জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব করেছে। দলটির দাবি, এই বাজেটের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
শনিবার জাতীয় যুবশক্তির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ছায়া বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
এনসিপির প্রস্তাবিত বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৬২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বেশি। তবে বাজেট ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ০৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দলটি মূল্যস্ফীতি বর্তমান ৯ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশে এবং পরবর্তী অর্থবছরে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
রাজস্ব আহরণে নতুন উদ্যোগ
ছায়া বাজেটে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বর্তমান ৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে প্রথম বছরেই ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা, টিআইএন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্য সমন্বয়, সম্পদ কর চালু, বন্দর ডিজিটালাইজেশন এবং অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি বাতিলের মতো পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে।
এনসিপির হিসাব অনুযায়ী, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে অতিরিক্ত ৭৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।
কর কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রস্তাব
প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া নারী ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এনসিপি জাকাতকে আয়কর রিবেট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি উত্তরাধিকার কর চালু এবং করপোরেট করহার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও দিয়েছে।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
কর্মসংস্থান ও ব্যাংকিং সংস্কারে গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “৭ জুন থেকে আমাদের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। বর্তমান সরকার একটি সংকটকালীন অর্থনীতি হাতে পেয়েছে। আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া অর্থনীতিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩০ শতাংশেরও বেশি।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো জ্বালানি আমদানিনির্ভর। প্রতি বছর জ্বালানি আমদানিতে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করতে হয়। পাশাপাশি ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝাও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার।”
অনুষ্ঠানে এনসিপির ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ এবং উপপ্রধান আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
উম্মাহ২৪ডটকম:আইএএ








