Home ওপেনিয়ন শরীয়তের আলোকে মহামারি এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

শরীয়তের আলোকে মহামারি এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

- উম্মাহ গ্রাফিক্স।

।। শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক ।।

আল্লাহ তাআলা কর্তৃক দুনিয়ার বিভিন্ন নেজাম তথা ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলার মধ্যে অন্যতম একটি হল- পৃথিবীতে স্বাভাবিকভাবে বায়ূ বা বাতাস বিদ্যমান ও প্রবাহমান থাকা। এই বাতাস কখনো ঝড়ের আকার ধারণ করে, কখনো পৃথিবীতে স্বাভাবিক বৃষ্টি বয়ে আনে, আবার কখনো এই বাতাস মুষলধারে বৃষ্টি বয়ে এনে সব প্লাবিত করে দেয়।

ঠিক অনুরূপ পৃথিবীতে সবসময় রোগব্যাধির উপস্থিতি বা প্রকোপও থাকে। কখনো সাধারণ রোগব্যাধি দেখা যায়, কখনো রোগের প্রকোপ বাড়ে, আবার কখনো এই রোগ-ব্যাধি ভয়াবহ মহামারীর আকার ধারণ করে। বর্তমানে সর্দি-কাশি-জ্বর ও শ্বাসকষ্টের রোগও মহামারীর আকার ধারণ করেছে, যেটাকে কোভিড- ১৯ বলা হচ্ছে।

পূর্বেকার যুগে মহামারীর প্রকোপ এলাকাভিত্তিক দেখা যেতো। হতে পারে যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও সহজ না থাকার কারণে বিশ্বের কোন অংশে কি হচ্ছে না হচ্ছে সব তাৎক্ষণিক জানা যেতো না। অন্যদিকে বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতির ফলে এই সময়ে বিশ্বায়নের যুগ বলা হচ্ছে, তাই মহামারীও যুগের সাথে তালমিলিয়ে আন্তর্জাতিক রোগ হিসেবে মহাভীতি নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন-

আজকে আল্লাহর রহম ছাড়া পরিত্রাণের কোন উপায় নেই!

যুগে যুগে মহামারীর ইতিকথা

‘ইবাদুর রাহমান’ বা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বিশেষ ১২টি গুণ

কোভিড-১৯ মহামারী এবং ইসলামের শিক্ষা: ফরহাদ মজহার

‘আমাদেরকে যুদ্ধের চেয়ে অনেক বড় কর্মযজ্ঞে নামতে হবে’

যেভাবে ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প ইত্যাদি ত্বক্বভীনি প্লান ভিত্তিক হয়ে থাকে, মহামারীও সেভাবে প্লান ভিত্তিক হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, কোন দেশের সরকার স্বাভাবিক অবস্থায় জনগণকে সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকে। কিন্তু কোন মঙ্গা বা দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে সরকার ব্যাপক আকারে জনগণকে সাহায্য করে থাকে।

এই ব্যাপক সাহায্যের অর্থ এই নয় যে, একস্থান থেকে সাহায্য বিতরণ হচ্ছে, যে যত নিতে পারে নিয়ে যাবে। বরং এই ব্যাপক সাহায্য বিতরণের জন্যও একটি প্লান বা তালিকা তৈরি হয়। কোন গ্রামে কাকে কাকে সাহায্য দেওয়া হবে, কোন পরিবারে কতটুকু সাহায্য দেওয়া হবে- এমন প্লান-পরিকল্পনা মোতাবেকই সাহায্য বিতরণ করা হয়।

যে লোক এই সরকারী প্লান সম্পর্কে অবগত নয়, তখন সে এমনও বলতে পারে- অমুকের সাথে মেম্বারের সম্পর্ক আছে বলে সে সাহায্য পেয়েছে, অমুকের সম্পর্ক নাই বলে পায়নি। কিন্তু আসলে এখানে সম্পর্কের কিছু নয়, বরং কে কে সাহায্য পেতে পারে অর্থনৈতিক সক্ষমতার একটা সূচক নির্ধারণ করে তার উপর ভিত্তি করে লিস্ট তৈরি হয়েছে এবং এই লিস্ট অনুযায়ী সাহায্য বিতরণ হচ্ছে।

