Home আন্তর্জাতিক ইসরায়েলে ইরান, ইয়েমেন ও লেবাননের সমন্বিত হামলা; ‘সাময়িক যুদ্ধবিরতি’ মানবে না তেহরান

ইসরায়েলে ইরান, ইয়েমেন ও লেবাননের সমন্বিত হামলা; ‘সাময়িক যুদ্ধবিরতি’ মানবে না তেহরান

ইসরায়েলের ওপর আবারও বড় ধরনের সমন্বিত হামলা শুরু হয়েছে। দেশটির রাজধানী জেরুসালেম, বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিব এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এইলাতসহ বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান থেকে নতুন করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসার সংকেত পাওয়ার পর সোমবার মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েল এবং জেরুসালেমের দক্ষিণাঞ্চলে বিপদ সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়। এর কিছুক্ষণ পরই আকাশজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।

‘টাইমস অব ইসরায়েল’ দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাতে জানিয়েছে, লোহিত সাগর তীরের শহর এইলাতকে লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে একযোগে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘আরুতজ শেভা’ বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘তিন দিক থেকে পরিচালিত সমন্বিত আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান, লেবানন এবং ইয়েমেন—এই তিনটি ফ্রন্ট থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একযোগে হামলা চালানো হচ্ছে।

ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও এই বহুমাত্রিক হামলার ফলে দেশজুড়ে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে সর্বশেষ এই হামলার ঢেউয়ে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে হামলা: ‘ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনার’ সতর্কতা আইএইএ’র

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে চলমান সামরিক তৎপরতা ও হামলার ঘটনায় ‘ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনার’ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।

সোমবার সংস্থাটি এক কড়া হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর মারাত্মক প্রভাব ইরানের সীমান্ত ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রোববার বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের অত্যন্ত নিকটবর্তী এলাকায় একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো কেন্দ্রটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলো।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা স্বতন্ত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্রটির অত্যন্ত কাছে হয়েছে। এর মধ্যে একটি আঘাত কেন্দ্রটির সীমানা প্রাচীর থেকে মাত্র ৭৫ মিটার দূরত্বে ছিল। তবে আইএইএ স্পষ্ট করেছে যে, এখন পর্যন্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মূল অবকাঠামো বা চুল্লির কোনো ক্ষতি হয়নি।

আইএইএ সতর্ক করে বলেছে, পারমাণবিক স্থাপনার এত কাছাকাছি সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। সামান্য ভুল বা সরাসরি আঘাতে বড় ধরনের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ঘটতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।


আইআরজিসি কুদস ফোর্সের আন্ডারকভার ইউনিট প্রধানকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এলিট শাখা ‘কুদস ফোর্স’-এর আন্ডারকভার ইউনিটের প্রধানকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র নাদাভ শশানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের অভিযানে কুদস ফোর্সের বিশেষ এই ইউনিটের শীর্ষ নেতা আসগর বাকেরি নিহত হয়েছেন।

সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আসগর বাকেরি কুদস ফোর্সের সেই বিশেষ ইউনিটের নেতৃত্বে ছিলেন যেটি মূলত বিদেশে বিভিন্ন গোপন ও বহিঃস্থ অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

তবে এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


ইরানের হামলায় ইসরায়েলের অন্তত ২৮ স্থান ক্ষতিগ্রস্ত

ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঢেউয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি জরুরি পরিষেবাগুলোর বরাতে জানা গেছে, দেশটির মধ্যাঞ্চলের অন্তত ২৮টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরান এই হামলায় নিষিদ্ধ ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করেছে। হামলার শিকার হওয়া উল্লেখযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে রামাত গান, বেনি ব্রাক এবং গিভাতাইম। এসব এলাকার অন্তত ২০টিরও বেশি সাইট সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়তে পারেন-

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামলায় ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মাঝারি ধরনের জখম হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


ইরানের আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা

ইরানের দক্ষিণ পার্স অঞ্চলের আসালুয়েহ জ্বালানি হাবে ইসরায়েলি বিমান হামলার নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসালুয়েহর জাম এবং দামাভান্দ পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঘাতটি এসেছে ‘মোবিন’ এবং ‘দামাভান্দ’ নামক কোম্পানি দুটির ওপর।

এই প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত পুরো আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, পানি এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে আসছিল। এই পরিষেবাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো কমপ্লেক্সের উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, একই শিল্প এলাকায় অবস্থিত ‘পার্স পেট্রোকেমিক্যাল’ প্ল্যান্টটি নিরাপদ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, এই বিশেষ প্ল্যান্টটিতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারে মার্কিন বাহিনীর চালানো বিশেষ অভিযানটি আসলে ইরান থেকে ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির’ একটি ছক হতে পারে বলে দাবি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই তথাকথিত উদ্ধার অভিযান নিয়ে ‘অনেক প্রশ্ন এবং অনিশ্চয়তা’ রয়েছে।

অভিযানের ভৌগোলিক অসঙ্গতি তুলে ধরে বাগাই বলেন, ‘কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশে মার্কিন পাইলট থাকার যে দাবি করা হয়েছে, তা মধ্যাঞ্চলীয় ইরানের সেই এলাকা থেকে অনেক দূরে যেখানে তারা তাদের বাহিনী নামানোর চেষ্টা করেছিল বা নামাতে চেয়েছিল।’

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।