Home ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন ইসলামী মৌলবাদ প্রতিরোধ মানে অনৈসলামী মৌলবাদ প্রতিষ্ঠা করা

ইসলামী মৌলবাদ প্রতিরোধ মানে অনৈসলামী মৌলবাদ প্রতিষ্ঠা করা

1

।। আব্দুল্লাহ মাসউদ ।।

হক্ব ও বাতিলের চির সংঘাত পৃথিবীর উষালগ্ন থেকেই চলে আসছে এবং এ দু’য়ের দ্বন্দ্বিক অভিসফর পৃথিবীর বিদায়লগ্ন পর্যন্ত এ ক্রমধারায় চলবেই। পক্ষান্তরে হক্বের বিজয় হয়েই আসছে। ইরশাদ হয়েছে- “সত্য সমাগত মিথ্যা অপসৃত, মিথ্যার পতন অবশ্যম্ভাবী।” (সুরা-১৭, আয়াত-৮১)

তেমনিভাবে ঊনবিংশ শতাব্দীর পশ্চাতে যখন ইসলামের নব জাগরণের জ্যোতির্ময় প্রভাব বিস্তৃত থেকে বিস্তৃততর হয়ে চলছে, আফগানসহ সারা বিশ্বে ইসলামের নিরব অগ্রযাত্রা অব্যাহত গতিতে চলছে, ঠিক সেই মুহর্তে বেশামাল হয়ে পড়ছে বাতিল পন্থীরা। তাই ইসলামের এই অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য, একে গলাটিপে হত্যা করার উদ্দেশ্যে সর্বমুখী প্রতিরোধ গড়ে তোলার ব্যর্থ প্রয়াসে মেতে উঠেছে। ওদেরই ঘাতক এজেন্ট তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরা এদেশের ১৩ কোটি তাওহীদী হৃদয়ে ইসলামের সুবিশাল ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা এবং শাশ্বত-সুন্দর বিধানাবলীর প্রতি ঘৃণা ও অবিশ্বাস সৃষ্টির লক্ষ্যে অবজ্ঞা, বিদ্রুপ ও ব্যাঙ্গাত্মক হীন উদ্দেশ্য নিয়ে ইসলামকে ‘মৌলবাদ’ ও ইসলামের অনুসারী ও তার ধারক বাহকদেরকে ‘মৌলবাদী’ বলে আখ্যায়িত করছে।

নামধারী বুদ্ধিজীবী এবং এদের ঘাতক দালাল ও সমর্থকরা কি বাস্তবে এ শব্দ দু’টির যথার্থ অনুধাবন করেই এ নগ্ন বুলি আউড়াচ্ছে নাকি পশ্চিমা শক্তি ও অর্থের প্রলোভনে করছে? তারাই ভাল জানে। এ মহলটি মাঝে মাঝে “মৌলবাদ” নিষিদ্ধ করারও জোর দাবী তুলে থাকে। আসলে আমি মনে করি যে, জ্ঞানের সংকীর্ণতাই এ জন্য প্রধান দায়ী। কোত্থেকে এল এ শব্দটি বাংলা ভূমিতে বিকৃত অর্থ নিয়ে? “মৌলবাদ” শব্দটির প্রকৃত অর্থই বা কি কোন দিন যাচাই করে দেখেছি?

তাহলে আসা যাক মৌলবাদ শব্দের উৎপত্তিস্থলে। ঐতিহাসিকভাবে মৌলবাদ একটি অরাজনৈতিক খ্রীস্টান ধর্ম-তাত্তিক আন্দোলন। ১৯০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৌলবাদের উন্মেষ ঘটে। পাঁচটি খ্রীস্টীয় মূল বিশ্বাস বা “ফান্ডামেন্টালস্” (মূল বিষয়সমূহ) এর ভিত্তিতে এ অন্দোলন গড়ে উঠেছিল বলে একে ফান্ডামেন্টালিজম বা মৌলবাদ বলা হত। আন্দোলনকারীরা অন্যান্য খ্রীস্টান গেষ্ঠীগুলো থেকে নিজেদের স্বতন্ত্র বুঝাবার জন্য নিজেরাই মৌলবাদ নাম ধারণ করে। উল্লিখিত পঞ্চ বিশ্বাস হচ্ছে- (১) আক্ষরিক অর্থে বাইবেলের ঐশী বিশুদ্ধতা, (২) যিশু খৃষ্টের পূর্ণ ঐশ্বরিক সত্তা (৩) পিতা বা পুরুষ সংসর্গ ছাড়াই মাতা মেরির গর্ভে যিশুর জন্মলাভ (৪) ক্রুশে বিদ্ধ হবার পর যিশুর পূনরুত্থান ও দ্বিতীয় বার ভবিষ্যতে তাঁর পৃথিবীতে আগমন।

