদী নাস্তিক্যবাদি চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
উম্মাহ২৪ডটকম:আইএএ








