নূরানী তালিমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশ-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসায় চলমান আরবী মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ কোর্স পরিদর্শন করেছেন বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ও দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ও মুফতি মুবাল্লিগে ইসলাম আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.)।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইতিকাফে বসার আগে আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের পরিদর্শক ও প্রশিক্ষক মাওলানা কামরুল ইসলাম।
আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীদেরকে মোবারকবাদ জানান।
এ সময় আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী নতুন মুয়াল্লিমদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিশু-কিশোরদের মাঝে বিশুদ্ধ কুরআন ও দ্বীনি শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার মহান উদ্দেশ্য নিয়েই আপনারা মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে এসেছেন। মহান আল্লাহর রহমতে প্রশিক্ষণ শেষ পর্যায়ে এবং অল্প কিছু দিনের মধ্যেই পরীক্ষা সম্পন্ন করে আপনারা যার যার নীড়ে ফিরে যাবেন। আপনাদের এই মহান উদ্দেশ্যের সফলতার জন্য বিশেষভাবে দোয়া করছি। আমি পূর্ণ আশাবাদি, আপনারা দীর্ঘ প্রশিক্ষণে যে শিক্ষা পেয়েছেন, তা ধারণ করে কুরআনী শিক্ষার বিস্তারে বৃহৎ খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাবেন। এতে ভবিষ্যত প্রজন্ম দ্বীনি শিক্ষা নিয়ে গড়ে ওঠার পাশাপাশি আদর্শ জাতি ও সমাজ বিনির্মাণের কাজে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা হবে, ইনশাআল্লাহ।
আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন শিশুদেরকে শিক্ষাদানের সময় প্রশিক্ষণকালীন অর্জিত শিক্ষা ও জ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগের প্রতি যত্নবান থাকার তাগিদ দেন। শিশু শিক্ষার্থীদেরকে মারধর বা রূঢ় শাসন পরিহার করে আদর-যত্নের সাথে শিক্ষাদানের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
তিনি মুয়াল্লিমদেরকে কর্মজীবনে সার্বক্ষণিক অধিক ইবাদত-বন্দেগী ও সুন্নাতের উপর আমল করার উপদেশ দিয়ে বলেন, এতে করে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন তরুণ আলেমদেরকে শিক্ষাদানের খেদমতের পাশাপাশি জনসেবামূলক কাজে যার যার সাধ্যমতো শরীক থাকার উপদেশ দেন এবং সাপ্তাহিক বৃহস্পতিবার ও প্রতিষ্ঠানের ছুটিকালীন সময়ে দাওয়াত ও তাবলীগে সময় লাগানোর জন্য আহ্বান জানান।
বক্তব্য শেষে আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন সকল মুয়াল্লিমদেরকে ৪ তরিকায়ে বায়াত গ্রহণ করান এবং প্রাথমিক কিছু আমল দেন। পরিশেষে অশ্রুসিক্ত দুয়ার মাধ্যমে বয়ান শেষ করেন।
নুরানী তা’লীমুল কুরআন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ১৫ শাবান থেকে ২৫ রমযান পর্যন্ত দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসায় ৪০ দিন ব্যাপী এই আরবী প্রশিক্ষণ কোর্সে প্রায় ছয় শতাধিক মুয়াল্লিম অংশগ্রহণ করেছেন। প্রশিক্ষণ পরিচালনায় আছেন নূরানী বোর্ডের প্রশিক্ষক ও পরিদর্শক মাওলানা কামরুল ইসলাম, মাওলানা কামাল উদ্দীন, মাওলানা ইমরান বিন জমিরউদ্দীন, মাওলানা মনজুরুল হক, মাওলানা শাহাদাৎ হোসেন, মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন ও মাওলানা ফয়জুল্লাহ সহ প্রায় ১০ জন প্রশিক্ষক।
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ








