যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতি আরও তীব্র হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি মোহাম্মদ ভাল জানান, শনিবার ভোরে ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর কয়েকটি জাহাজের দিকে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী হরমুজগান প্রদেশের সিরিক বন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
তবে এ ঘটনায় এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে এতটুকুই নিশ্চিত করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা গত কয়েক দিন ধরে চলমান উত্তেজনারই ধারাবাহিকতা। এর আগে দুই দিন আগে উভয় দেশ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে একে অপরকে দোষারোপ করেছিল। কে আগে হামলা চালিয়েছে, তা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেখা যায়।
এদিকে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি এলাকায় ইরানের পক্ষ থেকে ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরান এ বিষয়ে আরও তথ্য জানাতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি অঞ্চলটির সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও সংঘাতপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান এ অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সহযোগিতা করুক।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
অন্যদিকে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও উপস্থিতি বজায় রাখবে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই প্রণালি তাদের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বাহরাইনে জরুরি সতর্কীকরণ সাইরেন বাজানো হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সাইরেন সক্রিয় করার বিষয়টি নিশ্চিত করে নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং দ্রুত নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রণালয় বলেছে, “নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং দ্রুত নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।”
সূত্র/- আল জাজিরা
উম্মাহ২৪ডটকম:আইএএ








