Home ওপেনিয়ন শুধু আইন করে ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে না, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত সমন্বিত পদক্ষেপ

শুধু আইন করে ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে না, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত সমন্বিত পদক্ষেপ

।। মুনির আহমদ ।।

দেশে কিশোর অপরাধ এবং ধর্ষণ ও সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ ভয়াবহ আকারে বেড়ে গেছে। সংবাদপত্রের পাতা ভরে আছে প্রতিদিন এসব অপরাধের খবরে। ঘরে-বাইরে সাধারণ মানুষ এখন চরম অনিরাপদবোধ করছেন। সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে দেশের সাধারণ মানুষ। যাদের শিশু বা যুবতী মেয়েরা স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করে ওই সব পরিবারে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অসহায়ত্ব বিরাজ করছে। একের পর এক ধর্ষণ ও সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনায় অনেকেই ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন।

দেশের জাতীয় শিক্ষা থেকে ধর্মীয় শিক্ষা ও নীতি-নৈতিকতার পাঠকে সংকোচিত করে ভোগবাদের প্রতি উৎসাহিতকরণ, বিচার কাজে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অন্যায় হস্তক্ষেপ এবং তৃণমূল পর্যন্ত রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কিশোর-তরুণদের সঙ্ঘবদ্ধ উৎপাতের কারণেই এসব অপরাধের ঘটনা আশংকাজনক পর্যায়ে বিস্তার করেছে বলে অনেকের অভিমত।

পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষা থেকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা সংকোচন, প্রাচরমাধ্যম’সহ নানা অঙ্গনে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও ভোগবাদী প্রচারণার কারণে বেশির ভাগ কিশোর-তরুণদের মাঝে কোনো নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠতে পারছে না। বিশেষ করে কেজি স্কুল সংস্কৃতির কারণে ভোর বেলার মক্তব শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় শিশু-কিশোর-তরুণদের নৈতিকতা শিক্ষায় বড় রকমের ক্ষতি হয়ে গেছে।

আরও পড়তে পারেন-

এসব বহুমুখী কারণে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলার মানসিকতা তৈরি হচ্ছে না। এর সাথে পাল্লা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ইউটিউবে নাস্তিক্য মতবাদ, নগ্ন সংস্কৃতির ব্যাপক ছড়াছড়ির ফলে সহজেই তরুণরা বিপথগামি হচ্ছে। তা ছাড়া দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তো আছেই। আবার আইনের ফাঁক গলিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। বিচারে রাজনৈতিক বিবেচনার প্রয়োগনের কারণে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় থাকা তরুণদের মাঝে ‘অপরাধ করলেও কিছুই হবে না’ – এমন মানসিকতার উপস্থিতি থাকায় তাদেরকে আরো বেশি অপরাধপ্রবণ করে তুলছে। যে কারণে ধর্ষণের মত ঘৃণ্য অপরাধগুলোও দিনকে দিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

আগে ধর্ষণকে একটি সামাজিক অপরাধ হিসেবে দেখা হতো। যার কারণে সমাজের কেউ এ ধরণের অপরাধ করলে এলাকার মাতব্বর, মেম্বার-চেয়ারম্যান ও আলেম-ওলামাদের সমন্বয়ে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে বিচার করা হতো। এখন সেই বিচার আর হয় না। গ্রামীণ বিচারের জায়গাও ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের হানায় সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছে। কোর্ট-কাচারিতেও সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত বিচার পাচ্ছে না, সামাজিক বিচারও ভেঙ্গে পড়েছে। যে কারণে অপরাধপ্রবণ তরুণরা একেবারেই বেপরোয়া হয়ে গেছে। তদুপরি আলেম-ওলামাদের ফতোয়ার বিরুদ্ধেও নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়। ফলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অবক্ষয় ঝেঁকে বসেছে।

বর্তমানে দেশে যে হারে ধর্ষণ ও গণধর্ষণ ছড়িয়ে পড়েছে, এ জন্য উলামায়ে কেরাম ও সমাজবিদগণ নারী-পুরুষের অবাধ চলাচলের সুযোগ ও ব্যভিচারের ছড়াছড়িকেই দায়ী করছেন। ব্যভিচারকে কঠোর অপরাধ হিসেবে বিবেচনার হার কমতে থাকায় এবং বিচারহীনতার কারণে ব্যভিচারের সাথে সমান পাল্লা দিয়ে ধর্ষণ ও সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধের মতো ঘটনাও দিনকে দিন বাড়ছে।

তাই এই অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে হলে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই। আর তা হচ্ছে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় ও নৈতিকতার শিক্ষা যুক্ত করে ঢেলে সাজাতে হবে। সকাল বেলার মক্তব শিক্ষা ব্যবস্থা পুরনায় চালু করার বিষয়ে প্রশাসন ও সমাজবিদদেরকে ভাবতে হবে। সহশিক্ষা বন্ধ করে সকল স্তরে পৃথক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি পৃথক কর্মসংস্থান ও নগর চলাচলে পৃথক যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিয়ে ব্যবস্থায় বয়স ও অন্যান্য সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।

বিচার কাজে রাজনৈতিক বিবেচনা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে। সর্বস্তরে ব্যভিচার বন্ধে শক্ত পদক্ষেপ থাকতে হবে এবং ব্যভিচারের মতো অপরাধ বন্ধে ইসলামী শাস্তি প্রয়োগ চালু করতে হবে। প্রশাসনের তরফ থেকে শক্ত হাতে সঙ্ঘবদ্ধ কিশোর অপরাধ উৎখাতে তৎপর হতে হবে। অভিভাবকদেরকেও কিশোর অপরাধের জন্য শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

কিশোরদেরকে রাজনৈতিক ছত্রছায়াদান বন্ধ করতে হবে এবং এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। স্থানীয় সরকারকে বিরাজনৈতিক করতে হবে এবং পল্লী আদালতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে এর তৎপরতা বাড়াতে হবে। সমাজের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সকল স্তরের নেতৃস্থানীয়দের সমন্বয়ে সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধী কমিটি করতে হবে।

ইসলামে ব্যভিচারিতাকে অন্যতম গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, ব্যভিচারের ছড়াছড়ির ফলে একটা পরিবার, সমাজ ও দেশ দ্রুত ভেঙ্গে পড়ে এবং অধ:পতনের দিকে ধাবিত হয়। তাই ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ বন্ধ করতে হলে ধর্ষণের মতো বিয়ের সম্পর্ক বহির্ভুত যৌনতা তথা ব্যভিচার বন্ধ করাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এসব করা সম্ভব হলে, ইনশাআল্লাহ ধর্ষণ, সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ ও কিশোর অপরাধ দমনে কাঙ্খিত ফলাফল লাভ সম্ভব হবে বলে জোর আশা করা যায়।

– মুনির আহমদ, সম্পাদক- উম্মাহ ২৪ ডট কম।

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।