ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গত মে মাসে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর (বিএসএফ) হামলায় ৬ বাংলাদেশি নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ১৪ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে সীমান্তে ছয়টি হামলার ঘটনায় ছয়জন নিহত হন এবং ২০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ। একই সময়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। এছাড়া চারটি পৃথক ঘটনায় ১৮ জনকে আটক করেছে আরাকান আর্মি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে দেশে ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং ২৮৯ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির একজন, জামায়াতের একজন, ইউপিডিএফের দুজন এবং একজন সাধারণ নারী রয়েছেন। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এসব সহিংসতার ঘটনায় ১৩৪টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
এছাড়া মে মাসে ৬৬টি গণপিটুনির ঘটনায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন। চুরি, ডাকাতি ও ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে এইচআরএসএস জানায়, মে মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৭৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪২ জন সরাসরি আহত হয়েছেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে ১১টি ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকারকে আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশের কারণে গ্রেপ্তারের ঘটনা অব্যাহত থাকলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
উম্মাহ২৪ডটকম:আইএএ








