যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলি গুপ্তচরবৃত্তির কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ ও নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরাইলের গোয়েন্দা তৎপরতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সম্প্রতি আরও উচ্চ ঝুঁকির পর্যায়ে মূল্যায়ন করেছে।
শুক্রবার এনবিসি নিউজ প্রথম এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরদিন শনিবার নিউ ইয়র্ক টাইমসও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, পেন্টাগনের অধীনস্থ গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) ইসরাইলি গুপ্তচরবৃত্তির সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে নতুন সতর্কতা জারি করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের ওপর নজরদারির চেষ্টা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, ইরান-সংক্রান্ত মার্কিন নীতিগত অবস্থান এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে ইসরাইল আগ্রহী ছিল বলে গোয়েন্দা মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের গোয়েন্দা তৎপরতা নতুন নয়। তবে ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে এ ধরনের কার্যক্রম বৃদ্ধির লক্ষণ শনাক্ত করা হয়েছে বলে ডিআইএর মূল্যায়নে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, পেন্টাগনের নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবি এবং তাঁর সহযোগীদের ওপর নজরদারির চেষ্টা সংক্রান্ত কিছু তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার নজরে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
এদিকে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পায়নি বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাস প্রতিবেদনগুলোকে ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা ও সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। দুই দেশ নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করে থাকে এবং প্রতিরক্ষা খাতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও কিছু অতীত ঘটনার উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, পূর্ববর্তী বছরগুলোতেও মার্কিন স্থাপনা ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু স্থানে নজরদারি যন্ত্র স্থাপনের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র/- এনবিসি নিউজ
উম্মাহ২৪ডটকম:আইএএ








