ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। তবে আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পথ এখনো খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটনকে অন্য বিকল্পও বিবেচনা করতে হতে পারে, যার পরিণতি সুখকর নাও হতে পারে।
শুক্রবার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের চিপেওয়া ফলসে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতারা নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় এবং গর্বিত। এ কারণে সমঝোতার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, “তারা শক্তিশালী, তারা গর্বিত। এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা তারা কখনো করবে বলে ভাবেনি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত করতে হবে। তাদের আর কোনো উপায় নেই, শুধু সময় লাগছে।”
সংঘাত চতুর্থ মাসে
ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বর্তমানে চতুর্থ মাসে প্রবেশ করেছে। এপ্রিল মাসে উভয় পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও পরবর্তীতে কয়েক দফা তা বাড়ানো হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘সময় লাগবে’ বললেন ট্রাম্প
সমালোচকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের অবসান রাতারাতি সম্ভব নয়।
তার ভাষায়, এ ধরনের জটিল সংকট সমাধানে ধৈর্য এবং সময় প্রয়োজন।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ইরানের হাতে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বিদ্যমান রয়েছে।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এসব দাবির স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ইরানও ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছে।
নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইঙ্গিত
এর আগে বিভিন্ন বক্তব্যে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলে ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নীতিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার বলে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান ছাড়া নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই।
নজরে আন্তর্জাতিক মহল
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য দূরত্ব রয়েছে।
ফলে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হবে, নাকি পরিস্থিতি আবারও উত্তেজনার দিকে মোড় নেবে—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর নজর রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার সঙ্গে এই আলোচনার ফলাফল সরাসরি সম্পর্কিত। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে নতুন কোনো সংঘাত দেখা দিলে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
সূত্র/- রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ
উম্মাহ২৪ডটকম:আইএএ