১৯২০ এর দশকে ব্রায়ানের নেতৃত্বে মৌলবাদী আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠে ও সাড়া সৃষ্টি করে। কিন্তু ১৯২৫ সালে তার মৃত্যুর পর এটি অনেকটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। তদসত্ত্বেও বিভিন্নভাবে খৃষ্টজগতে বিশেষ করে প্রোটেষ্টান্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে এ আন্দোলন অব্যাহত থাকে। কালক্রমে “মৌলবাদ” প্রোটেষ্টান্ট সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত একটি উপ-সম্প্রদায়ে পরিণত হয়। গোড়ার দিকে একটি খ্রীস্টান ধর্ম-তাত্তিক আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে মৌলবাদ শব্দটির উদ্ভব ঘটলেও প্রধানতঃ ২য় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে ইসলাম ও ইসলামী পূণর্জাগরণের ক্ষেত্রেই সাধারণভাবে মৌলবাদ শব্দটির প্রয়োগ শুরু হয়। পরবর্তীতে সব ধর্ম ও আদর্শের ক্ষেত্রেই সাধারণভাবে এ শব্দটির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। কাজেই এটি স্পষ্ট যে, সাধারণভাবে “মৌলবাদ” বিশেষ কোন আদর্শ বা মতবাদের নাম নয়। বরং মৌলবাদ অর্থে পূর্ণাঙ্গ জীবন ইসলামকেই বুঝায়।

আরও পড়ুন- ‘সুলতান মাহমূদ গজনবী’র ঐতিহাসিক ভারত অভিযান এবং সোমনাথ বিজয়’

প্রকৃতপক্ষে মূল থেকে “মৌলবাদ” শব্দের উদ্ভব ঘটেছে। মূল শব্দকে আরবীতে “আসলুন” বলে। যাকে ইংরেজীতে ফেন্ডামেন্ট বলা হয়। এ আসল বা মূল থেকে যা কিছু উদ্ভাবিত হয় তাকেই বলে “মৌলবাদ”। মৌলবাদের স্বরূপ উপলব্ধি করতে হলে আমাদেরকে আগে মূলের স্বরূপ সম্পর্কে জ্ঞাত হতে হবে। অন্যথায় মৌলবাদকে স্বরূপে অনুধাবন করা যাবেনা। আমরা জানি যে, মহান স্রষ্টা রাব্বুল আলামীন আল্লাহ তায়ালা পরম সত্তা। গোটা সৃষ্টি জগত এ মহান সত্তা থেকেই উৎসারিত। সকল সৃষ্টি জগতই অনিত্য ও ধ্বংসশীল। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালাই স্থিতিশীল। তাই এমর্মে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, অর্থঃ “সৃষ্টি কুলের সবই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে মহাগৌরবান্বিত প্রভুর জাত-ই থাকবে স্থিতিশীল হয়ে।” (সুরা- ৫৫, ২৬ আয়াত)।

আসল বা মূল এমন জিনিষই হওয়া লাগবে যা অনন্ত ও চিরঞ্জীব। নচেৎ মূল হবার যোগ্যতা থাকবে না। এ দৃষ্টিকোণ থেকে মহান প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালাই মূল। আর এ মূল থেকে যা কিছু উদ্ভব হয় এবং এ মূলকে কেন্দ্র করে যা কিছু আবর্তিত, বিকশিত ও প্রতিফলিত হয়, তাই হচ্ছে “মৌলবাদ ও মৌলবাদী”। বাতিলপন্থী আওয়ামীলীগসহ পাশ্চাত্য এজেন্টরা তাওহীদবাদী খালেছ মুসলিম উম্মাহ্কে বেতারসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রবাহে জাতীয়ভাবে মৌলবাদ বলে শ্লোগান ছুঁড়ছে। এই মূর্খের দলেরা জানে না যে, মৌলবাদই হচ্ছে তাদের আসল পরিচিতি। কারণ মৌলবাদ বা ইসলামের মূল অনুপ্রেরণা হচ্ছে “লা ইলাহা ইল্লাহ”। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় যাকে “কালিমায়ে তাইয়্যিবা” বা “কালিমায়ে তাওহীদ” বলা হয়।

মৌলবাদী মুসলিম উম্মাহর মূল অনুপ্রেরণা কালিমায়ে তাওহীদের স্বরূপ বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন- “আপনার কি জানা নেই আল্লাহ তায়ালা কেমন দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন, কালিমায়ে তাইয়্যিবা- তা একটি গাছের ন্যায়; যার শিকড় খুব দৃঢ় সংবদ্ধ এবং তার শাখাগুলো উচ্চাকাশে গিয়ে রয়েছে।” (সূরা-১৪, আয়াত-২৪)।

