Home ওপেনিয়ন কুরবানী এলেই তাদের পশুপ্রেম বেড়ে যায়!

কুরবানী এলেই তাদের পশুপ্রেম বেড়ে যায়!

।। রাকিবুল ইসলাম ।।

প্রাণঘাতি বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এ সময়ে ঘনিয়ে আসছে কুরবানী। চাঁদের হিসাব অনুযায়ী আগামী ৩১ জুলাই বা ১ আগষ্ট অনুষ্ঠিত হবে এ কুরবানী। এ বারের কুরবানীর রূপরেখা কেমন হবে এবং মহামারির এ সময়ে মানুষের কুরবানির ভাবনা কেমন হওয়া উচিত, এই নিয়ে নানা মতামত ও নানা আলোচনা বিভিন্ন পর্যায়ে শুরু হয়েছে দুয়েক সপ্তাহ আগে থেকে।

মুসলমানদের অন্যতম সর্ববৃহৎ ঈদ উৎসব ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ। আদি পিতা হযরত আদম (আ.)থেকে শুরু হওয়া এ কুরবানীর মূল দীক্ষাই হল সকল প্রকার ঠুনকো, খোঁড়া যুক্তি ও বুদ্ধির ঊর্ধ্বে উঠে আল্লাহর হুকুম আহকামের প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা। আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের নমুনাস্বরুপ হযরত ইব্রাহীম (আ.) নিজ প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আ.)কে আল্লাহর রাহে উৎসর্গ করতে গিয়ে ছিলেন। আল্লাহর হুকুমের প্রতি অতিশয় আনুগত্যের কারণে আল্লাহ তায়ালা তার কুরবানীকে কবুল করে নেন। এ ঘটনা আল্লাহর হুকুমের পূর্ণ আনুগত্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

হযরত ইব্রাহীম (আ.)এর অনুসরণে মুসলমানরা এ দিনে তাদের সামর্থ্য অনুয়ায়ী উট, দুম্বা, গরু, মহিষ, ছাগল জাতীয় প্রাণি কোরবানি করে থাকেন। এর মূল উদ্দেশ্য হল, পশু-উৎসর্গের মাধ্যমে তাঁরা তাদের তাবৎ কুপ্রবৃত্তিকে সংহার করে তাঁদের অন্তর্লীন ন্যায়পরায়ণতা ও স্রষ্টা-নিমগ্ন মানবিক শুদ্ধতাকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেবেন। অর্থাৎ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে একে কেবল ‘অনাবশ্যক পশুহত্যা’ মনে না করে অসত্যের নিধন ও সত্যের উদ্বোধন মনে করাই যথাযথ।

বাংলার বিদ্রোহী কবি তথা সারা বিশ্বের মানবিক অভেদ-সৌন্দর্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম এ-কারণেই বলেছেন- ‘ওরে, হত্যা নয় আজ সত্যাগ্রহ, শক্তির উদ্বোধন’। ফলত: শুদ্ধ চিত্তে যিনি কোরবানি দেন, তিনি শুধু অনাবশ্যক পশুহত্যা করেন না, বরং তিনি সত্যসন্ধানে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। আর এভাবেই তিনি তার আরাধ্য ও প্রার্থিত শুভশক্তির উদ্বোধন করেন।

কুরবানী মুসলমানদের জন্য আবশ্যক ইবাদত ও ইবাদতে মাকসূদা, যা শাআইরে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত। যা সম্পাদন -পদ্ধতি আল্লাহর পক্ষ হতে নির্দেশিত। কুরআন মাজীদের বিভিন্ন আয়াত এবং আল্লাহর রাসূল( সা.)এর বিভিন্ন সহীহ হাদীসে এর পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ও সম্পাদন-পদ্ধতি নির্দেশিত হয়েছে।

আমার কিছু ভাই, প্রগতিশীল মুক্তচিন্তার দাবীদার কুরবানী এলেই তাদের পশু প্রেম বেড়ে যায়! প্রাণির জন্য মায়াকান্না শুরু করে দেয়! নিরামিষ ভোজের শ্লোগান শুরু হয়ে যায়! ধর্মকে যুক্তি দিয়ে বুঝার মতোও পাগলের প্রলাপ শুরু করে দেয়! ঠুনকো ও খোঁড়া যুক্তির ঝুড়ি খুলে বসে! কিন্তু আমার এই নির্বোধ ভাইদের কে বুঝাবে- সব জাগায় যুক্তি দিয়ে মুক্তি মিলেনা!

