Home আন্তর্জাতিক জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ব্যবহারের মার্কিন পরিকল্পনার খবরে তেহরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া

জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ব্যবহারের মার্কিন পরিকল্পনার খবরে তেহরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পূরণে জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ব্যবহারের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী বলেছেন, আঞ্চলিক কোনো দেশই ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার অবস্থানে নেই।

রোববার (৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ঘারিবাবাদী বলেন, “ইরানের সম্পদ ওয়াশিংটনের জন্য কোনো যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নয়, আবার তা তাদের মিত্রদের মধ্যে বণ্টনের জন্যও কোনো অর্থভান্ডার নয়।”

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট একটি বিশেষজ্ঞ দলকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে ইরানি হামলার কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন ও অতীতের ক্ষয়ক্ষতি পূরণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহার করে মিত্র দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ঘারিবাবাদী বলেন, ইরান সরকারের সম্মতি ছাড়া দেশটির কোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত, স্থানান্তর বা বণ্টন করা হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং একটি ‘নতুন আন্তর্জাতিক অপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার কথা বলার পাশাপাশি এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং ইরান এর যথাযথ জবাব দেবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তেহরানের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা।

আরও পড়তে পারেন-

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক হামলায় নিক্ষিপ্ত সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা হয়েছে। হামলার ফলে কুয়েতে কিছু ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে শুধু জ্বালানি অবকাঠামো মেরামতেই উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।

ঘারিবাবাদী আরও দাবি করেন, আঞ্চলিক কিছু দেশ তাদের ভূখণ্ড ও সামরিক স্থাপনা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। ফলে ক্ষতিপূরণ দাবি করার পরিবর্তে তাদেরই ইরানের কাছে জবাবদিহি করা উচিত।

উল্লেখ্য, ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা তাদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে। তেহরানের মতে, যুদ্ধ অবসান ও উত্তেজনা প্রশমনের আলোচনায় স্থগিত সম্পদ মুক্ত করা, বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কিছু কৌশলগত ইস্যুতে সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়েছে।

সূত্র/- রয়টার্স

উম্মাহ২৪ডটকম:আইএএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।