Home শিক্ষা ও সাহিত্য নুরানীর মাধ্যমে সর্বত্র কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে: আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন

নুরানীর মাধ্যমে সর্বত্র কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে: আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন

নূরানী তালিমুল কুরআন বোর্ডের কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে প্রশিক্ষণরত মুয়াল্লিমদের উদ্দেশ্যে বয়ান করছেন আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন।

হাটহাজারী (১০ মার্চ): নুরানী পদ্ধতির মাধ্যমে দেশজুড়ে কুরআনের শিক্ষা আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়েছেন নুরানী তা’লীমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ও দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন। তিনি বলেছেন, স্বল্প সময়ে শিশুদের সহজ ও শুদ্ধভাবে কুরআন শিক্ষাদানের একটি সফল পদ্ধতি হলো নুরানী শিক্ষা। এই পদ্ধতির মাধ্যমে বর্তমানে সারা দেশে কুরআন শিক্ষার ব্যাপক খিদমত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) হাটহাজারী পৌরসভাস্থ নুরানী তা’লীমুল কুরআন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে প্রশিক্ষণরত মুয়াল্লিমদের উদ্দেশে নসিহতকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন বলেন, নুরানী তা’লীমুল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রাম বাংলাদেশ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত দেশের বৃহৎ বোর্ডগুলোর অন্যতম। মানসম্মত পাঠ্যক্রম ও স্বতন্ত্র সিলেবাসের কারণে বোর্ডটির সুনাম দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। উম্মুল মাদারিস দারুল উলূম হাটহাজারীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং শীর্ষস্থানীয় হক্কানী উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ায় এর কার্যক্রম সারাদেশে বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে এ বোর্ডের অধীনে প্রায় ৪৫ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি প্রশিক্ষণরত মুয়াল্লিমদের উদ্দেশে বলেন, মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের খেদমতে নিয়োজিত থাকা পরম সৌভাগ্যের বিষয়। শিক্ষকতাকে কেবল পেশা হিসেবে নয়, বরং কুরআনের খেদমত হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। কোমলমতি শিশুদের পিতৃস্নেহে পড়াতে হবে এবং তাদের পড়ালেখার উন্নয়নে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী অমনোযোগী হলে তাকে ধৈর্য ও স্নেহের সঙ্গে বোঝানোর পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীই আমানত। মুয়াল্লিমদের হাত ধরেই আগামী প্রজন্ম গড়ে উঠবে। নুরানী মাদরাসায় শিশুদের বিশুদ্ধভাবে কুরআনের শিক্ষায় শিক্ষিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আদর্শ ও উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে তোলা সহজ হবে।

আরও পড়তে পারেন-

প্রশিক্ষণ শেষে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে এখলাস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কুরআনের খেদমতে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে মুফতি জসিমুদ্দীন বলেন, বেতন কম-বেশির হিসাবের চেয়ে কুরআনের খেদমতকে প্রাধান্য দিতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে নুরানী পদ্ধতির মাধ্যমে সর্বত্র কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ।

এ সময় তিনি মুয়াল্লিমদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়, নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, হকের ওপর অবিচল থাকা, সুন্নাহর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং আমল-আখলাকের প্রতি যত্নবান হওয়ার নসিহত করেন। পাশাপাশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকারও পরামর্শ দেন।

নুরানী তা’লীমুল কুরআন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৩ রমজান পর্যন্ত বোর্ডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৫০ দিনব্যাপী আরবি প্রশিক্ষণ কোর্সে প্রায় ২৬৫ জন মুয়াল্লিম অংশ নিচ্ছেন। এ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন বোর্ডের সিনিয়র প্রশিক্ষক ও পরিদর্শক মাওলানা সলিম উল্লাহ খান, মাওলানা শহীদুল্লাহ (মাদার্শাহী), মাওলানা শহীদুল্লাহ (বাঁশখালী) ও মাওলানা রূহুল আমিন (টাঙ্গাইল) প্রমুখ।

এছাড়া গত ১ রমজান থেকে ২৫ রমজান পর্যন্ত বোর্ডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২৫ দিনব্যাপী বাংলা প্রশিক্ষণ কোর্সও চলমান রয়েছে। এতে ১২০ জন মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন মাস্টার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও মাস্টার আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।