কথা হচ্ছে, শুভ বা সত্য-শক্তির উদ্বোধনের জন্যে হয়তো আরও অনেক সহজ-সরল পথ আছে। তবে হযরত ইব্রাহিমের কাল থেকে তাঁর অনুসারীরা একেও একটি প্রধান পথ বলে মনে করেছেন। কিন্তু এই পথের অন্ধ অনুসরণ করে যারা ইব্রাহিমের চিত্তশক্তির শুদ্ধতা প্রতিষ্ঠা না করে নিজের অমিত বিত্ত, প্রতিপত্তি, সামাজিক প্রাধান্য, নির্বিচার রসনাতৃপ্তি কিংবা এ ধরনের অন্য কোনও জাগতিক প্রলোভনের বশবর্তী হয়ে কোরবানির নামে বাছবিচারহীন পশুহত্যা করে থাকেন, তারা কোনওমতেই ধর্মাচারী বা শুদ্ধাচারী মানুষ নন। ইসলামের পরিভাষায় তারা মোমিন মুসলমানও নন।

আরও পড়তে পারেন-

* ‘আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা পেতে হলে সঠিক আক্বিদা-বিশ্বাসে ফিরে আসা জরুরী’

* বিশ্বব্যাপী একই দিনে ঈদ উদযাপন চিন্তা মনগড়া ও শরয়ী সিদ্ধান্ত বিরোধী

* পবিত্র ঈদুল আযহা ও কুরবানীর ফাযায়েল ও মাসায়েল

* ইসলামের পথে আমার জীবনকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করছি: অভিনেত্রী এ্যানি খান

* মওলানা বরকতুল্লাহ আমাদের ইতিহাসের কে হন?

অতএব, তাদের এই হত্যা যেমন ইসলাম সমর্থন করে না, তেমনি তা মেনে নিতে পারে না জগতের কোনও নৈয়ায়িক মানব-মানবী। একইভাবে বলা যায়, যারা শুদ্ধচিত্তে কোরবানি করছেন, তাদের কটাক্ষ করার বিষয়টি অবশ্যই অনভিপ্রেত।

পাশাপাশি আরেকটি সহজ সত্যও অস্বীকার করার মতো নয়। আমরা বিস্মৃত হতে পারি না যে, কেবল রসনাপূর্তির নামে অথবা ব্যবসায়িকভাবে বা অন্য কোনও ওজরে প্রতিদিন বিশ্বে অগণিত পশুপাখি আইনি ও বেআইনি পথে নিধন হয়ে চলেছে। প্রতিদিন এভাবে কত নিরীহ পশুপাখি হত্যা হচ্ছে তার কোনও বিশ্বাসযোগ্য হিসেব আমাদের কাছে নেই। তবে একটি সাধারণ হিসাব করা যেতে পারে। কোরবানির তিনদিন বাদ দিলে (কেননা পরপর তিন দিন কোরবানি দেওয়া যায়) বাকি ৩৬২ দিনে সারা বিশ্বে খাবারের জন্য যে পরিমাণ পশুপাখি হত্যা করা হয়, তা নিশ্চিতভাবেই কোরবানি-কৃত পশুপাখির চেয়ে বহু গুণ বেশি হবে!

কে না জানে, ইসলামের নবী হযরত মুহম্মদ (স.) নিজে মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত না হওয়া পর্যন্ত অন্যকে মিষ্টি খাওয়া থেকে নিবৃত্ত থাকার পরামর্শ দেননি। তাই তাদেরও উচিত জীবহত্যা থেকে পুরোপুরি বিরত থেকে বিশ্বের সব সম্প্রদায়ের মানুষকে নিরামিষভোজী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া। তারপর সব প্রাণিহত্যার বিরোধিতা করা।

