।। খতীবে বাঙ্গাল আল্লামা জুনায়েদ আল-হাবীব ।।
আশ্চর্যের বিষয় হলো। স্বামী-স্ত্রী, পরিবারের ছোট বড় সবাই একসাথে বসবাস করছেন। এমনকি স্বামী-স্ত্রী দুইজন অথবা অন্য অচেনা দুই/তিন জন একই সাথে সিএনজি অটোরিক্সা বা মোটরসাইকেল চলাফেরা করছেন। এই সমস্ত ক্ষুদ্র যানবাহন থেকে নেমে বাসে উঠেতে গেলে সেখানে তাদেরকে আলাদা আলাদা একেকজনকে একেক সিটে ডবল ভাড়া দিয়ে চড়তে করতে বাধ্য করেছে। এটা কত বড় হাস্যকর!
বাসের ভাড়া ৬০% বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা জনগণের উপর জুলুম ছাড়া কিছুই নয়। আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের অধিকাংশের পরিবার পরিজন সংক্রমণের ভয়ে তাদের কাছে আসে নাই। অনেক জায়গায় তো পরিবারের লোকজন ভয়ে লাশ ফেলে চলে গেছেন, এমন অনেক সচিত্র খবরও প্রায় প্রকাশিত হচ্ছে।
কিন্তু করোনা আগমনের প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত আলেম-উলামা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক সংস্থার লোকজন নির্দ্বিধায় ও নির্ভয়ে এই লাশগুলোর জানাযা ও কাফন দাফনের কাজ করে আসছেন। কিন্তু অদ্য পর্যন্ত তাদের কেউ আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা যায়নি। আলহামদুলিল্লাহ।
আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো, লকডাউন চলাকালীন। শহর-বন্দর সহ গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্ন রাস্তায় পুলিশ ও সরকার দলীয় কর্মীরা ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করেছে। অথচ সেখানেই মানুষ গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে অনায়াসে যাতায়াত করছে। তাহলে কি করোনা গাড়িতে চলাচল করে? সংক্রমণ গাড়িতে হয়? মানুষের শরীর থেকে হয় না?
আরও পড়তে পারেন-
যুগে যুগে মহামারীর ইতিকথা
করোনা মহামারি, দুষ্কর্ম ও দুর্নীতি
মহানবী (সা.)এর মহিয়সী সহধর্মীনীগণ
গুগলের ম্যাপসের যে ব্যবহার জানা থাকা চাই
অমুসলিমদের সাথে ইসলামের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নীতি
লোকসমাগম বেশি হলে সংক্রমণ হবে, তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং দেশের করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রয়ণ ইউনিট থেকে বিরতিহীনভাবে প্রচার করা হচ্ছে যে, লোকসমাগম এড়িয়ে চলুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন ইত্যাদি। যার প্রেক্ষিতে সরকার দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে, যাতে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষা জীবন নিয়ে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় আছে।
এমনকি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার গভীর আশংকার কথা বলে মসজিদের নামাজ-ইবাদত পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি, মসজিদের বাহিরে (যাওয়া-আসার সময়) উপচে পড়া ভিড় হচ্ছে। অথচ মসজিদে পাক-পবিত্র হয়ে আল্লাহর দরবারে ইবাদতে দাঁড়াতে হচ্ছে দূরত্ব বজায় রেখে। তাহলে কি মসজিদের ভিতরে ইবাদতের সময়ও করোনা ধরবে? বাহিরে ধরবে না?
ব্যাংক ও বিভিন্ন অফিসে কিছুটা স্বাস্থ্যবিধি মোতাবেক চললেও বাইরে লম্বা লাইন এবং মানুষের উপচে পড়া ভিড়, যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই নেই। তাহলে কি ব্যাংক ও অফিসের ভিতরে করোনা সংক্রমণ হয়, আর বাহিরে হয় না?
যেদিন থেকে করোনার উৎপত্তি হয়েছে সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত দেশের বাজারে-বন্দরে ও রাস্তা-ঘাটে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ব্যবসায়ী, দোকানদার ও হকাররা প্রত্যহ শত শত/হাজার হাজার মানুষের সাথে উল্লেখিত স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা করে যাচ্ছে। কিন্তু অদ্যপর্যন্ত আল্লাহর মেহেরবানীতে তাদের আক্রান্ত হওয়ার উল্লেখযোগ্য খবর আমরা দেখতে পাইনি।
এদিকে লক্ষ করলে দেখা যায়, যারা সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছেন এবং কঠোরভাবে হোম কোয়ারেন্টিনে থেকেছেন। সেই সমস্ত ব্যক্তিদের অনেকেই আক্রান্ত হয়েছে এবং অনেকের মৃত্যুও হয়েছে।
আমি সব সময় দোয়া করি, দয়াময় আল্লাহ পাক এই মহামারি থেকে সকলকে হেফাজত করুন, আক্রান্তদেরকে শেফা দান করুন এবং ইতিমধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদেরকে মাগফিরাত দান করে জান্নাতবাসী করুন। আমীন।
যদি লোকসমাগম আর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলেই করোনা আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচা যায়, তাহলে যারা পূর্ণ লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলছেন শুরু থেকে, তারা কী করে আক্রান্ত হচ্ছেন?
বস্তুত: ‘করোনা মহামারি’ আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি গজব। সুতরাং পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার সাথে সাথে সকল প্রকার পাপ ও মন্দকাজ এবং জুলুম-অত্যাচার পরিত্যাগ করে তাওবা-ইস্তিগফার করত: আল্লাহর হুকুম, রাসুল (সা.)এর তরীকা মেনে চলতে হবে এবং আল্লাহর সাহায্য কামনা করে কান্নাকাটি করা সর্বস্তরের মুসলমান নর-নারীর জন্যে অতিব জরুরী। একমাত্র নিজেদের আত্মসংশোধন, আত্মপোলব্ধি, তাওবা-ইস্তিগফা এবং হক্ব ও সৎপথে জীবন-যাপনের মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর দয়া, করুণা ও সাহায্য লাভের প্রত্যাশা করতে পারি। [চলবে]
– আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব, প্রিন্সিপাল- জামিয়া কাসিমিয়া আশরাফুল উলুম ঢাকা, যুগ্নমহাসচিব- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, সহ-সভাপতি- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
উম্মাহ২৪ডটকম:এমএমএ
উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com








