Home আন্তর্জাতিক ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হলে ধসে পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতি: আইএমএফ

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হলে ধসে পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতি: আইএমএফ

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ পরিস্থিতিতে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে যুক্তরাজ্য।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনভিত্তিক এই সংস্থা জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং সেই ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬ সালের জন্য বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়ে দিয়েছে আইএমএফ।

সংস্থাটির অর্ধবার্ষিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানির দাম যদি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণেও আসে, তবুও জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি কমবে এবং মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে।

তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে, অর্থাৎ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়লে এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি ১৯৮০ সালের পর পঞ্চমবারের মতো বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

আরও পড়তে পারেন-

এই সতর্কবার্তার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর কড়া সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস। তিনি বলেন, “ইরান যুদ্ধ আমাদের নয়, কিন্তু এর মূল্য আমাদের দিতে হচ্ছে।”

র‍্যাচেল রিভস আরও বলেন, সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা ছাড়া কোনো সংঘাতে জড়ানো বোকামি। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে তিনি হতাশ ও ক্ষুব্ধ বলেও মন্তব্য করেন।

আইএমএফ জানিয়েছে, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে গেলেও সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাবে জ্বালানি আমদানিকারক ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। সংস্থাটি ২০২৬ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ০.১ শতাংশ কমিয়ে ২.৩ শতাংশে নামিয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির জন্য পূর্বাভাস আরও উদ্বেগজনক। দেশটির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ০.৫ শতাংশ কমিয়ে ০.৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা সরকারি লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ।

আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়ের-অলিভিয়ের গৌরিনকাস সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি প্রতিদিনই অবনতির দিকে যাচ্ছে। যদি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের বেশি হয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী থাকে, তাহলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে নেমে আসবে, যা কার্যত বিশ্বমন্দার সমতুল্য।

সবশেষে সংস্থাটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে অকার্যকর ভর্তুকি বা মূল্য নিয়ন্ত্রণের বদলে লক্ষ্যভিত্তিক ও সাময়িক নীতি গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।