জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র সহসভাপতি ও বর্ষীয়ান ইসলামী রাজনীতিবিদ মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেছেন, সংশোধন কমিশন জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। রাজনৈতিক নেতারা কিছু ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সংযুক্ত করে যে সংস্কার কপিতে স্বাক্ষর করেছিলেন, কমিশন রাষ্ট্রপতির কাছে তার ভিন্ন একটি কপি জমা দিয়েছে।
শনিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে মাওলানা ইউসুফী বলেন, “এটি জাতির সঙ্গে একটি ভয়াবহ প্রতারণা। এই চিটিংবাজির জন্য ড. আলী রিয়াজসহ কমিশনের সকল সদস্যকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে নৈতিকতা-বিরোধী কর্মকাণ্ড ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রপতিকে অবিলম্বে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে, যাতে জনগণ আশ্বস্ত হয়। জীবনের সায়াহ্নে এসে যারা এমন জালিয়াতিতে লিপ্ত হয়েছেন, তাদের অতীত কার্যকলাপ নিয়েও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত গঠন করে জাতির সামনে প্রকাশ করা উচিত। জনগণের ভোট ও ম্যান্ডেট নিতে হলে স্বাক্ষরিত মূল কপির ভিত্তিতেই তা হতে হবে—রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া পরিবর্তিত কপির নয়।”
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে মাওলানা ইউসুফী বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি। এনজিও কর্মকর্তা-নির্ভর এ সরকার অনভিজ্ঞ উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে দেশকে গভীর সঙ্কটে ফেলেছে। তাই ফেব্রুয়ারির অপেক্ষা না করে এরও আগে নির্বাচন দিয়ে তাদের বিদায় নেওয়া উচিত।”
পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেখানে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ আমলে স্বাক্ষরিত পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাতিল করে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ সেনানিবাস স্থাপন করা জরুরি। এজন্য একটি নির্বাচিত সরকারের প্রয়োজন। নির্বাচনে বিলম্ব দেশের জন্য অকল্যাণকর হবে।”
উম্মাহ২৪ডটকম: আইএএ







