Home আন্তর্জাতিক ইরানের ইউরেনিয়াম অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে: নেতানিয়াহু

ইরানের ইউরেনিয়াম অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে: নেতানিয়াহু

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু - ছবি - সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার কেন্দ্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত এই সংঘাতের সমাপ্তি হবে না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ-এর ওয়াশিংটন বিষয়ক প্রধান প্রতিনিধি মেজর গ্যারেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, “আমার মনে হয়, এই যুদ্ধ থেকে আমরা ইতোমধ্যে অনেক কিছু অর্জন করেছি। এখন যুদ্ধবিরতি চলছে, কিন্তু যুদ্ধ শেষ হয়নি। যতদিন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ না করা হবে, ততদিন এই যুদ্ধ চলবে।”

তিনি আরও বলেন, “ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অবশ্যই অপসারণ করতে হবে। এটিই এই সংকট নিরসনের মূল শর্ত।”

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বল প্রয়োগ করে অভিযান চালানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু সরাসরি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, “আমি এ প্রশ্নের উত্তর দেব না। আমাদের সামরিক পরিকল্পনা বা সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আমি এখানে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”

জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)–এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে, এই ইউরেনিয়াম যদি ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় উন্নীত করা যায়, তাহলে তা দিয়ে একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।

এই মজুতকে কেন্দ্র করেই গত বছর জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ১২ দিনের সেই অভিযানে ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, কথিত ইউরেনিয়াম মজুতের অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।

এরপর চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দফায় দফায় কূটনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।

আরও পড়তে পারেন-

সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রায় ৪০ দিন ধরে সংঘাত চলার পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, যাতে সমর্থন জানায় ইসরায়েলও।

পরবর্তীতে স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে ১১ এপ্রিল আবারও আলোচনায় বসে দুই পক্ষ। কিন্তু ২১ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পরও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি–কে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, “ইরান এখনও তাদের গোপন স্থাপনাগুলোতে ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধকরণ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সক্ষমতা কিছুটা কমেছে, কিন্তু তা শেষ হয়ে যায়নি।”

ইরানের ইউরেনিয়াম কীভাবে অপসারণ করা হতে পারে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “যদি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়, তাহলে সেখানে গিয়ে ইউরেনিয়াম নিয়ে আসা সম্ভব—যেমনটা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন। তবে সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আমি কিছু বলব না।”

যুদ্ধ কবে শেষ হতে পারে—এমন প্রশ্নে নেতানিয়াহু বলেন, “আমার কাছে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। তবে এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি, এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইউরেনিয়ামই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ এখন শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক কূটনীতি ও শক্তির ভারসাম্যের জন্যও বড় একটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উম্মাহ২৪ডটকম:আইএএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।