Home ফিকহ ও মাসায়েল ঈদুল আযহাঃ করনীয়, বর্জনীয় এবং আমাদের দায়িত্ব

ঈদুল আযহাঃ করনীয়, বর্জনীয় এবং আমাদের দায়িত্ব

।। মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী ।।

মুসলিম উম্মাহর জীবনে অন্যতম একটি ইবাদত ‘ঈদুল আযহা’। আত্মত্যাগ ও মানবতার বার্তা নিয়ে প্রতিবছর মুসলমানের সামনে হাজির হয় এ ইবাদাত । যিলহজের দশ তারিখ (১ আগস্ট) মহাসমারোহে পালিত হবে বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য ও সৌহার্দ্যপূর্ণ এই ইবাদত।

ঈদের দিন মুমিন মুসলমানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে। নিজেকে পরিপাটি ও সুন্দর করে সাজিয়ে নিয়ে এসব আমল পালন করতে হয়।

ঈদের দিনের বিশেষ আমল/ সুন্নাহ

১. অন্যদিনের তুলনায় সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া। [বায়হাকী, হাদীস নং-৬১২৬]

২. মিসওয়াক করা। [তাবয়ীনুল হাকায়েক-১/৫৩৮]

৩. গোসল করা। [ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৩১৫]

৪. শরীয়তসম্মত সাজসজ্জা করা। [বুখারী, হাদীস নং-৯৪৮]

৫. সামর্থ অনুপাতে উত্তম পোশাক পরিধান করা। [বুখারী, হাদীস নং-৯৪৮, মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং  -৭৫৬০]

৬. সুগন্ধি ব্যবহার করা। [মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং-৭৫৬০]

৭. ঈদুল আযহাতে কিছু না খেয়ে ঈদের নামাযের পর নিজের কুরবানীর গোশত আহার করা উত্তম। [বুখারী, হাদীস নং-৯৫৩, তিরমিজী, হাদীস নং-৫৪২, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৬০৩]

৮. সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া। [আবু দাউদ, হাদীস নং-১১৫৭]

৯. ঈদের নামায ঈদগাহে আদায় করা, বিনা অপরাগতায় মসজিদে আদায় না করা। [বুখারী, হাদীস নং-৯৫৬, আবু দাউদ, হাদীস নং-১১৫৮]

১০. যে রাস্তায় ঈদগাতে যাবে, সম্ভব হলে ফিরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরা। [বুখারী, হাদীস নং-৯৮৬]

১১. পায়ে হেটে যাওয়া। [আবু দাউদ, হাদীস নং-১১৪৩]১২. ঈদুল আযহায় যাবার সময় পথে এ তাকবীর আওয়াজ করে পড়তে থাকবে। [মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং-১১০৫]

اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

আরও পড়তে পারেন-

ওজন দরে গরু ক্রয় করে কুরবানী করা জায়েয হবে কি?

রাসূলুল্লাহ (সা.)এর দাম্পত্য জীবনে খাদিজা (রাযি.)এর ভূমিকা

কুরবানী এলেই তাদের পশুপ্রেম বেড়ে যায়!

ইসলামে কুরবানীর বিধান সুস্পষ্ট: এর বিকল্প অন্য কিছুতে হতে পারে না

কুরবানীর ঐতিহাসিক পটভূমি এবং দার্শনিক তাৎপর্য

ঈদে যা বর্জন করা উচিত

ঈদ হল মুসলমানদের শান-শওকত প্রদর্শন, তাদের আত্মার পরিশুদ্ধতা, তাদের ঐক্য সংহতি ও আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উৎসব। কিন্তু দুঃখজনক হল- বহু মুসলিম এ দিনটাকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে জানে না। তারা এ দিনে বিভিন্ন অনৈসলামীক কাজ-কর্মে মশগুল হয়ে পড়ে। এ ধরনের কাজ-কর্ম থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিৎ। নিম্নে এ ধরনের কিছু কাজের আলোচনা করা হল-

১. কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন ধরনের কাজ বা আচরণ করা। “[আবু দাউদ ৩৫১২]

২. পুরুষ কর্তৃক মহিলার বেশ ধারণ করা ও মহিলা কর্তৃক পুরুষের বেশ ধারণ করা ।” [সহীহ আল-জামে হাদীস নং ৪৫৮৪ ]

৩. বেগানা মহিলা পুরুষের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা।  [মুসলিম:৩৯৭১]

৪. গান-বাদ্য বাজানো।  [বুখারী পৃ: ২৯৪ অধ্যায়: ১৭]

ঈদুল আযহায় পরিচ্ছন্নতা ও আমাদের দায়িত্ব

ঈদুল আযহা বা কুরবানি ঈদে খাবার-দাবারের প্রাচুর্য যেমন থাকে, তেমনি কুরবানি পশুর বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনাও বাড়ে পাল্লা দিয়ে। এই ময়লা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আবার পচে দুর্গন্ধ ছড়ায় যা অনেক সময় নানা রোগ বালাইও নিয়ে আসে। আমরা অধিকাংশ মানুষই পশু কুরবানির জন্য তেমন কোনো সতর্কতা অবলম্বন করি না।

যেমন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিজের কুরবানিকৃত পশুর বর্জ্যও কোনো রকমে ফেলে চলে আসি। অথচ এজন্য প্রত্যেকের সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা জ্ঞান থাকার পাশাপাশি শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানেরও দায়িত্ব আছে।

আশেপাশের পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। পশুর হাটের বর্জ্য মাটি চাপা দিতে হবে। আর শহরে তো সিটি কর্পোরেশনের গাড়িই আছে। কুরবানি পশুর কোনো বর্জ্যই নর্দমা, নালা, ড্রেন এসব জায়গায় ফেলা যাবে না।

কুরবানির পর পশুর রক্ত, বর্জ্য এগুলো খোলা স্থানে ফেলে রাখা উচিত নয়। গর্ত করে সেখানে পুতে ফেলতে হবে। রক্ত ও নাড়িভুড়ি যেহেতু খুব অল্প সময়ে দুর্গন্ধ ছড়ায় তাই তা মাটি চাপা দিতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। আবার মাটি থেকে সরানো সম্ভব না হলে পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। অন্যথায় জীবাণু জন্মে তা থেকে নানা রোগ ছড়াবে।

এছাড়া কুরবানি পশুর চামড়ার ক্ষেত্রে তা খোলা জায়গায় পরিষ্কার করতে হবে। ময়লা দুর্গন্ধ ছড়াবে এমন জায়গায় এই কাজ না করাই ভালো। কুরবানি পশুর চামড়া নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে।

আল্লাহ আমাদের সকলকে আমাল করার তাওফিক দান করুন। আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

– মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী, ফারেগে দারুল উলূম দেওবন্দ এবং শিক্ষা সচিব- জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা-ঢাকা।

উম্মাহ২৪ডটকম:এমএমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।