কুরআনে বর্ণিত উল্লিখিত আয়াত শরীফে আল্লাহ তায়ালা কালিমায়ে তাইয়্যিবাকে এমন একটি গাছের সাথে তুলনা করেছেন, যে গাছের শিকড় মাটির কেন্দ্র বিন্দুতে সুদৃঢ়ভাবে সংবদ্ধ এবং সেই দৃঢ় বদ্ধমূল গাছের শাখা-প্রশাখাগুলো সুউচ্চ আকাশ মন্ডলে সুবিন্যস্তভাবে বিস্তৃত। এ আয়াত শরীফের আলোকে দেখা যায় যে, মানব জাতি তথা কুল মাখলুকাতের মূল প্রেরণা হচ্ছে কালিমায়ে তাইয়্যিবা বা কালিমায়ে তাওহীদ। এ পবিত্র কালিমা মৌলবাদীর প্রাণ। উল্লিখিত দৃষ্টান্তের মাঝে এ সত্য আমাদের মাঝে প্রস্ফূটিত হয়ে যায় যে, মানব জাতিকে আল্লাহ তায়ালা সৃজন করেছেন মাটি থেকে আর মানব দেহের কেন্দ্র হচ্ছে তার ক্বলব বা হৃৎপিন্ড। আর কালিমায়ে তাওহীদ মানবসত্তার সাথে জন্মসূত্রে স্বভাবগতভাবে সম্পৃক্ত। এক কথায় বলা যায় যে, কালিমায়ে তাওহীদই হচ্ছে মানবসত্তার মূল অনুপ্রেরণা। যা তার কেন্দ্রবিন্দু ক্বলবে দৃঢ়ভাবে বদ্ধমূল। এ সূত্রে মৌলবাদী, অমৌলবাদী, বাতিলপন্থী প্রাথমিক পর্যায়ে সবাই ফিত্রতের উপর অস্তিত্ব প্রাপ্ত এবং সবাই মুসলিম।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালার ফরমান হচ্ছে- এটাই হল আল্লাহর স্বভাবগত ধর্ম (ইসলাম), যার উপরে তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। (সূরা-৩০, আয়াত-৩০)।

তেমনিভাবে হাদীস শরীফে রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- প্রতিটি মানব সন্তানই স্বভাব ধর্ম (ইসলাম)এর উপরে (ইসলামের পূর্ণ যোগ্যতা নিয়ে) জন্ম গ্রহণ করে। (মিশকাত)।

বর্ণিত কুরআন মাজীদের আয়াত ও হাদীস শরীফের বাণীর আলোকে বিচার বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মৌলবাদ বা ইসলাম যার মৌলিক অনুপ্রেরণা হচ্ছে কালিমায়ে তাইয়্যিবা। তা মানুষের উপরে বাইরে থেকে প্রক্ষিপ্ত কোন জিনিস নয়, বরং অস্তিত্বগতভাবে জন্মসূত্রে তার স্বভাব বা প্রকৃতির সাথে সম্পর্কযুক্ত। বৈষয়িক জীবনে যারা স্বভাবের সাথে সম্পৃক্ত, পবিত্র বাণীর যথাযথ লালন করেন, তারাই হলেন মুসলিম, তারাই হলেন মৌলবাদী।

উক্ত আলোচনা থেকে এটাও প্রতীয়মান হয়ে গেল যে, প্রত্যেক ধার্মিক ও নিষ্ঠাবান মুসলমানই কার্যত মৌলবাদী। যারা ধার্মিক মুসলমান অথচ নিজেদেরকে “অমৌলবাদী” মনে করেন, তাদের এ ধারণা অজ্ঞতা প্রসূত। প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়েও অনেক ধার্মিক লোক নিজেদেরকে মৌলবাদের সঙ্গে সম্পর্কহীন ভাবে। অথচ এমনটি ভাবার তত্তগতভাবে কোন সুযোগ নেই। যতক্ষণ কারও ইসলামের মূল বিষয়ের প্রতি আস্থা ও আনুগত্য থাকবে, ততক্ষণ তিনি অবশ্যই মৌলবাদী। তিনি স্বীকার করুন বা না করুন। এমনকি ঐ সব সেকুলার ভদ্রলোকেরা যারা আন্তরিকভাবে ধর্ম নিরপেক্ষতায়, ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী, যে নীতি প্রতিষ্ঠায় যারা প্রয়াস চালাচ্ছেন, লিখছেন, বলছেন, বিবৃতি দিচ্ছেন, তারাও মৌলবাদী, তবে সেকুলার মৌলবাদী। বামনীতির প্রতি যাদের আনুগত্য তারা হলেন বাম মৌলবাদী। নিষ্ঠাবান কমিউনিষ্টরা মৌলবাদী কমিউনিষ্ট। যারা বস্তুতন্ত্রে বিশ্বাসী তারা বস্তুতান্ত্রিক মৌলবাদী। এমনকি নাস্তিকতায় যাদের বিশ্বাস তারাও মৌলবাদী।