তবে প্রশ্ন ওঠে, গাছপালা-লতাগুল্মেরও তো প্রাণ আছে। তাহলে এ ক্ষেত্রে প্রাণির সংজ্ঞা থেকে তাদের সুবিধার্থে গাছপালা-লতাগুল্ম ইত্যাদি নৈসর্গিক দ্রব্যাদি বাদ রাখতে হবে। সে যা-ই হোক, এভাবে আমরা যদি সব প্রাণির জন্য এ গ্রহকে একটি অভয়ারণ্যে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেই, তাহলেই কেবল তারা শতভাগ বৈধ যুক্তির মাধ্যমে ত্যাগের নিদর্শন হিসেবে কোরবানি উপলক্ষে প্রাণিহত্যার বিরোধিতা করতে পারে। তেমন বিরোধিতা করা হলে বিশ্ব অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্ধনশীল প্রাণিকুল নিয়ে কী পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে, তা বিবেচনা করার বিষয়টিও এড়ানো যাবে না।

অবশ্য এর সঙ্গে সঙ্গে আসে মানবহত্যার বিষয়ও। শক্তিমান সমরাস্ত্রধারীর হাতে বিশ্বের অপেক্ষাকৃত দুর্বলতর মানুষ যুদ্ধে বা বিনা-যুদ্ধে, ন্যায়-যুদ্ধে বা অন্যায়-যুদ্ধে যে প্রতিদিন নিহত হচ্ছে, এটিও আমাদের অজানা নয়। এই হত্যা বন্ধ করা বা পৃথিবীকে ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক বা তার চেয়েও হিংস্ররতর বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য পৃথিবীর সব সনাতন ও সর্বাধুনিক সমরাস্ত্র ধ্বংস করা একটি বৈশ্বিক দাবি।

সমরাস্ত্রের মালিকরা যদি তাদের সব অস্ত্র কেবল মানবিক শুভবুদ্ধির স্বার্থে জলাঞ্জলি দেন, তাহলে সেটিই হবে মানবতার অস্তিত্বের খাতিরে শ্রেষ্ঠ কোরবানি। এখানে কোনও ধর্মের আচারের প্রয়োজন নেই, আছে বিশ্বমানবতার চিরকালীন দোহাই। এভাবে মানুষ তার ভেতরের সদা-শিঙ-উঁচানো পশুটিকে কোরবানি দিতে পারে। তাহলে আর উট-দুম্বা-ভেড়া-ছাগল-মহিষ-গর” কোরবানির প্রশ্ন উঠবে না। তবে যতক্ষণ তা করা সম্ভব না হবে, ততক্ষণ যে কোনও দোহাই দিয়ে কোরবানির পশুহত্যার বিরোধিতা করাও এক ধরনের ‘অনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’ বলে মনে হবে।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে শুধু আমার প্রিয় মাতৃভূমি নয় গোটা বিশ্ব সংকটপূর্ণ।
এই সংকটাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও মুসলমানদের কুরবানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত; যা শাআইরে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত তা নিষিদ্ধ করতে পারি না। বরং এর সমাধানের পথ বের করতে হবে। সমাধানের পথ না খোঁজে যদি মোহাম্মদপুরে জাপান গার্ডেন সিটির মতো নিষিদ্ধ করে দেয় তা হবে এজাতির সাথে ধৃষ্টতা পূর্ণ আচরণ। আমি বড়ই ব্যথিত হই, যখন দেখি একটা ইসলামি রাষ্ট্রে মুসলমানদের ইবাদতের বিষয়ে ভিন্ন ধর্মের মানুষ নাক গলায়! টকশোতে টেবিল গরম করে!এরা মুসলমানদের ইবাদতের নীতিনির্ধারক সেজে বসে! অসাম্প্রদায়িক একটা দেশে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দিতে চায়! আমার দেশের স্বাধীনতাকে এরা প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়!

সরকার ও তার সকল মন্ত্রণালয়, সোসাইটি, কোম্পানি, ইন্ডাস্ট্রি সহ সকল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হবে তাদের অধিনস্থদের সাস্থ্যসম্মতভাবে কুরবানির ব্যবস্থা করে দেওয়া।

করোনাকালেও কুরবানী যে এজাতি ও সমাজের জন্য রহমত তা ভেবে দেখতে হবে!

