Home আন্তর্জাতিক লেবানন ইস্যুতে উত্তেজনা বৃদ্ধি: ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা আঘাত তেল আবিবের

লেবানন ইস্যুতে উত্তেজনা বৃদ্ধি: ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা আঘাত তেল আবিবের

ছবি: আমির কোহেন/রয়টার্স

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হলে জবাব দেওয়া হবে—এমন সতর্কবার্তার পর ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এর জবাবে ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা মধ্য ও পশ্চিম ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

রোববার রাতে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কসংকেত (সাইরেন) বেজে ওঠে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ইরান থেকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ লেবাননের টায়ার ও নাবাতিয়াহ অঞ্চলে বেসামরিক জনগণের হতাহত ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ভবিষ্যৎ জবাব আরও ব্যাপক হবে এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোও এর আওতায় আসতে পারে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, তেহরান বহুবার জানিয়েছে যে তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসন মেনে নেবে না। তাঁর দাবি, ইসরায়েলকে দেওয়া এ জবাব ছিল একটি সতর্কবার্তা।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইরানি হামলায় কেউ আহত হয়নি এবং তিনি চান না যে পাল্টা হামলার মাধ্যমে উত্তেজনা আরও বাড়ুক। ট্রাম্প জানান, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাবেন।

আরও পড়তে পারেন-

তবে ট্রাম্পের আহ্বানের পরও ইসরায়েল ইরানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। হামলার পর তেহরান, ইসফাহান ও তাবরিজে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে দক্ষিণ লেবানন। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা হলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইরান একাধিকবার সতর্কবার্তা দেওয়ার পর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

রোববার ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়াহে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে ইসরায়েল সব ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলা অব্যাহত থাকলে অধিকৃত অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রোববার দাহিয়াহর একটি জনবহুল এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে তেহরান শুধু কূটনৈতিক পথ পুনর্বিবেচনাই করবে না, বরং সরাসরি সংঘাতের পথেও অগ্রসর হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক এ উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক মহল নিবিড় নজর রাখছে।

উম্মাহ২৪ডটকম:আইএএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।