অতএব, আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী ও তাদের সমর্থক মহলরা হয় মৌলবাদী হবেন, না হয় নীতিহীন, মূলহীন, শিকড় হীন, আদর্শহীন সুবিধাবাদী হবেন। একজন নীতিবান ন্যায়নিষ্ঠ মানুষকে মৌলবাদী হতেই হবে। যার কোন আদর্শ নেই, কোন নীতি নেই, যে কোন মূলের ধার ধারেনা, যার কোন শিকড় নেই, যে উপরে উপরে চড়ে বেড়ায় সে মৌলবাদী না হতে পারে, কিন্তু যারা আদর্শের কথা বলেন, যারা নীতির কথা বলেন তারা মৌলবাদ বিরোধী হবেন কিভাবে? আপনি যদি ধর্মীয় মৌলবাদী না হয়ে থাকেন, তো অবশ্যই আপনি অধর্মীয় মৌলবাদী।

অবশ্য কেউ যদি নীতিহীন, আদর্শহীন, সুবিধাবাদী হয় তার কথা আলাদা। কাজেই ইসলামী মৌলবাদের বিরোধীরা নিশ্চিতভাবেই সেকুলার সমাজতান্ত্রিক বা বস্তুতান্ত্রিক মৌলবাদী। একজন নিষ্ঠাবান মৌলবাদই অন্য কোন মৌলবাদের বিরোধী হতে পারে। মৌলবাদী না হয়ে মৌলবাদের বিরোধীতা করা যায়না। যে কোন আদর্শ মানে না, কোথাও যার কোন বিশ্বাস বা আনুগত্য নেই সে সাধারণত কারও বিশ্বাস বা আদর্শের বিরোধীতা করেনা। সে অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে চলে।

কাজেই মৌলবাদ বিরোধীতার কল্পনা-জল্পনা অর্থহীন, নির্বুদ্ধিতা মাত্র। অবশ্য যদি মৌলবাদ বিরোধীতার অন্তরালে ইসলাম ও মুসলমানদের চেতনা জাগরণ ও উত্থানকে ঠেকানো কারো খেয়ালে থাকে, তাহলে ওরা প্রকাশ্য খোলাখুলিই বলুক। জাতি অন্তত ওদেরকে ভন্ড বা প্রতারক বলবেনা। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, মুসলমান দাবী করে মুসলমান পরিচয় দিয়ে ইসলাম বা মুসলমানের পূণর্জাগরণ ও উত্থানের বিরোধীতা করার কোন সুযোগ নেই। ইসলাম বা মুসলিম উত্থানের বিরোধীতা করতে হলে মুসলিম পরিচয় থেকে নিজেকে সর্বাগ্রে মুক্ত করতে হবে। মাঝামাঝি অবস্থান অসততা, ভন্ডামি, প্রতারণা মাত্র।

পরিশেষে বলতে চাই, আজ যারা প্রগতির অন্ধ অহমিকার রেড়াজালে বন্দী হয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন, তাদেরকে বলি- আসুন নিজেকে চিনি, নিজের পরিচয় গ্রহণ করি, ইসলামকে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করে একটি শোষণমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলি। খামাখা পশ্চিমা প্রভুদের টাকাগুলো না খোইয়ে নিজেকে একজন নীতিবান মানবরূপে গড়ে তুলি। প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মৌলবাদ, ধর্মান্ধ, মধ্যযুগীয় ইত্যাদি গালি গালাজসহ নানা প্রকারের মিথ্যা অপপ্রচারের বেসাতি দিয়ে তাওহীদবাদী খাঁটি মানুষগুলোকে বিভ্রান্তিতে ফেলানোর হীনচক্রান্ত পরিহার করে দেশ ও জাতিকে কি রূপে সফলতার স্বর্ণশিখরে পৌঁছান যায়, সে জন্য কুশেশ করি।

কারণ, ইসলামী মৌলবাদ প্রতিরোধ মানে অনৈসলামী মৌলবাদ প্রতিষ্ঠা করা। ইসলামী মৌলবাদের বিরোধীতা করা মানে, অনৈসলামী মৌলবাদের সমর্থন করা, মৌলবাদের হাত থেকে রেহাই নেই। মৌলবাদ থাকবেই থাকবে। কাজেই মুসলিম দেশগুলোতে কোন্ ধরণের মৌলবাদ প্রযোজ্য হবে নিজ বিবেকই সিদ্ধান্ত নিবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে বুঝার তাওফীক দিন। আমীন॥

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.