কুরবানি উপলক্ষ্যে পশুতে বিনিয়োগ এমন অনেক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা কোটি কোটি টাকা কুরবানি উপলক্ষ্যে পশুতে বিনিয়োগ করেছেন। তাদের বিষয়টিও ভেবে দেখতে হবে।কেননা কুরবানির একটি মৌসুমের ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে তারা বছরব্যাপী জীবিকা অর্জন করে থাকে।

সুতরাং কুরবানি হচ্ছে- ইবাদত, গরিব-দুঃখীর অধিকার, ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকায় বিনিয়োগ। তাই এসব বিবেচনায় কুরবানি বন্ধ নয়, কুরবানির পশুর হাটও বন্ধ নয় বরং যথাযথ স্বাস্থ্য নিরাপত্তার মাধ্যমে এটি অব্যাহত রাখাই জরুরি।

কুরবানী না করে দান করা, যদি কেউ কুরবানী না করে সে অর্থ দান করে দেয় তাতে পশু কুরবানির দায়িত্ব থেকে অব্যহতি পাওয়া যাবে কি না। আর তাতে আমাদের করণীয় কী?ইসলামি শরিয়া ও স্কলারদের মতে, এ বিষয়টিতে সুস্পষ্ট ও সরল উত্তর হলো- কুরবানি না করে এ টাকা দান করে দেয়া হলে কুরবানির আমল বা ইবাদত থেকে দায়মুক্তি হবে না। তাতে কুরবানির হক আদায় হবে না।

কুরবানীর অন্যতম শিক্ষা দরিদ্র ও অনাথের সুখ-দুঃখে ভাগীদার হওয়া। ঈদুল আযহার নামাজে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সহাবস্থানের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র-অনাথের মাঝে কুরবানীর গোশত বণ্টন আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, আমাদের সম্পদে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের অধিকার রয়েছে।

কুরবানী মুসলমানদের শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং পরিশুদ্ধ জীবন গঠনের নিয়মতান্ত্রিক অনুশীলনও বটে। এর মাধ্যমে মুসলমান তাওহীদী আদর্শে উজ্জীবীত হয়ে ইখলাস, তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমার্পণের অপূর্ব নজির স্থাপন করতে পারে।

কুরবানীর সঙ্গে প্রায় সব মুসলমানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। যারা কুরবানী দিতে পারেন তাদের যেমন সম্পৃক্ততা রয়েছে তেমনি যারা কুরবানী দিতে পারেনা এমন সব অভাবি মানুষের সম্পর্কও রয়েছে এ কুরবানির সঙ্গে। যারা সারা বছর গরু /খাশির গোস্ত কিনে খেতে পারেনা। কুরবানির সময় তারা চাহিদা মিটিয়ে গোস্ত খেতে পারে।আর এতে ধণী – গরিবের মিলন হয় বৈষম্য দূর হয়। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ও আন্তরিকতা তৈরি হয়।

এসকল বিষয় বিবেচনা না করা হলে মনে করা হবে তারা বিশেষ কোন মহলের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। করোনাভাইরাসের দোহাই দিয়ে, মুক্তচিন্তার অধিকারী ও প্রগতিশীলের ফেরিওয়ালা সেজে ইসলাম বিদ্বেষীর বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে।

তারা যার নাম দিয়েছে হত্যা। সবার অস্তিত্বের স্বার্থে একপ্রাণ অন্য প্রাণকে ধারণ করবে। এ ধারণের নাম হত্যা নয় সুসম্পর্ক ;এর নাম সত্যাগ্রহ; এর নাম বিশ্বব্যাপী ভারসাম্যময় মানবশক্তির শুভ উদ্বোধন।সেই সম্প্রীতিময় মানবসাম্যের জয় হোক।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে করোনাকালীন এ সময়ে যথাযথভাবে কুরবানি করে তার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের তাওফিক দান করুন। করোনাকালীন সময়ে যথাযথ নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সচেতনার প্রতি লক্ষ্য রাখার তাওফিক দান করুন। করোনার অজুহাত দিয়ে কুরবানি না করে দান খয়রাত করে কুরবানি হক আদায় হয়েগেছে মনে করা থেকেও বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

– রাকিবুল ইসলাম, শিক্ষার্থী- জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা, ঢাকা।

উম্মাহ২৪ডটকম:এমএমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।