এভাবে মহামারীও অনুরূপ প্লান-পরিকল্পনার ভিত্তিতেই ছড়িয়ে পড়ে। কতদিন বিরাজমান থাকবে, কাকে কাকে আক্রান্ত করবে, তার মধ্যে কতজনের প্রাণ কেড়ে নিবে, কতজনকে ভীতি তৈরি করেই ছেড়ে যাবে, আর কারা কারা আক্রান্ত হবেন না; এই প্লান মহান সৃষ্টিকর্তারই তৈরি প্লান। চুল পরিমান তার মধ্যে হেরফের হওয়ার কোন অবকাশ নেই।

সুতরাং, পবিত্র কুরআন-হাদীসের ভাষ্যমতে মহামারি ব্যাধির অংশ আধুনিক যুগের করোনাভাইরাস বা কোভিড- ১৯ বিশ্বব্যাপী কুদরতের তৈরি করা প্লানের ভিত্তিতেই ছড়িয়ে পড়েছে। কোন দেশে কতজন আক্রান্ত হবেন, কতজন মারা যাবেন, কতজন আক্রান্ত হবেন না, আর কতদিন এই মহামারির প্রাদুর্ভাব থাকবে, তার সবই সেই কুদরতি প্লানের আওতায়ই পরিচালিত হচ্ছে।

সমগ্র বিশ্বের মানুষ এক হয়েও এই কুদরতি প্লানের তালিকা থেকে কারো নাম একটুও এদিক ওদিক করতে পারবে না। কারো নাম যেমন অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না, কারো নাম বাদও দেওয়া যাবে না। করোনা যে রোডম্যাপে চলছে, সেভাবেই বয়ে চলবে। যাকে আক্রান্ত করার করবেই, লকডাউন হোক কিংবা সুরক্ষিত দূর্গে ঢুকে পড়ুক। আর যার নাম কুদরতি প্লানের তালিকায় নেই, তিনি করোনায় আক্রান্ত লোকের সাথে সর্বদা থাকলেও আক্রান্ত হবেন না। এই হল যুক্তিযুক্ত কথা এবং এটাই ইসলামের আক্বিদা-বিশ্বাস।

যারা এই আসমানী প্লান সম্পর্কে অবগত নন বা আল্লাহর কাজ যে এক নির্দিষ্ট শৃঙ্খলা ও নিয়মের ভিত্তিতে চলে সেটা জানেন না, তারা বলে থাকেন যে, অমুক ব্যক্তি অমুক থেকে সংক্রমিত হয়ে অসুস্থ হয়েছে। আসলে এটা একেবারেই ভিত্তিহীন উক্তি ও ধারণা। মূলত: চলমান মহামারিতে আক্রান্ত ব্যক্তির নাম আসমানী ফায়সালায় লিস্টেড, এ কারণেই অসুস্থ হয়েছেন।

ইসলামী শরীয়ত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলায় বা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জীবন যাপনে কোন বিধিনিষেধ আরোপ করেনি; বরং অন্য সাধারণ মুসলমানদের কারো ঈমানে যাতে দুর্বলতা না আসে, নির্বোধদের কারণে সামাজিক শৃঙ্খলায় যাতে কোন ব্যাঘাত তৈরি না হয়, সে কারণে মহামারিতে নিজের এলাকা ত্যাগ, আক্রান্ত এলাকায় গমনাগমন বা সেখান থেকে পালিয়ে আসতে নিষেধ করেছে। তবে মহামারিতে কেউ অক্রান্ত বা কারো মৃত্যু হলে এটাকে অন্যের কাছ থেকে সংক্রমিত হয়ে নয়, বরং এটাকে তাক্বদীর বা আসমানী ফায়সালা হিসেবেই প্রতিটি মুসলমানকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে। [চলবে]

— আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, প্রখ্যাত আলেমে-দ্বীন, ভূগোল-বিশারদ, সহসভাপতি- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এবং শায়খুল হাদীস- জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা-ঢাকা।

উম্মাহ২৪ডটকম: আরএএম

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

করোনায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিচারকাজ করা যাবে